HDFC ব্যাঙ্কের চেয়ারম্যান অতনু চক্রবর্তীর পদত্যাগ

পদত্যাগপত্রে ‘নৈতিকতা ও ব্যক্তিগত মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যের অভাবের কথা উল্লেখ।

মাম্পি রায়, সাংবাদিক: হঠাৎ পদত্যাগ করলেন এইচডিএফসি (HDFC Bank) ব্যাঙ্কের চেয়ারম্যান অতনু চক্রবর্তী। এইচডিএফসি ব্যাঙ্কের শীর্ষস্তরে আচমকা পরিবর্তন ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল আর্থিক মহলে। দেশের অন্যতম বৃহৎ বেসরকারি ব্যাঙ্ক HDFC Bank-এর পার্ট-টাইম চেয়ারম্যান তথা স্বাধীন পরিচালক অতনু চক্রবর্তী হঠাৎই পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত জানান। তাঁর পদত্যাগপত্রে ‘নৈতিকতা ও ব্যক্তিগত মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যের অভাবের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যা নিয়ে জল্পনা আরও ঘনীভূত হয়েছে।

অতনু চক্রবর্তী তাঁর চিঠিতে লেখেন, গত দু’বছরে ব্যাঙ্কের কিছু কার্যপ্রণালী তাঁর ব্যক্তিগত আদর্শ ও নীতির সঙ্গে খাপ খায়নি। সেই কারণেই তিনি সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, অন্য কোনও ‘গুরুত্বপূর্ণ কারণ’ তাঁর পদত্যাগের নেপথ্যে নেই। পরে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “আমি কোনও অনিয়মের অভিযোগ করছি না। আমার চিন্তাধারার সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের ভাবনার অমিল ছিল, তাই সরে দাঁড়ানোই ঠিক বলেই মনে হয়েছে।”

২০২১ সালের মে মাসে ব্যাঙ্কের বোর্ডে যোগ দেন প্রাক্তন আইএএস আধিকারিক অতনু চক্রবর্তী। তাঁর কার্যকালের মধ্যেই ঘটে HDFC Ltd-এর সঙ্গে ব্যাঙ্কের ঐতিহাসিক সংযুক্তিকরণ, যার ফলে এইচডিএফসি ব্যাঙ্ক দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ব্যাঙ্কে পরিণত হয়। যদিও এই সংযুক্তিকরণের পুরো সুফল এখনও পাওয়া বাকি বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।

 অতনু চক্রবর্তীর পদত্যাগের পর পরিস্থিতি সামাল দিতে এগিয়ে এসেছে Reserve Bank of India। কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক ইতিমধ্যেই কেকি মিস্ত্রিকে অন্তর্বর্তী পার্ট-টাইম চেয়ারম্যান হিসেবে তিন মাসের জন্য নিয়োগে অনুমোদন দিয়েছে। আরবিআই এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এইচডিএফসি ব্যাঙ্ক একটি ‘ডোমেস্টিক সিস্টেমিক্যালি ইম্পর্ট্যান্ট ব্যাঙ্ক’ (ডি-এসআইবি) এবং তাদের আর্থিক ভিত্তি মজবুত, পরিচালন কাঠামো পেশাদার ও সক্ষম। ব্যাঙ্কের শাসনব্যবস্থা নিয়ে বর্তমানে কোনও বড় উদ্বেগ নেই বলেও জানানো হয়েছে।

তবে এই আকস্মিক পদত্যাগের প্রভাব পড়েছে শেয়ারবাজারে। মার্কিন মুলুকে তালিকাভুক্ত এইচডিএফসি ব্যাঙ্কের এডিআর প্রথমে ৭ শতাংশের বেশি পড়ে যায়। দেশীয় বাজারেও ব্যাঙ্কের শেয়ার প্রায় ৪.৭ শতাংশ নেমে যায়, যা বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগের ইঙ্গিত দিচ্ছে। শেয়ারটি ইতিমধ্যেই ৫২ সপ্তাহের নিম্নস্তরের কাছাকাছি ঘোরাফেরা করছে।

ব্রোকারেজ সংস্থা JPMorgan যদিও ‘নিউট্রাল’ রেটিং বজায় রেখেছে, তবু তাদের মতে এই ঘটনার জেরে স্বল্পমেয়াদে শেয়ারের উপর চাপ বজায় থাকতে পারে। ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে বাজারের মনোভাবও কিছুটা নরম, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

সব মিলিয়ে, দেশের অন্যতম বৃহৎ ব্যাঙ্কে শীর্ষপদে এই হঠাৎ পরিবর্তন ভবিষ্যতে কী প্রভাব ফেলবে, সে দিকেই এখন নজর আর্থিক মহলের।