খালি গায়ে রাস্তায় ঘোরানো থেকে বেধড়ক মারধর। ভাইরাল সেই ভিডিও ঘিরে এখন তোলপাড় রাজনৈতিক মহল।

অনুপ চট্টোপাধ্যায়, নিজস্ব সংবাদদাতা : একসময় ক্ষমতার ছত্রছায়ায় যাঁর দাপটে কার্যত তটস্থ থাকত গোটা এলাকা, আজ তিনিই জনরোষের মুখে। পালাবদলের পর বদলে গিয়েছে ক্ষমতার সমীকরণ। আর সেই বদলের আবহেই প্রকাশ্যে অপদস্থ হতে হল একদা দাপুটে তৃণমূল নেতাকে। খালি গায়ে রাস্তায় ঘোরানো থেকে বেধড়ক মারধর। ভাইরাল সেই ভিডিও ঘিরে এখন তোলপাড় রাজনৈতিক মহল। দেখুন সেই চাঞ্চল্যকর ছবি।
আগের সরকারের রাজপাট আগেই চলে গিয়েছে। প্রজা অর্থাৎ তৃণমূল কর্মীদের অবস্থা এখন বড্ড শোচনীয়। তবে শুধু শোচনীয় বলা ভুল। করুণ বললে ভুল হবে না। এখন জনরোষের শিকার হতে হচ্ছে তাঁদের। ১৫ বছর ধরে সন্ত্রাস, অত্যাচার, হুমকি, তোলাবাজির অভিযোগ উঠেছিল দিকে দিকে। পালাবদল হতেই এবার জনরোষের শিকার তৃণমূল নেতা। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল সেই ভিডিও।
ইনি হলেন একসময়ের খানাকুলের দাপুটে তৃণমূল নেতা। এখন সরকার থেকে বিদায় নিয়েছে তৃণমূল। তাই নেতার দাপটও এখন কর্পূরের মতো উবে গেছে। তাই আগে যখন দাপট ছিল, সেই সময় করা দুষ্কর্মের ফল ভুগতে হচ্ছে এখন।
ইনি হলেন খানাকুলের কিশোরপুর-২ পঞ্চায়েতের উপপ্রধান তথা প্রাক্তন ব্লক তৃণমূল সভাপতি দীপেন মাইতি। পালাবদল হতেই এবার জনরোষের শিকার খানাকুলের তৃণমূল নেতা। চলে বেধড়ক মারধর। গায়ের পোশাকও নেই তাঁর। চলছে টানাটানি -ধস্তাধস্তি, হেনস্থা ও মারধরের সেই ছবি ছড়িয়ে পড়ে সোশ্যাল মাধ্যমে। সেখানে হাজির অগণিত মানুষ।
দিনের পর দিন এলাকায় দাদাগিরি চালিয়েছেন এই তৃণমূল নেতা। মাঝরাতে গিয়েও ঘর ভাঙচুর, শাসানি দিতেন বলে অভিযোগ। এমনকী সবসময় পিস্তল নিয়ে এলাকায় ঘুরে বেড়াত বলে অভিযোগ। তৃণমূল শাসন ক্ষমতা থেকে চলে যেতেই এবার জনরোষের শিকার হন নেতা। নিজের এলাকাতেই তাঁকে ঘিরে ধরে এলোপাথাড়ি মারধর । ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ তাকে উদ্ধার করতে এলে পুলিশের সামনেই চলে মারধর। অবেশেষে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে খানাকুল গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি করে। খানাকুলের এই দাপুটে তৃণমূল নেতা কে মারধরের যে ভিডিও তা সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। সেখানে পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে সেই জনরোষের দৃশ্য। পুলিশও ছাড়াতে পারেনি। পুলিশের সামনেই চলে মারধর। সেখানে দেখা যায় তিনি খালি গায়ে। তার উপর চলছে অত্যাচার। এই ব্যাপারে দীপেন মাইতির সাথে যোগাযোগ করা হলে বলেন, তিনি কোনও মন্তব্য করতে চান না। দল হেরে গেলে এখন অনেক অভিযোগই সামনে আসবে। তিনি এলাকায় উন্নয়ন করেছেন। মানুষের পাশে ছিলেন। এখন কেউ এসে মিথ্যা অভিযোগ করলেই হল না। অভিযোগ করেন যারা হেনস্থা করেছে তারা সবাই সিপিএমের লোকজন। বিজেপির কেউ থাকেনি। পুলিশ যথা সময়ে এসে তাঁকে উদ্ধার করেছে। তিনি আইনে বিশ্বাসী।
একসময় যাঁর নামেই কাঁপত এলাকা, পালাবদলের পর সেই তিনিই আজ জনরোষের মুখে। ভাইরাল ভিডিও ঘিরে এখন তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর। শাসক বদলাতেই বদলে গিয়েছে ছবিটা। তবে প্রশ্ন উঠছে, আইনের শাসনের জায়গায় কি জনতার রোষই শেষ কথা হয়ে উঠবে? নাকি অতীতের সমস্ত অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করেই সামনে আসবে আসল সত্যি? খানাকুলের এই ঘটনাকে ঘিরে এখন সরগরম রাজ্য রাজনীতি।