ফৌজি থেকে কিং খান-এর সফর

জিও,খুশ রহো মুসকুরাও, ক্যায়া পাতা কাল হো না হো…

মৌসুমী সাহা, সাংবাদিক: ”আমি জানি না যে কোনো মানুষ আমায় কেনো এত ভালোবাসে ? আমি কি এমন করেছি? যখন মুম্বাই এসে ছিলাম তখন না ছিলো টাকা,না ছিলো বাবা মা ,না ছিলো থাকার জায়গা ।জীবনে এতো নেগেটিভিটি ছিলো যে মনে হলো এর থেকে খারাপ তো হতে পারে না ,বরং ভালোই হবে ”।যখন ভগবান আমায় এতো ভালোবাসা দিয়েছেন তখন মনে হয় আমি ভাগ্যবান। মুম্বাই এসেছিলেন মাত্র ১৫০০ টাকা নিয়ে যা তিনি ফৌজি সিরিয়াল থেকে অর্জন করেছিলেন আর আজ তিনি বলিউডের ‘বাদশা ‘,’কিং’।তিনি বলেন ,আজ যদি তার সমস্ত টাকা ,সম্পত্তি সব চলেও যায় তবুও এ জন্মে তিনি যে ভালোবাসা পেয়েছেন তার জন্য় তিনি খুশি।প্রথম যখন এই ফিল্মের দুনিয়ায় এলেন তার অভিনয়ের প্রতি ভালোবাসা ছিলো, খুব যে ভালো অভিনয় জানতেন এমন নয় ।চেহারার জন্য অনেক কথাও শুনেছেন নাক মোটা ,গায়ের রং কালো হিরো হিসেবে তিনি বেমানন ।তাকেই চ্যালেঞ্জ করে এগিয়ে চলেছেন তিনি কখনও হেরে যাননি।


হেমা মালিনী তার ফিল্ম ‘দিল আসনা হ্যাতে’ শাহরুখকে কাস্ট করতে চাইছিলেন না তখন পরিচালক কোনক্রমে মিথ্যে বলেন, সলমন এবং আমির ফিল্মের জন্য সময় দিতে পারছেন না ,তাই কোন উপায় নেই।শেষে হেমাজি রাজি হলেন এমনকি জুহি চাওলাকে কেউ বলেছিলেন নতুন একজন অভিনেতা আসছেন যাকে আমির খানের মতো নাকি দেখতে ।জুহি চাওলার সঙ্গে সাক্ষাতে অভিনেত্রীর একেবারেই মনে ধরেনি অভিনেতাকে ।কিন্তু একবার ভেবে দেখুন একের পর এক হিট ফিল্মে জুটি বেধেছেন শাহরুখ এবং জুহি। আজও সেকথা মনে করে হাসিতে ফেটে পরেন অভিনেত্রী এমনকি লজ্জিতও হন।”আমি দুর্ঘটনাক্রমে বোম্বে এসেছিলাম, আমি এক বছরের জন্য এসেছিলাম এবং আমি চলচ্চিত্রে আকৃষ্ট হয়েছিলাম। আমি একজন থিয়েটার অভিনেতা ছিলাম এবং আমি অন্য একটি মাধ্যমে আমার হাত চেষ্টা করতে চেয়েছিলাম। চলচ্চিত্র কেমন হবে, পুরো বিষয়টি আমার কাছে খুবই রহস্যময় ছিল। আমি এখানে এসেছি এবং এত বছর পরেও আমি এখানে আছি”।তার প্রাথমিক ক্যারিয়ারের কথা স্মরণ করে শাহরুখ খান বলেন , তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে অপ্রচলিত এবং অ্যান্টি-হিরো চরিত্রগুলির প্রতি আকৃষ্ট হয়েছিলেন। তিনি স্বীকার করেন যে এই খ্যাতির সাথে তার চ্যালেঞ্জও আসে। তিনি বলেন, “সাফল্য কোনও না কোনওভাবে ব্যর্থতার দিকেও নিয়ে যায়”।

