“তৃণমূল চোর নয়, বরং বিজেপিই সব লুট করেছে।”

মাম্পি রায়, সাংবাদিক : বীরভূমের নানুরে নির্বাচনী জনসভা থেকে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বুধবার একাধিক ইস্যুতে কেন্দ্রের শাসক দল বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ করলেন। তাঁর অভিযোগ, ভোটের আগে সাধারণ মানুষের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টকে হাতিয়ার করে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে চাইছে বিজেপি। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, “বিহারে ভোটের আগে চুপিসারে অ্যাকাউন্টে টাকা ঢোকানো হয়েছিল। এখানেও গরিব মানুষের কাছে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট চাওয়া হচ্ছে। সাবধান—কোনও তথ্য দেবেন না, যা আছে সেটাও নিয়ে নিতে পারে।”
একই সঙ্গে অনুপ্রবেশ ইস্যুতেও কেন্দ্রকে নিশানা করেন তৃণমূল নেত্রী। তাঁর দাবি, বাংলা ভাষায় কথা বললেই কাউকে ‘অনুপ্রবেশকারী’ বলা হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। এই প্রসঙ্গে সরাসরি নরেন্দ্র মোদী এবং অমিত শাহর নাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, “যদি কোথাও অনুপ্রবেশ হয়ে থাকে, তার দায় কেন্দ্রেরই। আমরা এ নিয়ে আগেই চিঠি দিয়েছি।”
নানুরের সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘বোলপুর, শান্তিনিকেতন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মাটি। সেখানে অমর্ত্য সেনের জমিও রয়েছে। সেই জমিও কেড়ে নেওয়া হচ্ছিল। জানতে পেরে আমি ছুটে এসেছিলাম।’’
তৃণমূলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ নিয়েও সরব হন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, “তৃণমূলকে চোর বলা হচ্ছে, অথচ বিজেপির অনেক নেতার বিরুদ্ধেই তদন্তের দাবি উঠেছে। তৃণমূল চোর নয়, বরং বিজেপিই সব লুট করেছে।” পাশাপাশি ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, সবচেয়ে বেশি মহিলাদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে—বিশেষ করে বিয়ের পর পদবি পরিবর্তনের কারণে বহু মহিলার নাম তালিকা থেকে কেটে দেওয়া হয়েছে।
১০০ দিনের কাজের প্রকল্পের নাম পরিবর্তন নিয়েও কেন্দ্রকে তীব্র নিশানা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, কেন্দ্র শুধু প্রকল্পের টাকা আটকে রাখেনি, মহাত্মা গান্ধীর নামও সরিয়ে দিয়েছে। এর প্রতিবাদে রাজ্যে ‘মহাত্মাশ্রী’ প্রকল্প চালু করার কথাও জানান তিনি। তাঁর দাবি, “ওরা বর্জন করেছে, আমরা গ্রহণ করেছি।”
এদিন গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি নিয়েও বিজেপিকে কটাক্ষ করেন তৃণমূল নেত্রী। তাঁর আশঙ্কা, ভোটের পর পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। “গ্যাসের দাম বাড়ছেই। ভোটের পরে হয়তো গ্যাসই পাওয়া যাবে না,” বলে ক্ষোভ উগরে দেন মুখ্যমন্ত্রী। একই সঙ্গে রাজ্যে বিনামূল্যের রেশন প্রকল্পের প্রসঙ্গ নিয়েও বিজেপির আক্রমণ শানান তিনি।
সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক নির্দেশ নিয়েও সন্তোষ প্রকাশ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, ভুয়ো উপায়ে ভোটার তালিকায় নাম তোলার চেষ্টা রুখে দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি তিনি জানান, এখনও পর্যন্ত প্রায় ২২ লক্ষ নাম তালিকায় তোলা সম্ভব হয়েছে, বাকি যাঁরা রয়েছেন তাঁদের আবেদন করার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি মামলার খরচ বহনের আশ্বাসও দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
যুবসাথী ও লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্প নিয়েও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন নেত্রী। তাঁর কথায়, “যুবসাথী কোনও ভিক্ষা নয়, এটি পকেট খরচ। যাঁরা এখনও পাননি, তাঁদেরও দেওয়া হবে।”
এদিনের সভায় অনুপস্থিত ছিলেন বীরভূমের তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডল। নানুরের পাশাপাশি অন্যান্য একাধিক কেন্দ্রের প্রার্থীদের সমর্থনেও প্রচারসভা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নানুর, বড়ঞা ও জঙ্গিপুরের সভাতেও একাধিক ইস্যুতে কেন্দ্রকে নিশানা করেন মুখ্যমন্ত্রী।