‘ও যা করেছে, তার শাস্তি পেয়েছে’,

পুলিশের এনকাউন্টারে নিহত প্রভাসের দেহ নিতেও অস্বীকার মায়ের।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : বারুইপুরে নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের পুলিশের এনকাউন্টারে মৃত্যুর পর সামনে এল এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য। ছেলের দেহ গ্রহণ তো দূরের কথা, বাড়িতেও আনতে অস্বীকার করলেন তাঁর মা। স্পষ্ট ভাষায় তিনি জানিয়ে দিলেন, ছেলের অপরাধের শাস্তিই হয়েছে এবং সেই দেহ তিনি গ্রহণ করবেন না।

বুধবার সকালে পুলিশের দুই কর্মী প্রভাসের মৃত্যুর খবর দিতে তাঁদের বাড়িতে পৌঁছন। সংবাদসংস্থা এএনআই-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রভাসের মা বলেন, ‘‘ঘুম থেকে ওঠার পরই দু’জন পুলিশ এসে জানাল, আমার ছেলে মারা গিয়েছে। হাসপাতালে যেতে চাই কি না, জানতে চাইল। আমি বলেছি, আমার স্বামী অসুস্থ। আমি যাওয়ার অবস্থায় নেই। আপনারা যা করার করুন, আমার কোনও আপত্তি নেই।’’

শুধু হাসপাতালে যেতে অস্বীকারই নয়, ছেলের দেহও তিনি নেবেন না বলে সাফ জানিয়ে দেন। তাঁর কথায়, ‘‘আমার ছেলে যে কাজ করেছে, তার শাস্তি সে পেয়েছে। আমি তার দেহ নেব না, বাড়িতেও আনব না। সে কোনও ভাল কাজ করেনি।’’

তিনি আরও বলেন, ‘‘ও ভয়ঙ্কর অপরাধ করেছে। তার শাস্তি হয়েছে। এখন আপনারা যা খুশি করুন, আমার কোনও আপত্তি নেই। আমি দেহ নেব না।’’

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার সকালে ঘটনাস্থলের পুনর্নির্মাণের জন্য প্রভাসকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। বারুইপুর পুলিশ জেলার সুপার জানান, সেই সময় অভিযুক্ত আচমকা এক পুলিশকর্মীর সার্ভিস রিভলভার ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে এবং পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। পাল্টা গুলিতে গুরুতর জখম হয় প্রভাস। দ্রুত তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।

গত শনিবার থেকে নিখোঁজ ছিল বারুইপুরের ওই নাবালিকা। পরে একটি পুকুর থেকে তার দেহ উদ্ধার হয়। এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এবং বিক্ষোভ শুরু হয়। তদন্তে নেমে পুলিশ ইতিমধ্যেই নাবালিকার মৃত্যু-কাণ্ডে দু’জনকে গ্রেফতার করেছে বলে জানিয়েছে বারুইপুর পুলিশ জেলা।

ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে তদন্তে বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করা হয়েছে বলে আগেই জানিয়েছিলেন যাদবপুরের সাংসদ সায়নী ঘোষ। তদন্তকারীদের দাবি, ঘটনার প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ দিকে অভিযুক্তের মায়ের প্রতিক্রিয়া এই বহুল আলোচিত মামলায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। নিজের সন্তানের মৃত্যুতেও আবেগের বদলে অপরাধের জন্য কঠোর শাস্তির কথাই তুলে ধরেছেন তিনি, যা ইতিমধ্যেই জনমনে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।