মমতার বিশ্বস্ত সহকারী থেকে মুখ্য়মন্ত্রী শুভেন্দু!

শপথ নেওয়ার পর শুভেন্দু অধিকারীর বার্তা, “সোনার বাংলার সূচনা হল।”

মাম্পি রায়, সাংবাদিক : বাংলার রাজনীতিতে ঐতিহাসিক পালাবদলের আনুষ্ঠানিক সূচনা হল শনিবার। পশ্চিমবঙ্গের নবম মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিলেন শুভেন্দু অধিকারী। স্বাধীনতার পর এই প্রথম কোনও বিজেপি নেতা বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর পদে বসলেন। কলকাতায় ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে রাজ্যপাল আর এন রবি তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করান। উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi), কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah), একাধিক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব।

শপথ নেওয়ার পর শুভেন্দুর বার্তা, “সোনার বাংলার সূচনা হল।” বিজেপির বিপুল জয়ের পরে রাজ্যে নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথির করকুলি গ্রামের রাজনৈতিক পরিবারে জন্ম শুভেন্দুর। ১৯৭০ সালের ১৫ ডিসেম্বর জন্ম তাঁর। বাবা শিশির অধিকারী ছিলেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী এবং কাঁথির সাংসদ। স্বাধীনতা আন্দোলনের সঙ্গেও যুক্ত ছিল অধিকারী পরিবারের ইতিহাস। সেই রাজনৈতিক আবহেই বড় হয়ে ওঠা শুভেন্দুর।

নব্বইয়ের দশকে কংগ্রেসের মাধ্যমে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন তিনি। ১৯৯৫ সালে কাঁথি পুরসভার কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। পরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূল কংগ্রেস গঠন করলে সেই দলে যোগ দেন শুভেন্দু। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই গ্রামীণ বাংলায় তৃণমূলের অন্যতম সংগঠক হিসাবে উঠে আসেন তিনি।

২০০৭ সালের নন্দীগ্রাম আন্দোলনই শুভেন্দুর রাজনৈতিক জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। ভূমি উচ্ছেদ প্রতিরোধ কমিটির নেতৃত্বে থেকে তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকারের জমি অধিগ্রহণ নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলনের মুখ হয়ে ওঠেন তিনি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সেই আন্দোলনই বাংলায় বাম জমানার পতনের অন্যতম ভিত্তি তৈরি করেছিল।

পরবর্তী সময়ে তৃণমূল সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী হিসাবেও দায়িত্ব সামলান শুভেন্দু। পরিবহণ এবং সেচ দফতরের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। দীর্ঘদিন হলদিয়া উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান পদেও কাজ করেন। তবে ২০২০ সালে তৃণমূল নেতৃত্বের সঙ্গে দূরত্ব বাড়তে শুরু করে তাঁর। বিশেষ করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে মতবিরোধ প্রকাশ্যে আসে। শেষ পর্যন্ত ডিসেম্বর মাসে অমিত শাহের উপস্থিতিতে বিজেপিতে যোগ দেন শুভেন্দু।

২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করে রাজনীতিতেও বড় চর্চার কেন্দ্রে উঠে আসেন শুভেন্দু। পরে বিরোধী দলনেতার দায়িত্ব পান। এ বার নন্দীগ্রাম এবং ভবানীপুর— দু’টি কেন্দ্র থেকেই জয়ী হয়েছেন শুভেন্দু। ২৯৪ আসনের বিধানসভায় ২০৭টি আসন জিতে রাজ্যে প্রথম বার ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। শেষ হয়েছে তৃণমূলের ১৫ বছরের শাসন।