SIR নিয়ে কড়া বার্তা রাজ্যপালের

মানুষকে ভুল বোঝানো এবং কোনরকম ভাবে হিংসা বরদাস্ত করা উচিত নয় : রাজ‍্যপাল 

শ্যাম বিশ্বাস,  নিজস্ব সংবাদদাতা :  “মানুষকে ভুল বোঝানো ও ভুল বুঝিয়ে ঝামেলা তৈরি করাটা কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।” সোমবার সন্ধ্যায়  উত্তর ২৪ পরগনার স্বরূপনগর থানার বিথারী হাকিমপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা পরিদর্শন করেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। ফলে সংলগ্ন সীমান্ত এলাকাগুলি এদিন সকাল থেকেই কড়া নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হয়।

সেখানে গিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। সেখানেই তিনি বলেন, “এসআইআর একটি কেন্দ্রীয় প্রক্রিয়া। কোনোভাবেই এসআইআর -এর কাজ বন্ধ করা যাবে না। এসআইআর নিয়ে মানুষকে ভুল বোঝানো অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। “

তিনি আরও বলেন, “ কোনো ধরনের অনুপ্রবেশকারীকে বরদাস্ত করা হবে না। ভারতীয়রা ভারতে থাকবেই। অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের কোন ধরনের জায়গা নেই ভারতে। যেকোনো ধরনের অবৈধ আধার কার্ড বা ডকুমেন্ট এবং যেকোনো ধরনের অবৈধ ভোটার কার্ড বা ডকুমেন্ট তৈরি করা একেবারেই বেআইনি। এর বিরুদ্ধে যথেষ্ট পরিষমাণে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। রাজ্যপাল হিসেবে এটা আমাদের কর্তব্য। মানুষের সাথে থাকা আমার কর্তব্য । রাজ্যের রাজ্যপাল নিজের কর্তব্য পালন করতে বাধ্য।“ তিনি আর বলেন রাজ্যের সাংবিধানিক পরিস্থিতিকে ভেঙে ফেলা হয়েছে । যদিও আমি রাজ্যপাল আমি এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করবো না। “

রাস্তায় গাড়ি থামিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথাও বলেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। তাদের দুঃখ দুর্দশার কথাও শোনেন তিনি। তারপর রাজ্যপাল জানান, “স্থানীয়রা এসআইআরের বিরোধিতা করছেন না। শুধুমাত্র স্থানীয় ইস্যুগুলোকে নিয়ে অভিযোগ জানিয়েছেন। বিষয়টি আমি অবিলম্বে খতিয়ে দেখবো।

অনুপ্রবেশকে প্রতিহত করতে বিএসএফের তৎপরতা খতিয়ে দেখলাম। বিএসএফ-এর আধিকারিকরা দেখালেন তারা কীভাবে অনুপ্রবেশকে আটকে দেন। তাদের অতন্দ্র প্রহরার পাশাপাশিপাশাপাশি আমি সীমান্তের বিভিন্ন এলাকায় পরিদর্শন করলাম। যে কোনো ধরনের  স্নিফার ডগ এবং বোম্ব স্কোয়াড সকলেই তৎপর রয়েছে, এই আবহে দেশকে সুরক্ষিত রাখার জন্য।“

উত্তর ২৪ পরগনার স্বরূপনগর থানার বিথারী হাকিমপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের সীমান্ত এলাকায় সোমবার সকাল থেকেই ছিল কড়া সতর্কতা। রাজ্যপাল সি. ভি. আনন্দ বোসের সফরকে কেন্দ্র করে বিএসএফ ও জেলা পুলিশের কড়া নজরদারি চালানো হয় হাকিমপুর সীমান্তজুড়ে। ১৪৩ নম্বর ব্যাটালিয়নের ডিআইজি, সিও-সহ শীর্ষ পদস্থ আধিকারিকরাও সরজমিনে পরিদর্শন করে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। এরই মধ্যে সন্ধ্যায় হাকিমপুর সীমান্তে পৌঁছন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। পৌঁছে তিনি সাধারণ মানুষকে হাত নেড়ে অভিবাদন জানান। স্থানীয়দের শুভেচ্ছা গ্রহণ করেন হাসিমুখে। রাস্তাজুড়ে তাঁকে একবার দেখার জন্য ভিড় জমান বহু মানুষ। রাজ্যপালের গাড়ি  এগিয়ে যাওয়ার সময় বহু বাসিন্দাই হাত তুলে তাঁকে অভিবাদন জানান। তিনিও পাল্টা হাত নেড়ে সাড়া দেন। হাকিমপুরে নেমেই প্রশাসনের উচ্চপদস্থ অফিসারদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত আলোচনাও করেন। সীমান্ত নিরাপত্তা, চোরাচালান রুখতে নজরদারি, ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা—এই বিষয়গুলিতেই তাঁর সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা হয় বিএসএফ ডিআইজি, সিও ও জেলা পুলিশের আধিকারিকদের।