নবম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে জরুরি অবস্থা, এনসিইআরটির সিদ্ধান্তকে স্বাগত ধর্মেন্দ্র প্রধানের।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : নবম শ্রেণির সমাজবিজ্ঞান পাঠ্যবইয়ে প্রথম বার ১৯৭৫ সালের জরুরি অবস্থার প্রসঙ্গ অন্তর্ভুক্ত করেছে জাতীয় শিক্ষানুসন্ধান ও প্রশিক্ষণ পরিষদ (এনসিইআরটি)। সেই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান বৃহস্পতিবার বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জানা উচিত জরুরি অবস্থার ‘অন্ধকার অধ্যায়’-এর কথা, যাতে ভবিষ্যতে আর কখনও তেমন পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ধর্মেন্দ্র বলেন, ‘‘এনসিইআরটি সঠিক কাজ করেছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জরুরি অবস্থার সময়কার অন্ধকার কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জানা এবং বোঝা প্রয়োজন। যাতে এ ধরনের পরিস্থিতি আর কখনও না ফিরে আসে, সেই কারণেই বিষয়টি সামনে আনা হয়েছে। এনসিইআরটি ভাল কাজ করেছে।’’
এনসিইআরটির নতুন সমাজবিজ্ঞান বই ‘আন্ডারস্ট্যান্ডিং সোসাইটি: ইন্ডিয়া অ্যান্ড বিয়ন্ড’-এ ভারতীয় গণতন্ত্রের শক্তি এবং চ্যালেঞ্জ নিয়ে একটি অধ্যায়ে জরুরি অবস্থার প্রসঙ্গ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এনসিইআরটি সূত্রে দাবি, নবম শ্রেণির পাঠ্যক্রমে এই প্রথম জরুরি অবস্থা নিয়ে পৃথক অংশ সংযোজন করা হল।
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি দেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণার ৫০ বছর পূর্ণ হয়েছে। ১৯৭৫ সালের ২৫ জুন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর নেতৃত্বাধীন সরকার দেশে জরুরি অবস্থা জারি করেছিল। সেই সময় দেশের রাজনৈতিক এবং সামাজিক পরিস্থিতিকে পাঠ্যবইয়ে বিশদে তুলে ধরা হয়েছে।
বইয়ে উল্লেখ করা হয়েছে, সত্তরের দশকের গোড়ায় ইন্দিরা গান্ধীর সরকারের বিরুদ্ধে জনঅসন্তোষ ক্রমশ বাড়ছিল। বেকারত্ব, মূল্যবৃদ্ধি এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতার অভিযোগকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে বিক্ষোভ শুরু হয়। সেই প্রেক্ষাপটে ১৯৭৫ সালের জুন মাসে ‘অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা’র কারণ দেখিয়ে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়।
পাঠ্যবইয়ে আরও বলা হয়েছে, জরুরি অবস্থার সময় অধিকাংশ মৌলিক অধিকার স্থগিত রাখা হয়েছিল। সংবাদমাধ্যমের উপর সেন্সরশিপ জারি করা হয় এবং বহু রাজনৈতিক নেতা ও কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলির উপরও সেই সময়ে প্রবল চাপ তৈরি হয়েছিল এবং নাগরিক স্বাধীনতা উল্লেখযোগ্য ভাবে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছিল।
জরুরি অবস্থার বিরুদ্ধে আন্দোলনে সমাজবাদী নেতা জয়প্রকাশ নারায়ণের ভূমিকাও পাঠ্যবইয়ে বিশেষ ভাবে তুলে ধরা হয়েছে। ‘লোকনায়ক’ নামে পরিচিত জয়প্রকাশের নেতৃত্বে ছাত্র-যুব এবং সাধারণ মানুষ, বিশেষত বিহার ও গুজরাতে, বৃহৎ আন্দোলনে শামিল হয়েছিলেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়াও, গণতন্ত্রের সামনে থাকা অন্যান্য চ্যালেঞ্জ হিসেবে ভুয়ো খবর, বিভ্রান্তিকর তথ্য, দারিদ্র্য, আঞ্চলিকতাবাদ, সামাজিক বৈষম্য, লিঙ্গবৈষম্য এবং সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করার মতো বিষয়গুলিও বইটিতে স্থান পেয়েছে।