“যুদ্ধ শেষ” – ঘোষণা করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প
ঋক পুরকায়স্থ, সাংবাদিক: ইজরায়েলের সঙ্গে সংঘর্ষবিরতি চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছিল হামাসের। এরপর এই প্রথমবার ৭ জন পণবন্দিকে মুক্তি দিল হামাস। এই খবর পাওয়া মাত্রই উৎসবের মেজাজে মেতে উঠেছে গোটা ইজরায়েল। মানবাধিকার সংগঠন রেড ক্রসের হাতে হামাস এই ৭ জন বন্দিকে তুলে দিয়েছে। প্রথম দফায় আরও ১৩ জনকে ফিরিয়ে দেবে তারা। ওই ৭ জনের মুক্তির খবর পাওয়া মাত্রই বর্তমানে উৎসবের মেজাজে মেতেছে ইজরায়েল।
ইতান মোর, গালি বারমান, জিভ বারমান, মাতান আংরিস্ত, ওমরি মিরান, গিলবোয়া দালাল এবং আলন আহেল নামে ৭ জন বন্দিকে মুক্তি দিয়েছে হামাস। ২০২৩ সালে তাদেরকে বন্দি করেছিল হামাসের একটি জঙ্গি গোষ্ঠী। দু বছর পর জঙ্গিদের গোপন ডেরা থেকে মানবাধিকার সংগঠনের হাতে তুলে দেওয়া হয় ৭ জন বন্দিকে। এরপর এই মানবাধিকার সংগঠন ইজরায়েলের সামরিক বাহিনীর হাতে তুলে দেবে হামাসে থাকা এই ৭ জন বন্দিকে।
প্রথমে ৭ জন এবং পরে ১৩ জনকে মুক্ত করা হয়েছে। সকলেই ২ বছর পর হামাসের ডেরা থেকে ফিরলেন ইজরায়েলে ফিরলেন। উল্লেখ্য, পরিবর্তে ১৯০০ প্যালেস্তিনীয়কে জেল থেকে মুক্তি দিচ্ছে ইজরায়েল। ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইজরায়েল বলল, যুদ্ধ শেষ!

মুক্তির পরই সীমান্ত পেরিয়ে সামরিক বাহিনীর সঙ্গে এসে নিজেদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন তারা। সেখান থেকে আকাশ পথে হেলিকপ্টারের মাধ্যমে তাদেরকে নিয়ে যাওয়া হবে হাসপাতালে। দু’বছর বন্দী জীবন কেমন কাটালেন তারা তা এখনো পর্যন্ত জানা না গেলেও তাদের মুক্তির খবর পাওয়া মাত্রই উৎসবের মেজাজে মেতে উঠেছে ইজরায়েলের সাধারণ মানুষ। দেশের প্রতিটি রাস্তার মোড়ে বড় বড় জায়েন্ট স্ক্রিন বসানো হয়েছে। যেখানে তাদের মুক্তির ভিডিও দেখানো হচ্ছে। জাতীয় পতাকা হাতে আনন্দে মেতে উঠেছেন মানুষজন।

প্রত্যেক পণবন্দিকে নিজের হাতে লেখা স্বাগত পত্র চিঠির আকারে লিখে তুলে দিচ্ছেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও তার স্ত্রী সারা। সেই চিঠিতে লেখা রয়েছে, “ইজরায়েল দেশের প্রত্যেক মানুষের পক্ষ থেকে আপনাদের স্বাগত জানানো হচ্ছে। বহুদিন ধরে আপনাদের অপেক্ষায় আমরা রয়েছি। গোটা দেশ আপনাদের ফেরার অপেক্ষা করছিল। আপনাদের ফিরে পেয়ে আমরা আনন্দিত ও গর্বিত।“
বন্দিরা যে রাস্তা দিয়ে বাড়ি ফিরছেন গোটা রাস্তা মুড়ে ফেলা হয় ইজরাইলের জাতীয় পতাকায়। প্রিয়জনের মুক্তিতে আবেগপ্রবণ হয়ে ওঠেন মানুষজন।

২০ জন অর্থাৎ সমস্ত বন্দিদেরকেই মুক্তি দিল হামাস। সোমবার ইজরায়েল ও হামাসের মধ্যে যে নিউ গাজা সিজফায়ার চুক্তি হয়েছিল, তারই অংশ হিসেবে বন্দিদের রেড ক্রসের হাতে তুলে দেওয়া হল। প্রথম দফায় ৭জন বন্দিকে মুক্তি দেওয়া হয়। দ্বিতীয় দফায় ১৩জনকে মুক্তি দেওয়া হয়। গোটা দু বছর বন্দিদশার পর, তাদের মুক্তি দেওয়া হল। এদিকে গাজা শান্তি সম্মেলনে যোগদানের জন্য মিশর সফরের আগে ইজরায়েলে পৌঁছেছেন যুদ্ধবিরতির মধ্যস্থতাকারী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইজরায়েলের সংসদে ভাষণও দেবেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ইজরায়েল সফরের আগে ট্রাম্প বলেন, “ নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন, যুদ্ধ শেষ হয়েছে। আশা করি এবার সমস্তটা স্বাভাবিক হবে। যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে কাতারের ভূমিকা প্রশংসনীয়। ভালো কাজ করেছেন নেতানিয়াহু। গাজাকে নতুনভাবে গড়ে তুলতে দ্রুত বোর্ড অফ পিস প্রতিষ্ঠিত হবে।”