উত্তর থেকে দক্ষিণ, আশাকর্মীদের বিক্ষোভে উত্তাল রাজ্য

আশাকর্মীদের বিক্ষোভে ধুন্ধুমার। স্বাস্থ্যভবনের সামনে পুলিশের ধরপাকড়। টেনে হিঁচড়ে বিক্ষোভকারীদের তোলা হল গাড়িতে।

নিজস্ব সংবাদদাতা : আশাকর্মীদের স্বাস্থ্যভবন অভিযানকে কেন্দ্র করে ধুন্ধুমার কাণ্ড। মঙ্গলবারের পর বুধবারও রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আশাকর্মীরা কলকাতায় এসে স্বাস্থ্যভবন যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন।  ১৫ হাজার টাকা ন্যূনতম বেতন, সরকারি স্বাস্থ্যকর্মীর স্বীকৃতি, কর্তব্যরত অবস্থায় মারা গেলে পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা করে দেওয়া এবং বকেয়া সব ভাতা মিটিয়ে দিতে হবে বলে দাবি করা হয়।  বেশ কয়েক দফা দাবিতে রাজ্যজুড়ে কর্মবিরতি আশা  কর্মীদের। টানা ৩০ দিন ধরে রাজ্যজুড়ে কর্মবিরতি পালন করছেন তাঁরা। নিজেদের দাবিদাওয়া নিয়ে গত ২৩ ডিসেম্বর থেকে আন্দোলন ও কর্মবিরতি চালিয়ে আসছেন তাঁরা। বুধবার স্বাস্থ্যসচিবের সঙ্গে কথা বলার কথা ছিল । কিন্তু মঙ্গলবার রাত থেকেই ধরপাকড় শুরু হয় বলে অভিযোগ। বুধবার সকালেও স্বাস্থ্যভবনের সামনে পুলিশের ধরপাকড়ের ছবিটা ধরা পড়ে। টেনে হিঁচড়ে তোলা হয় গাড়িতে। কয়েকজন আশাকর্মী অসুস্থ হয়ে পড়েন।

আশা কর্মীদের স্বাস্থ্য ভবন অভিযান রুখতে পুলিশের তৎপরতা ছিল তুঙ্গে। সে রেল হোক বা সড়ক। দুই পথেই পুলিশি তৎপরতা ছিল দেখার মতো। জেলায় জেলায় উঠে আসছে আশা কর্মীদের আটকানোর ছবিটাও। আসানসোল, বাঁকুড়া, মালদাতেও একই ছবি উঠে আসে।

স্বাস্থ্যভবন যাওয়ার পথে আসানসোলের বারাবনিতে আশা কর্মীদের বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে পুলিশের বিরুদ্ধে। আশাকর্মীদের আটক করে নিয়ে যাওয়া হয় বারাবনি থানায়।

এ দিন কলকাতায় যাওয়ার জন্য খাতড়ার সিমলাপাল রোড এলাকায় জড়ো হয়েছিলেন আশাকর্মীরা। কিন্তু তাঁদের অভিযোগ, বাস মালিকদের প্রভাবিত করা হয়েছে। তাই তাঁরা কলকাতায় যাওয়ার জন্য কোনও বাস পাচ্ছেন না। তাঁরা খাতড়ার পাম্প মোড়ে অবরোধ শুরু করেন। এর ফলে খাতড়া-বাঁকুড়া ও খাতড়া-সিমলাপাল রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এ ছাড়াও বড়জোড়া ব্লকের বেলিয়াতোড়ে বাঁকুড়া-দুর্গাপুর রাজ্য সড়ক অবরোধ করেন বিক্ষোভকারী আশাকর্মীরা। ঘটনাস্থলে পৌঁছয়  পুলিশ।  পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করা হয়। ব্যাহত হয় যান চলাচল। ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়তে হয় যাত্রীদের। আসানসোলের পর একই ছবি উঠে এল বাঁকুড়াতেও।

 আন্দোলনে যোগ দেওয়ার উদ্যেশ্যে কলকাতাগামী আশা কর্মীদের বাধা দেয় পুলিশ। বুধবার সকালে বাঁকুড়া স্টেশনে  ট্রেন ধরতে আশা কর্মীদের  স্টেশনে ঢুকতে বাধা দেয় পুলিশ। রীতিমতো রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় বাঁকুড়া স্টেশন চত্বর। সকাল থেকেই মোতায়েন ছিল বিপুল সংখ্যক মহিলা পুলিশ। আশাকর্মীরা বাঁকুড়া স্টেশনে পৌঁছতেই মহিলা পুলিশ তাঁদেরকে আটক করে।

যদিও এই বিক্ষোভের নেপথ্য়ে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র রয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের কথায়, “এই আন্দোলনের নেপথ্যে রাজনৈতিক দল তো অবশ্যই আছে।” পাল্টা বিরোধীদের দাবি, সবসময় রাজনৈতিক তকমা লাগিয়ে দিতে হবে?