এসআইআর ঘোষণার একদিন আগে মেয়ের বদলি বিজেপি শাসিত রাজ্যে।
ঋক পুরকায়স্থ, সাংবাদিক: মঙ্গলবার থেকে পশ্চিমবঙ্গে শুরু হয়েছে এসআইআর। আর ঠিক এই সময় ডবল ইঞ্জিন চালিত রাজ্যে জেলা শাসক পদে বদলি হচ্ছে জ্ঞানেশকুমারের কন্যা ও জামাইয়ের। এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশাপাশি তিনি বলেন, দেশে এক ভয়ঙ্কর অভিযান চালানোর জন্য জ্ঞানেশকে ব্যাবহার করছে বিজেপি।

মঙ্গলবারই পশ্চিমবঙ্গ সহ দেশের ১২ টি রাজ্যে এসআইআর শুরু হয়ে যায়। এরপরই সাংবাদিক সম্মেলন করে বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনকে তীব্র আক্রমণ করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন,”জ্ঞানেশ কুমার একটি বড় মিশনে নেমেছেন। মিশনটি হল দেশকে ধ্বংস করা। এসআইআরকে এনআরসির পিছনের দরজা বলেও কটাক্ষ করেছেন তিনি। এসআইআরের নামে এনআরসি হচ্ছে বলে মনে করছেন তিনি।”
সাংবাদিক সম্মেলনের মধ্যেই আক্রমণের তির ধেয়ে আসে জ্ঞানেশ কুমারের দিকে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, জ্ঞানেশ কুমার মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হওয়ার আগে অমিত শাহের সঙ্গে কাজ করতেন। এই মিশনে বিজেপি ও অমিত শাহের স্নেহধন্য জ্ঞানেশকে ব্যাবহার করা হচ্ছে। বিজেপি অভিযোগ করছে, জুন মাসে এসআইআর ঘোষণার পর কেন তৃণমূল সরকার আমলাদের বদলি করছে? তাহলে বলতে হয়, জ্ঞানেশ কুমারের মেয়ে আইএএস মেধা রূপম এবং জামাই আইএএস মণীশ বনসলের পোস্টিং নিয়ে এসআইআর হওয়ার চারদিন পরে ২৮ জুন মেধা রূপমকে নয়ডার জেলাশাসক (ডিএম) পোস্টে পাঠানো হয়। অন্যদিকে, ২৫ জুন এসআইআর নোটিফিকেশন জারির এক দিন পরে মণীশ বনসলকে সাহরংপুরের জেলাশাসক করা হয়। অর্থাৎ এসআইআর নোটিফিকেশনের মাত্র একদিন আগে। এটা কোনওভাবে কাকতালীয় হতে পারে? এছাড়াও অভিষেক বলেন, আপনি যখন নিজের মেয়ে জামাইকে এসআইআর ঘোষণার আগে বিজেপি শাসিত রাজ্যে পাঠিয়ে দিয়েছেন তাহলে এটা সম্পূর্ণভাবে স্পষ্ট যে আপনি একটি বড় মিশনে আছেন।

নির্বাচন কমিশনকে আক্রমণ করে দিল্লিতে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেছেন, “একটা মানুষের নাম যদি বাদ যায়। বাংলা থেকে এক লক্ষ লোক দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের অফিস ঘেরাও করবে। যত বড়ই নেতা হোক না কেন, মানুষের ক্ষমতার আগে কেউ নেই। আপনি এসআইআর করুন, কত ক্ষমতা আছে দেখি। একটা বৈধ ভোটারের যদি নাম বাদ যায়। আগামীদিনে আপনাদের পুরো সিনেমা দেখাবো। দিল্লিতে গিয়ে বাংলার মানুষ সেই ক্ষমতা দেখাবে।“