
নাজিয়া রহমান, নিজস্ব সংবাদদাতা: দুই ভারতীয় জ্যোতির্বিজ্ঞানীর বিস্ময়কর আবিষ্কার। যা ভারতকে আরও একবার গর্বিত করল। রাশি জৈন এবং যোগেশ ওয়াদাদেকর দুই ভারতীয় গবেষকের চমকপ্রদ আবিষ্কার ভারতের মুকুটে যোগ করল আরও এক পালক। মহাবিশ্বের সৃষ্টিশীলতা ও গঠনের ধ্রুপদী ধারণায় চমক লাগানো বদল নিয়ে এলেন রেডিও অ্যাস্ট্রোফিজিক্সের এই দুই ভারতীয় গবেষক। কি এমন আবিষ্কার করলেন এই দুই ভারতীয় বিজ্ঞানী যা গর্বিত করেছে সারা ভারতবাসীকে। জানতে হলে পিরো ভিডিওটা দেখুন।
রাশি ও যোগেশ এই দুই ভারতীয় গবেষকের গবেষণায় ধরা পড়েছে নতুন এক ছায়াপথের। আমেরিকার মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা-র জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপের সাহায্যে, টেলিস্কোপের অবিশ্বাস্য দৃরদৃষ্টিকে কাজে লাগিয়ে রাশি ও যোগেশ এই দুই ভারতীয় গবেষক আবিষ্কার করেছেন সৌরজগতের এক নতুন, কল্পনাতীত অতিকায় ‘সর্পিল ছায়াপক্ষ’।

রাশি জৈন এবং যোগেশ ওয়াদাদেকর এই দুই গবেষক দীর্ঘদিন ধরে মহাকাশ গবেষণায় লিপ্ত।এঁরা দু’জনেই মহাবিশ্ব নিয়ে গবেষণা করছেন পুনের ‘টাটা ইনস্টিটিউট অফ ফান্ডামেন্টাল রিসার্চ’-এর অন্তর্ভুক্ত ‘সেন্টার ফর রেডিও ফিজিক্স’-এ। মহাকাশে ছায়াপথের রহস্য উদ্ঘাটনেই চলছে তাদের গবেষণা। আর সেই গবেষণায় উঠে এল মহাকাশের নতুন এক রহস্য।নাসা-র জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপের সাহায্যে সৌরজগতের নতুন এক ছায়াপথের রহস্যভেদ করলেন তাঁরা। এই ছায়াপথ আমাদের আকাশগঙ্গার মতোই। পৃথিবী থেকে যার দূরত্ব প্রায় ১২০০ কোটি আলোকবর্ষ। জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপে এই প্রথম দেখা দিয়েছে ১২০০ কোটি বছরের পুরনো আলোর রশ্মি বলে অনুমান বিজ্ঞানীদের । অর্থাৎ এটি মহাবিশ্বের মাত্র ১.৫ বিলিয়ন বছর বয়সে তৈরি হয়েছিল। এই বয়সে গঠিত ছায়াপথগুলি সাধারণত ছোট, অস্থির এবং বিশৃঙ্খল হয়, তবে এই ছায়াপথটির একটি সুন্দর গঠন এবং দুটি স্বতন্ত্র সর্পিল বাহু রয়েছে, যা আকাশগঙ্গার মতোই ।ভারতীয় এই দুই গবেষক রাশি আর যোগেশ এই ছায়াপথের নাম দিয়েছেন ‘অলকানন্দা’। তার কারণ, আমরা যে-ছায়াপথের বাসিন্দা, তার নাম ‘আকাশগঙ্গা’। তাঁরা ছায়াপথের নাম কেন রেখেছেন অলকানন্দা, তারও ভারি গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা করেছেন এই দুই ভারতীয় গবেষক। তাঁরা জানিয়েছেন- ‘হিমালয় থেকে নেমে এসেছে দুই যমজ নদী– মন্দাকিনী আর অলকানন্দা। মন্দাকিনী তো স্বর্গের গঙ্গা, বা আকাশগঙ্গা। কিন্তু আমাদের আকাশগঙ্গার সঙ্গে অনেক মিল এই নব আবিষ্কৃত ছায়াপথের। প্রায় যমজ মনে হয়। তাই নাম দেওয়া হয়েছে অলকানন্দা।’
গবেষক রাশি জৈন ব্যাখ্যা করেছেন যে এটির নামকরণ করা হয়েছে অলকানন্দা নদীর নামে, যা মন্দাকিনী (মিল্কিওয়ে) এর একটি সহযোগী নদী। অধ্যাপক যোগেশ ওয়াদাদেকর বলেছেন যে এই ছায়াপথটি আমাদের মিল্কিওয়ের মতো, তবে মহাবিশ্বের বয়সের মাত্র ১০% সময় ধরে বিদ্যমান ছিল। এই অলকানন্দা ছায়াপথটিকে থেকে পৃথিবীতে আলো পৌঁছাতে সময় লাগে ১২০০ কোটি বছর।

বিজ্ঞানীদের বক্তব্য মহাবিশ্বের বয়স যখন মাত্র ১.৫ বিলিয়ন বছর ছিল, তখন এই অলকানন্দা ছায়াপথটি তৈরি হয়েছিল। এই ছায়াপথের সর্পিল আকার অবাক করেছে বৈজ্ঞানিকমহলকে। মাত্র ১৫০ কোটি বছরের মধ্যে অলকানন্দা ঠান্ডা হয়ে তার জটিল সর্পিল বিস্তারে পৌঁছল কী করে? প্রশ্ন বিজ্ঞানীমহলের। এত কম সময়ের মধ্যে কোনও ছায়াপথের এমন অবিশ্বাস্য ব্যাপ্তি এবং রূপ দেখে বিস্মিত বিজ্ঞানীরা। গবেষকদের বক্তব্য, “তাদের দেখা মহাবিশ্বে অলকানন্দা-ই একমাত্র ‘কসমিক পাওয়ারহাউস’। তার কারণ, এই প্রথম তারা দেখলেন এমন এক ছায়াপথ।