গঙ্গাসাগর মেলা: দায়িত্ব নিয়েই ময়দানে জেলাশাসক

‘ভাঙন-প্রবণ এলাকা পরিদর্শনে সদ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত দক্ষিণ ২৪ পরগনার নতুন জেলাশাসক অরবিন্দ কুমার মিনা।

বিশ্বজিৎ নস্কর, নিজস্ব সংবাদদাতা : ​আসন্ন গঙ্গাসাগর মেলার প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে আজ গঙ্গাসাগরে এলেন সদ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলাশাসক অরবিন্দকুমার মিনা। দায়িত্বভার গ্রহণের পরেই নতুন প্রশাসনিক প্রধানের এই তাৎপর্যপূর্ণ সফর সাগরমেলার প্রস্তুতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করল।

​নামখানা পয়েন্টে অবতরণের পর জলপথে বেনুবন হয়ে গঙ্গাসাগরে পৌঁছন জেলাশাসক। প্রথমেই তিনি মেলার মূল তট এলাকা ও সংলগ্ন গুরুত্বপূর্ণ ভাঙন-প্রবণ অঞ্চলগুলি ঘুরে দেখেন। গত কয়েক বছরে যেসব স্থানে ভাঙন পরিস্থিতি গুরুতর হয়েছে। নদী ভাঙনের জেরে বাড়িঘর, স্কুল সহ বিভিন্ন কাঠামো ইতিমধ্যে নদীর ভয়াল গ্রাসে চলে গিয়েছে। ভাঙনে বিপর্যস্ত নদীপারের অসংখ্য মানুষ। শনিবার  সেই সমস্ত স্থান সরেজমিনে পরিদর্শন করে পরিকাঠামো সুরক্ষার উপর জোর দেন তিনি। এর পাশাপাশি মেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টও খতিয়ে দেখা হয়। কপিল মুনির আশ্রমেও পুজো দেন তিনি।

​জেলাশাসকের এই পরিদর্শনে তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন এসপি কোটেশ্বর রাও দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের সহ-সভাধিপতি শ্রীমন্ত কুমার মালি, সাগরের বিডিও কানাইয়া কুমার রায় এবং মেলার পরিকাঠামোর সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন দফতরের আধিকারিকেরা। পরিদর্শনের পরে জেলাশাসক একটি প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দেন। সেই বৈঠকে সুন্দরবন উন্নয়ন মন্ত্রী বঙ্কিম চন্দ্র হাজরাও উপস্থিত ছিলেন।

প্রত্যেকবারই গঙ্গাসাগর মেলা উপলক্ষে অসংখ্য ভক্ত সমাগম হয়। এবারেও তার অন্যথা হবে না। তাই মেলায় যাতে কোনওরকম বিশৃঙ্খলা না ঘটে। মেলার প্রস্তুতি ঠিকঠাক হচ্ছে কিনা, তা খতিয়ে দেখেন জেলাশাসক অরবিন্দ কুমার মিনা। ​আলোচনা করেন মেলা সংক্রান্ত নিরাপত্তা, যোগাযোগ ব্যবস্থা, যাতায়াত ব্যবস্থা, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্য পরিষেবা সহ জরুরি বিষয়গুলি নিয়ে। প্রতি বছর লক্ষাধিক তীর্থযাত্রীর সমাগম হয় গঙ্গাসাগরে। তাই জরুরি পরিষেবা যেন দ্রুত তীর্থযাত্রীদের কাছে পৌঁছোয় এবং ভাঙনের প্রভাব মেলা এলাকায় না পড়ে, সেদিকেও বিশেষ নজর দেওয়ার নির্দেশ দেন জেলাশাসক। আগামী ৮ জানুয়ারি থেকে শুরু হতে চলেছে ঐতিহ্যবাহী গঙ্গাসাগর মেলা। সময় থাকতে সব পরিকাঠামো প্রস্তুত রাখতে হবে, সংশ্লিষ্ট দফতরগুলিকে নির্দেশ দিয়েছেন অরবিন্দ কুমার মিনা। তাঁর দায়িত্ব গ্রহণের পরই গঙ্গাসাগরের প্রস্তুতিতে এই তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ প্রশাসনিক স্তরে আশার আলো জাগিয়েছে।