সরকারি বাসে ফ্রি যাতায়াত চালু হওয়ায় খুশি মহিলারা।

ছোটন সেনগুপ্ত ও মিলন কর্মকার, নিজস্ব সংবাদদাতা : রাজ্যের মহিলাদের জন্য বড় উপহার। প্রতিশ্রুতি মতো ১ জুন থেকে সেই উপহার হাতে পেলেন বঙ্গের মহিলারা। সেই উপহার পেয়ে কতটা খুশি তাঁরা?
সরকারের ঘোষিত অনুযায়ী রাজ্যের পাশাপাশি পশ্চিম বর্ধমানে সরকারি বাসে মহিলাদের বিনামুল্যে যাতায়াত শুরু। সোমবার আসানসোল সিটি বাস স্ট্যান্ড থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সুচনা হয়। উপস্থিত ছিলেন পশ্চিম বর্ধমানের জেলাশাসক এস পোন্নাবলম, আসানসোল উত্তরের বিধায়ক কৃষ্ণেন্দু মুখার্জি, বারাবনির বিধায়ক অরিজিৎ রায়, দক্ষিণবঙ্গের পরিবহন সংস্থার আসানসোল ডিপো ইনচার্জ সন্দীপ কুমার ঘোষ সহ প্রমুখ। সরকারি বাসে ফ্রি যাতায়াত চালু হওয়ায় খুশি মহিলারা।

বাসে উঠলে তাঁদের ‘জ়িরো ব্যালান্স’-এর একটি টিকিট দেওয়া হয়। উত্তর থেকে দক্ষিণ, রাজ্যের সর্বত্রই এই সুবিধা মেলে। স্বল্প দূরত্বে যাতায়াতের জন্য তো বটেই, দূরপাল্লার বাসেও বিনামূল্যে টিকিটের সুবিধা পাচ্ছেন মহিলা যাত্রীরা। সে ক্ষেত্রে মোট ১২টি নথির যে কোনও একটি সংশ্লিষ্ট বাসের কন্ডাক্টরকে দেখাতে হচ্ছে। তার মধ্যে অন্যতম আধার কার্ড। এ ছাড়া, ভোটার কার্ড, সরকারের দেওয়া ১০০ দিনের কাজের কার্ড, আয়ুষ্মান ভারতের কার্ড, ড্রাইভিং লাইসেন্স, প্যান কার্ড, পাসপোর্ট, ছবি-সহ পেনশনের নথি, রাজ্য বা কেন্দ্রীয় সরকারের দেওয়া চাকরির পরিচয়পত্র, কোনও স্কুল, কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয়পত্র বা সরকারের দেওয়া যে কোনও অন্য পরিচয়পত্র দেখালেই বাসে বিনামূল্যে টিকিট কাটতে পান মহিলারা। সোমবার সকাল থেকে বিভিন্ন সরকারি বাসে সেই মর্মে লিফলেট লাগিয়ে দেওয়া হয়। কন্ডাক্টর এবং চালকদেরও এ ক্ষেত্রে আলাদা করে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। বাঁকুড়া ডিপো থেকে বিনা পয়সায় যাতায়াত করতে পেরে খুশি মহিলারা।

রাজ্য সরকারের এই উদ্যোগে উপকৃত হবেন লক্ষ লক্ষ মহিলা যাত্রী। নিত্যদিনের কর্মজীবী মহিলা থেকে শুরু করে পড়ুয়া, গৃহবধূ কিংবা প্রবীণ নাগরিক- সকলেরই যাতায়াতের খরচ অনেকটাই কমবে বলে মনে করা হচ্ছে। প্রথম দিনেই বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ড ও ডিপোতে দেখা গিয়েছে উৎসাহের ছবি। যাত্রীরা আশা প্রকাশ করেন, আগামী দিনেও এই পরিষেবা একইভাবে নির্বিঘ্নে চলবে।