‘জ্ঞানেশ কুমার অপরাধী, গ্রেফতার করা উচিত’

কমিশন-বিতর্কে এবার সরব মহুয়া, দিল্লিতে কংগ্রেসের ধর্নায় তৃণমূল সাংসদ।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : এসআইআর এবং নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হল। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে এ বার সরাসরি ফৌজদারি পদক্ষেপের দাবি তুললেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। শুক্রবার দিল্লির যন্তর মন্তরে কংগ্রেসের বিক্ষোভে যোগ দিয়ে তাঁর অভিযোগ, জ্ঞানেশ “অপরাধী” এবং তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হওয়া উচিত। একই সঙ্গে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগও দাবি করেন তিনি।

বৃহস্পতিবারই দিল্লির পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন মহুয়া। তার পরের দিনই ইন্ডিয়ান ইয়ুথ কংগ্রেসের ডাকে যন্তর মন্তরের আন্দোলনে যোগ দেন তিনি। রাইসিনা রোড থেকে মিছিল করে যন্তর মন্তরে পৌঁছন কংগ্রেস কর্মী-সমর্থকেরা।

সেখানে সাংবাদিকদের মহুয়া বলেন, “জ্ঞানেশ কুমার একজন অপরাধী। তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হওয়া উচিত। তাঁকে পদত্যাগ করতে হবে।” পুলিশ দিয়ে আন্দোলন থামানো যাবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর দাবি, “এসআইআর প্রক্রিয়া বন্ধ করতে হবে।”

এসআইআর নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের সূত্রপাত সাম্প্রতিক একটি প্রতিবেদনের পর। সেখানে দাবি করা হয়েছিল, গত ১০ মাসে ভোটার তালিকা এবং সংশ্লিষ্ট ডেটাবেস ব্যবহারের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও প্রক্রিয়া নিয়ে নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিংহ সান্ধু এবং বিবেক যোশী অন্তত ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছিলেন। সেই রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই কমিশনের অভ্যন্তরে মতবিরোধ নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগ আরও জোরালো হয়েছে।

যদিও নির্বাচন কমিশন এই আপত্তিগুলিকে প্রাতিষ্ঠানিক মতবিরোধ হিসেবে দেখার বিরোধিতা করেছে। কমিশনের বক্তব্য, বহুসদস্যের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে প্রশাসনিক পরামর্শ, অভ্যন্তরীণ মতামত এবং কাজকর্ম নিয়ে প্রশ্ন তোলা স্বাভাবিক। এসআইআর সংক্রান্ত সমস্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সর্বসম্মত ভাবেই নেওয়া হয়েছে বলেও দাবি কমিশনের।

এ দিকে জ্ঞানেশের বিরুদ্ধে মহুয়ার দায়ের করা অভিযোগে প্রক্রিয়াগত অনিয়ম, একতরফা সিদ্ধান্ত এবং ভোটার তালিকায় কারচুপির অভিযোগ তোলা হয়েছে।

দিল্লির পাশাপাশি শুক্রবার দেশের একাধিক জায়গায় বিক্ষোভ হয়। পটনায় কংগ্রেস কর্মীদের ছত্রভঙ্গ করতে জলকামান ব্যবহার করে পুলিশ। চণ্ডীগড়েও একই পরিস্থিতি তৈরি হয়। জম্মু-কাশ্মীর, অসম, উত্তরাখণ্ড, পশ্চিমবঙ্গ, উত্তরপ্রদেশ, হিমাচল প্রদেশ এবং মণিপুরেও বিক্ষোভ হয়েছে।

জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে সংসদে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব আনার সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছে কংগ্রেস। আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে এ বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত হতে পারে।