“দেশ ছেড়ে পালাবেন না জ্ঞানেশ বাবু”, হুঁশিয়ারি আভিষেকের

দিল্লিতে আন্দোলনের বড়ো হুঁশিয়ারি দিলেন অভিষেক। “এসআইআরে একজনের নাম বাদ দিলে দিল্লিতে লক্ষাধিক মানুষ যাবে। ইসি অফিস ঘেরাও হবে।”

ঋক পুরকায়স্থ, সাংবাদিক: মঙ্গলবার থেকে পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর শুরু হয়ে গিয়েছে। আর মঙ্গলবারই সাংবাদিক সম্মেলন করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সাংবাদিক সম্মেলনের শুরুতেই এইআইআর নিয়ে কেন্দ্রকে নিশানা করে তিনি বললেন, “ভোটার লিস্ট যদি ত্রুটি পূর্ণ হয় তাহলে আমরা যাদের ভোটে নির্বাচিত হয়েছি তারা কারা। যে পাঁচটা রাজ্যে আগামি বছর নির্বাচন আছে সেই রাজ্যগুলিতে এসআইআর হচ্ছে। কেবল আসামকে বাদ দেওয়া হয়েছে কারণ সেখানে বিজেপি ক্ষমতায় আছে। এটা কে বেছে নিয়েছে। কার অঙ্গুলি হেলনে নির্বাচন কমিশন কাজ করছে। এটা কাকতালীয় নয়, ৫ টা রাজ্যের মধ্যে কেবল আসাম বিজেপি শাসিত। সেখানেই এসআইআর হচ্ছে না। বিজেপি থাকবে না, দেশের সংবিধান থাকবে। দেশ ছেড়ে পালাবেন না জ্ঞানেশ বাবু।“

অবৈধ নাগরিক প্রসঙ্গে তিনি বললেন, “বাংলাদেশের বর্ডার শেয়ার করছে পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, মেঘালয়, ত্রিপুরা ও মিজেরাম কিন্তু এসআইআর হচ্ছে কেবল পশ্চিমবঙ্গে। অন্য চারটিতে এসআইআর হচ্ছে না। মায়ানমার পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে বর্ডার শেয়ার করছে না। বর্ডার শেয়ার করছে কেবলমাত্র মিজোরাম, মনিপুর, নাগাল্যান্ড ও অরুনাচলপ্রদেশ। একটা রোহিঙ্গাকে যদি বাংলায় আসতে হয় তাহলে মায়ানমার থেকে এই চারটি বর্ডার পেরিয়ে আসতে হবে। তাহলে এখানে কেন এসআইআর হচ্ছে না?”

দিল্লিতে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেছেন, “একটা মানুষের নাম যদি বাদ যায়। বাংলা থেকে একলক্ষ লোক দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের অফিস ঘেরাও করবে। যত বড়োই নেতা হোক না কেন মানুষের ক্ষমতার আগে কেউ নেই। আপনি এসআইআর কত ক্ষমতা আছে করুণ। একটা বৈধ ভোটারের যদি নাম বাদ যায়। আমাগীদিনে আপনাদের পুরো সিনেমা দেখাবো। দিল্লিতে গিয়ে বাংলার মানুষ সেই ক্ষমতা দেখাবে।“

আগামী বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপিকে নিশানা করে তিনি বললেন, “আমি চ্যালেঞ্জ করে বলছি আপনারা এসআইআর করে যত ক্ষতমা আছে প্রয়োগ করুন একটা আসন বাড়াতে পারবেন না। বিজেপি ৫০ টার বেশি আসন পাবে না। আমি চ্যালেঞ্জ করে বলে যাচ্ছি। চ্যালেঞ্জ অ্যাক্সেপ্ট করুন যদি ৫০ এর কম আসন পান তাহলে বাংলার বকেয়া ছেড়ে দেবেন। আর যদি বিজেপি ৫০ এর একটাও বেশি আসন পায় যা বলবেন আমি করবো। ক্ষমতা আছে চ্যালেঞ্জ অ্যাক্সেপ্ট করার।”

যখন ইচ্ছা হয় ডিভিসি জল ছেড়ে দেয়। বাংলার মানুষকে প্রাণে মারার চক্রান্ত করছে বিজেপি। সন্দেশখালির মতো মিথ্যা ঘটনা ঘটিয়ে গোটা দেশের কাছে বাংলাকে অপমান করেছেন বলেও মনে করছেন তিনি।

সুপ্রিম কোর্টে মামলার রায় প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, “২ কোটি ৫৮ লক্ষ জবকার্ড হোল্ডারের জয় হয়েছে গতকাল। নির্বাচনের সময় তো ডেলি প্যাসেঞ্জারি করছেন কিন্তু বাংলার মানুষের পাশে থাকেনা বিজেপি।“

কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের নিশানা করে তিনি বলেছেন, “যারা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হয়েছেন তাদের বাবার নাম ছিন ২০০২ এর আগের ভোটার লিস্টে। তারা যেভাবে এসআইআরের নাম করে বাংলার মানুষকে ছোট করছেন এর জবাব বাংলার মানুষ দেবে। বাংলায় দুটে উপনির্বাচন এখনও বাকি রয়েছে। কেন করাননি ? কারণ আপনারা জানেন যে হেরে যাবেন। এখন ভোটাধিকার কেড়ে নিচ্ছে বিজেপি। তাই এই উপনির্বাচন করায়নি বিজেপি। ২০২১ সালে না জিততে পেরে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে ব্যাবহার করেছে বিজেপি। এবার এসআইআরের নামে এনআরসি করছে বিজেপি। “