“৩ মেয়েই কোরিয়ার সংস্কৃতির প্রতি আসক্ত হয়ে পড়েছিল যে তারা প্রায়শই বলতো যে আমাদের কোরিয়ায় নিয়ে চলো।”

মাম্পি রায়, সাংবাদিক: “কোরিয়ার স্কুলে যাবো, ভারতীয় স্কুলে নয়”, গাজিয়াবাদ আত্মহত্যাকাণ্ডের আগে নাকি এমনই জানিয়েছিল ৩ কিশোরী। দাবি করছেন মৃত ৩ ছাত্রীর বাবা। গাজিয়াবাদের ইন্দিরাপুরমের ১০তলা বিল্ডিং থেকে ঝাঁপ দিয়েছিল ৩ বোন। ঘটনায় ইতিমধ্যে প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন তাদের বাবা চেতন গুর্জর। তিনি জানান, “কোরিয়ান সংস্কৃতির প্রতি অত্যধিক আকর্ষণের ফলেই এই পরিণতি। গত ৩ মাস ধরে মেয়েদের বোঝানোর চেষ্টা করছিলাম। কিন্তু ওরা আসক্ত হয়ে পড়েছিল। ঘরে কোরিয়ার সংস্কৃতি নিয়ে বেশ কয়েকদিন ধরে অশান্তি চলছিল।”
“কোরিয়ায় যাওয়ার জেদ ধরত মেয়েরা”
মৃত ৩ মেয়ের বাবা চেতন গুর্জর জানাচ্ছেন, “৩ মেয়েই কোরিয়ার সংস্কৃতির প্রতি আসক্ত হয়ে পড়েছিল যে তারা প্রায়শই বলতো যে আমাদের কোরিয়ায় নিয়ে চলো। তারা সম্পূর্ণভাবে কোরিয়ান সিনেমা, গান এবং জীবনশৈলির প্রতি আকৃষ্ট ছিল। আকর্ষণ এমন পর্যায়ে চলে গিয়েছিল, যে তাদের থেকে মোবাইল ছিনিয়ে নিতেই তারা খাওয়া দাওয়া ছেড়ে দেয়। একটা ভার্চুয়াল দুনিয়ায় নিজেদের আবদ্ধ করে ফেলেছিল তারা।”
মৃত্যুর রাত!
চেতন জানাচ্ছেন, “যে রাতে ৩ মেয়ে আত্নহত্যার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ওই রাতেই ১২টা পর্যন্ত মোবাইল দেখেছে। কে-ওয়ার্ল্ডের বাইরে আসতে রাজি ছিল না তারা। ঋণের বোঝার কারণেই মেয়েরা প্রাণ দিয়েছে, এই দাবিকে খারিজ করে চেতন জানান, আমার ঋণের সঙ্গে মেয়েদের ঋণের কোনও সম্পর্ক নেই। তাদের মৃত্যুর কারণ স্রেফ কোরিয়ান সংস্কৃতি। যা ওদের মাথা পুরোপুরি ঘুরিয়ে দিয়েছিল।”
”কোরিয়ান কালচার ব্যান করুন”
আমার তিন মেয়েকে হারিয়ে এখন সরকারের কাছে এই আর্জি জানাচ্ছি যে,” কোরিয়ার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত কন্টেন্ট দ্রুত নিষিদ্ধ করুন। আজকে আমার তিন মেয়ে চলে গেল, আগামীতে যাতে এই পরিণতি আর কারোর না হয়। এই আসক্তি উইপোকার মতো শিশুদের মাথাকে কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে।”