বুকিং প্রক্রিয়াকে আরও সহজ করতে নতুন পদক্ষেপ করা হয়েছে। বিশেষ করে Indian Oil দুটি নতুন নম্বর চালু করেছে।

সূচনা পল্যে, সাংবাদিক : আপনি গ্যাস বুক করতে বসেছেন, কিন্তু বারবার চেষ্টা করেও বুকিং সম্পন্ন হচ্ছে না—এই পরিস্থিতির মুখে এখন অনেক গ্রাহকই পড়ছেন। কোথাও লাইন, কোথাও দেরি হচ্ছে ডেলিভারিতে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, কীভাবে বুকিং করবেন গ্যাস এবং আদৌ সময়মতো সিলিন্ডার পাবেন তো? এই জট কাটাতেই এল নতুন ব্যবস্থা। কী সেই ব্যবস্থা জানতে হলে দেখতে হবে পুরো ভিডিওটি।
রান্নার গ্যাস নিয়ে সমস্যার জট যেন কাটছেই না। একদিকে সরবরাহের ঘাটতি, অন্যদিকে চাহিদার চাপ- সব মিলিয়ে এখনও অস্বস্তিতে সাধারণ মানুষ থেকে ব্যবসায়ী, সকলেই। বিশেষ করে বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি বলেই স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলছে বিভিন্ন মহল থেকে। তবে মঙ্গলবার থেকে কিছুটা স্বস্তির ছবি দেখা গিয়েছে, কারণ ভারত গ্যাস এবং হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম প্রয়োজন অনুযায়ী সীমিত পরিসরে সিলিন্ডার সরবরাহ শুরু করেছে। যদিও এই উদ্যোগ পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা, তবুও অভিযোগ রয়ে গেছে- চাহিদার তুলনায় জোগান এখনও অনেকটাই কম।
বর্তমানে বাণিজ্যিক সিলিন্ডার বণ্টনের ক্ষেত্রে একটি অগ্রাধিকার ভিত্তিক ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। সূত্রের খবর, মিড-ডে মিল প্রকল্প, স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল এবং হোটেল-রেস্তরাঁ—এই গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবাগুলিকে মাথায় রেখে ডিলাররা একটি তালিকা তৈরি করে তেল সংস্থাগুলির কাছে পাঠিয়েছেন। সেই তালিকা অনুযায়ী প্রয়োজনের ভিত্তিতে সিলিন্ডার সরবরাহ করা হচ্ছে। অর্থাৎ যেসব পরিষেবা সরাসরি মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে যুক্ত এবং যেখানে গ্যাসের ব্যবহার অত্যাবশ্যক, সেখানেই আগে জোগান পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে বাস্তব চিত্র বলছে, এই ব্যবস্থাতেও ঘাটতি পুরোপুরি কাটেনি, এবং অনেক ক্ষেত্রেই প্রয়োজনীয় সংখ্যক সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না।
এর ফলে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন ছোট ব্যবসায়ীরা এবং হোটেল-রেস্তরাঁ শিল্পের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা। কারণ তাদের দৈনন্দিন কাজকর্ম সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করে বাণিজ্যিক গ্যাস সিলিন্ডারের উপর। পর্যাপ্ত জোগান না থাকায় অনেক ক্ষেত্রে কাজ ব্যাহত হচ্ছে, এমনকি ব্যবসার ক্ষতির আশঙ্কাও তৈরি হচ্ছে। ফলে এই সমস্যা শুধু একটি সরবরাহগত সমস্যা নয়, বরং অর্থনৈতিক প্রভাবও ফেলতে শুরু করেছে।
অন্যদিকে, গৃহস্থালির রান্নার গ্যাসের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে অনেকটাই স্থিতিশীল বলে দাবি করছে কেন্দ্র। ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন-সহ তিনটি তেল সংস্থা জানিয়েছে, গ্যাস বুকিংয়ের পরিস্থিতি আগের তুলনায় অনেকটাই উন্নত হয়েছে। বুকিং প্রক্রিয়াকে আরও সহজ করতে নতুন পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে Indian Oil দুটি নতুন নম্বর চালু করেছে—
