হনুমান অংশ ছবিতে হনুমান ভজন গেয়ে রাতারাতি দেশজোড়া পরিচিতি পেয়েছিলেন দৃষ্টিহীন লোকসঙ্গীতশিল্পী সুনীল লোধি। এ বার তাঁর জীবনে নতুন আশার আলো। শুরু হয়েছে চোখের চিকিৎসা। আবার নিজের চোখে পৃথিবীর আলো দেখতে পাবেন, এই আশাতেই দিন গুনছেন শিল্পী। সমাজমাধ্যমে নিজেই চিকিৎসা শুরুর খবর জানিয়েছেন তিনি। অনুরাগীদের কাছে চেয়েছেন প্রার্থনা ও আশীর্বাদ।

মঙ্গলবার ইনস্টাগ্রামে চোখের চিকিৎসার জন্য একটি চক্ষু হাসপাতালে যাওয়ার ছবি শেয়ার করে নেন সুনীল। আবেগঘন বার্তায় তিনি লেখেন, ঈশ্বর প্রতিটি কঠিন সময়ে তাঁকে শক্তি ও সাহস জুগিয়েছেন। এ বার শুরু হয়েছে চোখের চিকিৎসা। অনুরাগীদের ভালবাসা ও আশীর্বাদ তাঁকে নতুন করে আশাবাদী করে তুলেছে। তাঁর একটাই প্রার্থনা, আবার যেন চোখের আলো ফিরে পান এবং নিজের চোখে সুন্দর পৃথিবী দেখতে পারেন।

সুনীলের চিকিৎসার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদবের নির্দেশে বলে জানা গিয়েছে। ‘বুন্দেলখণ্ড মেডিক্যাল কলেজ’-এ তাঁর শারীরিক পরীক্ষা এবং বিস্তারিত চক্ষু পরীক্ষা করা হয়েছে। পরে সাগরের জেলাশাসক দিলীপ কুমার যাদবের সঙ্গেও দেখা করেন তিনি। সেখানে একটি ভজনও পরিবেশন করেন শিল্পী।

বুন্দেলখণ্ডের বাসিন্দা সুনীলের সঙ্গীতজীবন শুরু হয়েছিল মাত্র ১০-১১ বছর বয়সে। সঙ্গী ছিল তানপুরা। দীর্ঘ দিন নিজের এলাকায় ভজন গেয়েই দিন কাটত তাঁর। পরে ‘বুন্দেলি দুনিয়া’ নামের একটি ইনস্টাগ্রাম পেজে তাঁর গান প্রকাশিত হতে শুরু করে। সেখান থেকেই সঙ্গীত পরিচালক পঙ্কজ ভিআরকের নজরে আসেন সুনীল। তাঁর কণ্ঠে ‘মোরে সংকট কে কাটাইয়া’ হনুমান ভজনটি শুনে মুগ্ধ হন তিনি। গানটি দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়।
এর পর ‘হনুমান অংশ’ ছবিতে গান গাওয়ার সুযোগ পান সুনীল। ছবিতে তাঁর গাওয়া ‘ম্যায়নে তেরে হি ভরোসে হনুমান’ গানটি বিশেষ জনপ্রিয়তা পায়। এ বার সেই শিল্পীর চোখের চিকিৎসা শুরু হওয়ায় নতুন করে আশায় বুক বাঁধছেন অনুরাগীরা। তাঁদের প্রার্থনা, দ্রুত সুস্থ হয়ে আবার যেন পৃথিবীর আলো দেখতে পান সুনীল।