শাহরুখের যাত্রা কেবল ব্যক্তিগত সাফল্যের বিষয় নয়, তার দর্শক এবং ইন্ডাস্ট্রির প্রতি গভীর শ্রদ্ধার কথাও জানান অভিনেতা। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে তিনি একজন তারকা তবে তিনি স্বীকার করেন যে তার মর্যাদা ভক্ত এবং সহকর্মীরা আছে বলেই সম্ভব। শাহরুখ খান যে মিথের জন্য কাজ করে,তিনি সেই মিথের একজন কর্মচারী, আমি এই মিথের মালিক নই।এই কারণেই বলে ভাবনা উন্নত না হলে জীবনে সাফল্য পাওয়া এবং সাফল্য ধরে রাখা সম্ভব নয়,যার জলজ্যান্ত নিদর্শন শাহরুখ।ভারতীয় চলচ্চিত্র জগত অনেক “তারকা”-এর উত্থান-পতন দেখেছে। কিন্তু, ১৯৮০-এর দশকের শেষের দিকে দিল্লির একজন অভিনেতা এসেছিলেন যিনি তার বৈচিত্র্যময় চলচ্চিত্র ভূমিকা, অসাধারণ আকর্ষণ এবং সুন্দর ডিম্পল দিয়ে লক্ষ লক্ষ মানুষের হৃদয় জয় করেছিলেন। এমন একজন যিনি তারকা হওয়ার পর থেকে কখনও তারকা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেননি, শুধু ভারতে নয়, সারা বিশ্বে। শাহরুখ খানের যে জিনিসটি তাকে তার সমসাময়িকদের থেকে আলাদা করেছিল তা হল তার চরিত্রের পছন্দ। তার চরিত্রগুলি ছিল বৈচিত্র্যময় এবং কোনও নির্দিষ্ট ধরণ অনুসরণ করেনি, যা তাকে দীর্ঘ সময়ের জন্য একটি স্টেরিওটাইপ হতে বাধা দিয়েছে।শাহরুখের মধ্যে অদ্ভুত এক জেদ ছিল। খিদে ছিল সফল হওয়ার। সফল হওয়ার জন্য যে কোনও পরিশ্রম করতে রাজি ছিলেন শাহরুখ। আর তাই তো আজও তিনি বলিউড বাদশা। শাহরুখ যে সাফল্য পাননি বরং বলা ভাল অর্জন করেছেন।


তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার , ১৫টি ফিল্মফেয়ার পুরস্কার , স্ক্রিন পুরস্কার , জি সিনে পুরস্কার এবং আইফা পুরস্কার সহ বেশ কয়েকটি পুরষ্কার পেয়েছেন । অভিনয় পুরস্কার ছাড়াও, তিনি বেশ কয়েকটি রাষ্ট্রীয় সম্মাননা পেয়েছেন, যার মধ্যে রয়েছে ২০০৫ সালে ভারত সরকার কর্তৃক পদ্মশ্রী , ২০০৭ সালে অর্ড্রে দেস আর্টস এট দেস লেট্রেস এবং ২০১৪ সালে লিজিয়ন অফ অনার । ‘বাজিগর’ ,’ডর’, ‘ডি ডি এল জে’,’দিল তো আশনা হ্যায়’,’মহাব্বতে’, ফিল্মফেয়ার পুরষ্কার পেয়েছেন ‘আঞ্জামে’ ১৯৯৫ তে সেরা ভিলেনের ,২০০৩ এবং ২০০৫ সালে ‘দেবদাস ‘এবং ‘জন্য সেরা অভিনেতার পুরস্কার,২০০৮এ জিতেছেন ‘চাক দে ইন্ডিয়া’ ফিল্মে।আইফাতে ২০০৯ সালে ‘বীরজারার’ জন্য় জিতেছিলেন পুরস্কার।২০০৯ সালে দশকের সেরা তারকা ‘দেবদাস ‘এবং ‘চাক দে ইন্ডিয়ার’ জন্য।২০১১ তে ‘মাই নেম ইজ খানে’ সেরা পুরুষ অভিনেতা হিসেবে পুরস্কার জেতেন ফিল্মফেয়ার ,আইফা সবেতেই।


শাহরুখ খান লক্ষ লক্ষ দর্শককে মুগ্ধ করেছেন, তা সে হাসি দিয়ে হোক বা কান্না দিয়ে। তার অভিনয় সর্বজনস্বীকৃত, এবং আমরা আবার প্রেক্ষাগৃহে তার সিনেমা দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতে পারছি না।জন্মদিনে ‘কিং’ এর টিজার রিলিজ পেয়েছে ।যে ফিল্মটিকে ঘিরে উন্মাদনা তুঙ্গে কারণ এই ফিল্মে বাবা মে অভিনয় করবেন ২০২৬ মুক্তি পাবে ফিল্মটি। ‘কিং’-এর প্রথম ঝলকেই মন কাড়ল সকলের। যেখানে দেখা গেল এক অন্ধকার জগতের, নির্মম ও হিংসাত্মক চরিত্রে শাহরুখকে। সিলভার চুল, রক্তাক্ত মুখ, আর চোখে মুখে হিংসা—পুরো আবহই ইঙ্গিত দিচ্ছে এ এক থ্রিলার অ্যাকশন ইউনিভার্সের ছবি। হাতে ‘King of Hearts’ কার্ড ঘুরিয়ে ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে তাক লাগালেন শাহরুখ বলেন— “কতগুলো খুন করেছি জানি না… হাজার অপরাধ, ১০০ দেশে বদনাম…” শাহরুখকে এ লুকে আগে কখনও দেখা যায়নি। তবে ছবির টিজার বুঝিয়ে দিয়েছে— এই ছবি তাঁর কেরিয়ারে আরও এক মাইলস্টোন হতে চলেছে।