8391990070 নম্বরে ফোন করে
বা 8927225667 নম্বরে মিসড কল দিয়ে
এখন সহজেই গ্যাস বুক করা যাবে
এই উদ্যোগের লক্ষ্য হল গ্রাহকদের কাছে বুকিং প্রক্রিয়াকে আরও সহজলভ্য করে তোলা এবং অপ্রয়োজনীয় চাপ কমানো। তবে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরা হয়েছে, তা হল আতঙ্কের বশবর্তী হয়ে অতিরিক্ত গ্যাস বুকিং। পেট্রোলিয়াম সচিব সুজাতা শর্মা জানিয়েছেন, অনেক জায়গায় এখনও মানুষ প্রয়োজনের তুলনায় বেশি গ্যাস বুক করছেন, যা সরবরাহ ব্যবস্থার উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে। তাঁর মতে, এই প্রবণতা না থাকলে পরিস্থিতি আরও দ্রুত স্বাভাবিক হতে পারত। তাই গ্রাহকদের উদ্দেশ্যে আবেদন জানানো হয়েছে, প্রয়োজন অনুযায়ী গ্যাস বুক করতে এবং অযথা আতঙ্কিত না হতে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে মোট গ্যাস বুকিংয়ের প্রায় ১৪ শতাংশ অনলাইনের মাধ্যমে করা হচ্ছে, যা ডিজিটাল ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়। এছাড়া প্রায় ৭৬ শতাংশ গ্রাহক ‘ডেলিভারি অথেনটিকেশন কোড’ ব্যবহার করছেন, যা গ্যাস ডেলিভারির ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে। কেন্দ্রীয় সরকার চাইছে এই সংখ্যা আরও বাড়ুক, যাতে গোটা প্রক্রিয়াটি আরও সুশৃঙ্খল এবং নির্ভরযোগ্য হয়ে ওঠে।
এর পাশাপাশি গ্রাহকদের জন্য ই-কেওয়াইসি বা ইলেকট্রনিক ‘Know Your Customer’ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। যদিও তেল মন্ত্রকের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে যে, সব গ্রাহকের জন্য ই-কেওয়াইসি বাধ্যতামূলক নয়, তবুও এটি সম্পন্ন করা থাকলে ভবিষ্যতে বিভিন্ন পরিষেবা পেতে সুবিধা হবে। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী উজ্জ্বলা যোজনা-র আওতায় থাকা গ্রাহকদের ক্ষেত্রে প্রতি বছর অন্তত একটি সিলিন্ডারের ভর্তুকি পেতে ই-কেওয়াইসি করা বাধ্যতামূলক। অন্যদিকে সাধারণ গ্রাহকদের ক্ষেত্রে যদি টানা ৯ মাস সিলিন্ডার না নেওয়া হয়, তাহলে তাদেরও এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
এই সমস্ত পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য হল গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ, কার্যকর এবং প্রযুক্তিনির্ভর করে তোলা। তবে বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, সরবরাহ ও চাহিদার মধ্যে যে ফারাক তৈরি হয়েছে, তা এখনও পুরোপুরি মেটেনি। বিশেষ করে বাণিজ্যিক সেক্টরে এই সমস্যা আরও প্রকট, যা দ্রুত সমাধান না হলে দীর্ঘমেয়াদে বড় অর্থনৈতিক প্রভাব ফেলতে পারে।
সব মিলিয়ে বর্তমান পরিস্থিতি একটি দ্বৈত চিত্র তুলে ধরছে- একদিকে গৃহস্থালির গ্যাস সরবরাহ অনেকটাই স্বাভাবিক, অন্যদিকে বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের ঘাটতি এখনও বড় উদ্বেগের কারণ। এখন নজর থাকবে, তেল সংস্থাগুলি এবং কেন্দ্রীয় সরকার কীভাবে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান বের করে এবং কবে নাগাদ পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়। কারণ রান্নার গ্যাস শুধুমাত্র একটি পণ্য নয়, এটি প্রতিদিনের জীবনের অপরিহার্য অংশ, যার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা এবং অর্থনীতির একটি বড় অংশ।