রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে একের পর এক চুরির অভিযোগ। কোথাও বাড়ি ফাঁকা থাকার সুযোগে লক্ষাধিক টাকার গয়না উধাও। কোথাও জানলার রড কেটে বাড়িতে ঢুকে লুটপাট। গৃহস্থের বাড়ি থেকে সোনার দোকান, দুষ্কৃতীদের নিশানায় কি এখন গোটা রাজ্য? সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী কতটা নিরাপদ? এইসব প্রশ্নের মধ্যেই এবার বড়সড় চুরির কিনারা করল পু্লিশ।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক
১৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার দুর্গাপুরের বেনাচিতিতে এক গৃহস্থের বাড়িতে চলে তান্ডব। প্রায় ৭০ থেকে ৮০ লক্ষ টাকার গয়না নিয়ে চম্পট দেয় দুষ্কৃতীরা। কলকাতার ট্যাংরা থেকে দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে দুর্গাপুর থানার পুলিশ। ধৃতদের নাম মহম্মদ আমির ও মহম্মদ করিম। বৃহস্পতিবার ধৃত দু’জনকে দুর্গাপুর আদালতে পেশ করা হয়। তদন্তের স্বার্থে তাদের পুলিশি হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানায় পুলিশ। এই চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না,চুরি যাওয়া গয়না কোথায় গেল,আর কীভাবে বাড়ির ভিতরে ঢুকে এত বড়সড় চুরি করা হল। সবটাই এখন খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

বেনাচিতির এই ঘটনা কোনও বিচ্ছিন্ন ছবি নয়। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পরপর চুরির অভিযোগ সামনে আসছে। সম্প্রতি হাওড়ার বালিতে ১৩ নম্বর পদ্মবাবু রোডের একটি বাড়িতে জানলার রড কেটে চুরির ঘটনা ঘটে। বালি থানার পুলিশ বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে তদন্ত শুরু করেছে। এছাড়া গত কয়েক মাসে হাওড়ার শরৎ দত্ত লেন এলাকায় এক রাতেই দুটি আবাসন ও একটি কারখানায় চুরির অভিযোগ উঠেছে। নগদ টাকা থেকে লক্ষাধিক টাকার গয়না। দুষ্কৃতীদের নিশানায় ছিল মূল্যবান সামগ্রী। ডোমজুড় থেকেও সামনে এসেছে একাধিক চুরির অভিযোগ। অন্যদিকে হুগলির কামারপুকুর চটি এলাকায় পরপর সাতটি দোকানে চুরির ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে ব্যবসায়ীদের মধ্যে। গোঘাটের মদিনা বাসস্ট্যান্ড এলাকা এবং উত্তরপাড়াতেও একই অভিযোগ।
গত কয়েক বছরে রাজ্যের একাধিক সোনার দোকানেও বড়সড় ডাকাতি ও চুরির ঘটনা সামনে এসেছে। অনেক ক্ষেত্রেই নিরাপত্তার ঘাটতি, রক্ষীর অনুপস্থিতি কিংবা দোকান বন্ধ থাকার সুযোগকে কাজে লাগানোর অভিযোগ উঠেছে। কখনও আগ্নয়াস্ত্র দেখিয়ে চলেছে লুটপাট। তদন্তে একাধিক ঘটনায় ভিনরাজ্য, বিশেষ করে বিহার-যোগের কথাও সামনে এসেছে। রাজ্য পুলিশ বিভিন্ন ঘটনায় ভিনরাজ্য থেকে অভিযুক্তদের গ্রেফতারও করেছে। আর এবার পুজোর মুখে যখন শহর থেকে শহরতলি, সব জায়গাতেই বাড়ছে মানুষের যাতায়াত, বাজারে বাড়ছে ভিড়, ব্যবসায়ীরা ব্যস্ত পুজোর কেনাকাটায়। তখন এই ধারাবাহিক চুরির ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই বাড়ছে উদ্বেগ। বেনাচিতিতে চুরির ঘটনায় দুই অভিযুক্তের গ্রেফতারি নিঃসন্দেহে পুলিশের বড় সাফল্য।