ব্ল্যাকরক প্রায় ১১.৫ ট্রিলিয়ন ডলারের সম্পত্তি পরিচালনা করছে। যা একাধিক বড় অর্থনীতির জিডিপির সমান। তুলনায় Rothschild & Co-র সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রায় ১০০–১৫০ বিলিয়ন ইউরো।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : গোটা বিশ্বের শাসকদের তালিকা খতিয়ে দেখলে এখনও ভেসে ওঠে রথসচাইল্ড নাম। নেপোলিয়নিক যুদ্ধ, সোনার বার, কুরিয়ার নেটওয়ার্ক এই সব নিয়ে প্রায় দুই শতক ঐতিহ্যে মোড়া ছিল রথচাইল্ডদের ব্যাঙ্কিং বংশ। কিন্তু আধুনিক আর্থিক বিশ্লেষকরা আঙুল তুলছেন নিউ ইয়র্কের কাচঘেরা মহল এবং একটি সফটওয়্যার সিস্টেমের দিকে। তার নাম হল BlackRock. আর সফটওয়্যারটি হল ‘Aladdin’।
ব্ল্যাকরক প্রায় ১১.৫ ট্রিলিয়ন ডলারের সম্পত্তি পরিচালনা করছে। যা একাধিক বড় অর্থনীতির জিডিপির সমান। তুলনায় Rothschild & Co-র সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রায় ১০০–১৫০ বিলিয়ন ইউরো। দুইয়ের মধ্যে পার্থক্য আকাশছোঁয়া।
আধুনিক পুঁজিবাদে জন্ম নিয়েছে ‘কমন ওনারশিপ’-এর ধারণা। ব্ল্যাকরক ও Vanguard Group পশ্চিম বিশ্বের অধিকাংশ বড় সংস্থার শীর্ষ শেয়ারহোল্ডার। কোকা-কোলা থেকে পেপসি, অ্যাপল থেকে মাইক্রোসফট—সবক্ষেত্রেই তাঁদের উল্লেখযোগ্য অংশীদারি রয়েছে। ফলে ভোটাধিকারও তাঁদের হাতে। ব্ল্যাকরকের সিইও Larry Fink ‘ইএসজি’ নীতিকে অগ্রাধিকার দিলে, কর্পোরেট বোর্ডরুমে তার প্রভাব পড়ে।

রথসচাইল্ডরা একদা তথ্য-নেটওয়ার্কে এগিয়ে ছিল। আজ সেই জায়গা নিয়েছে ব্ল্যাকরকের ‘Aladdin’—ঝুঁকি বিশ্লেষণের এক বিশাল ডিজিটাল পরিকাঠামো, যা কেবল ব্ল্যাকরকের নয়, বহু কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সম্পদ পর্যবেক্ষণ করে।
রাজনৈতিক প্রভাবের ময়দানে Goldman Sachs-এর নামও উঠে আসে। প্রাক্তন মার্কিন ট্রেজারি সচিব Hank Paulson কিংবা Steve Mnuchin—অনেকে এসেছেন গোল্ডম্যানের ঘরানায়।
তবে রথসচাইল্ডরা অপ্রাসঙ্গিক নন। রাজা বদলেছে, সিংহাসন বদলেছে—কিন্তু পুঁজির খেলা থেমে নেই। রাজবংশীয় পুঁজিবাদ থেকে বিশ্ব পৌঁছেছে প্রাতিষ্ঠানিক পুঁজিবাদে।