তৃণমূল প্রার্থীর নাম ঘোষণা হতেই সীমান্ত থেকে সুন্দরবনের দেওয়াল লিখন শুরু।

শ্যাম বিশ্বাস, নিজস্ব সংবাদদাতা : বিগত লোকসভা নির্বাচনে বসিরহাট কেন্দ্রে বিপুল জয় পেলেও সন্দেশখালি বিধানসভায় অল্প ব্যবধানে হার শাসক দলকে ভাবিয়েছিল। প্রায় সাড়ে সাত হাজার ভোটে সেই পরাজয় যেন এক বালতি দুধে এক ফোঁটা চোনার মতোই অস্বস্তি তৈরি করেছিল দলের অন্দরমহলে। তাই এবারের নির্বাচনে শুরু থেকেই সতর্ক তৃণমূল কংগ্রেস। প্রার্থী তালিকায় একাধিক চমক এনে কৌশলগত বার্তা দিতে চেয়েছে দল।
সন্দেশখালিতে প্রার্থী বদল ঘিরে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। সুকুমার মাহাতোকে সরিয়ে উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের সদস্য ঝর্না সর্দারকে প্রার্থী করা হয়েছে। ২০২৪ সালে মহিলাদের আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠা এই অঞ্চলকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েই এই সিদ্ধান্ত বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। ঝর্না সর্দার আগে সন্দেশখালি ২ পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য হিসেবে কাজ করেছেন। পাশাপাশি জেলা পরিষদের সদস্য হিসেবেও অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। ফলে স্থানীয় সমীকরণ মাথায় রেখেই এই ‘নতুন মুখে’ ভরসা শাসক দলের।

অন্যদিকে স্বরূপনগর বিধানসভায় ফের প্রার্থী করা হয়েছে তিন বারের বিধায়ক তথা উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের সহ-সভাধিপতি বীণা মণ্ডলকে। মিনাখাঁতেও পুরনো মুখের উপরই আস্থা রেখেছে দল। তিনবারের বিধায়ক ঊষারানী মণ্ডলকেই আবার টিকিট দেওয়া হয়েছে। বাদুড়িয়ায় বড় চমক হিসেবে সামনে এসেছে বুরহানুল মুকাদ্দিম লিটনের নাম। বসিরহাট সাংগঠনিক জেলার সভাপতি হওয়ার পাশাপাশি তিনি জেলা পরিষদের শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষও। দীর্ঘদিনের বিধায়ক কাজী আব্দুর রহিম দিলুকে এবার সরিয়ে এই নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে দল। বসিরহাট দক্ষিণেও দেখা গেছে বড় পরিবর্তন। চিকিৎসক ডাঃ সপ্তর্ষি বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিবর্তে সংগঠনের পুরনো মুখ সুরজিৎ মিত্র (বাদল)-কে প্রার্থী করা হয়েছে। ১৯৯৮ সাল থেকে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সঙ্গে যুক্ত সুরজিৎ বসিরহাট কলেজের ছাত্র রাজনীতি থেকে উঠে এসে এখন বসিরহাট জেলার গুরুত্বপূর্ণ সংগঠনিক দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। হিঙ্গলগঞ্জে তৃণমূলের হাসনাবাদ ১ ব্লক সভাপতি আনন্দ সরকারকে প্রার্থী করা হয়েছে। দল গঠনের শুরু থেকেই তার সক্রিয় ভূমিকা থাকায় সংগঠনের প্রতি তার গ্রহণযোগ্যতাকেই গুরুত্ব দিয়েছে নেতৃত্ব। বসিরহাট উত্তরে প্রার্থী করা হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের জাতীয় মুখপাত্র মোহাম্মদ তৌসিফ আহমেদকে। আর হাড়োয়ায় সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে প্রার্থী করা হয়েছে অল ইন্ডিয়া সুন্নাতুল জামাতের কর্ণধার আব্দুল মাতিনকে।

সবমিলিয়ে প্রার্থী তালিকায় দুই নতুন মুখ ও ছয় নতুন মুখের মিশেলে স্পষ্ট হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের নতুন রণকৌশল। বিশেষ করে সন্দেশখালির অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়েই এবার শুরু থেকেই বাড়তি সতর্কতা নিচ্ছে শাসক শিবির। এমনটাই মনে করছে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ। প্রার্থীদের নাম ঘোষণা হতেই সীমান্ত থেকে সুন্দরবনে শুরু হয়েছে দেওয়াল লিখন এর কাজ।। সমস্ত প্রার্থীরাই জেতার ব্যাপারে ১০০ ভাগ আশাবাদী।