আলিমুদ্দিনের পাশে চণ্ডীপাঠ ঘিরে তরজা তুঙ্গে!

সিপিএমের রাজ্য দফতর আলিমুদ্দিন স্ট্রিটের পাশে চণ্ডীপাঠের আয়োজন ঘিরে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।

বিশ্বজিৎ পাল, নিজস্ব সংবাদদাতা

হিন্দু ধর্মগুরুদের উপস্থিতিতে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের উদ্যোক্তাদের দাবি, এটি নিছক ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, বরং বাংলার মাটিতে সনাতন ধর্মের সাংস্কৃতিক আত্মমর্যাদা ও আত্মবিশ্বাসের প্রকাশ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত বক্তাদের বক্তব্যে উঠে এসেছে ধর্মীয় ঐতিহ্য, বাংলার সংস্কৃতি এবং রাজনৈতিক মতাদর্শের প্রসঙ্গ।

আয়োজকদের বক্তব্য, আলিমুদ্দিন স্ট্রিট দীর্ঘদিন ধরেই বামপন্থী রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। সেই জায়গার পাশেই চণ্ডীপাঠের আয়োজনের মধ্য দিয়ে তাঁরা বার্তা দিতে চান, বাংলার সংস্কৃতি কোনও নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের একচেটিয়া সম্পত্তি নয়। তাঁদের মতে, সনাতন ধর্ম, ভারতীয় সভ্যতা এবং দেশের আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য কোনও রাজনৈতিক মতাদর্শের অনুমোদনের উপর নির্ভরশীল নয়।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বক্তারা বামপন্থী রাজনীতির সমালোচনা করেন। তাঁদের অভিযোগ, বাংলার রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে সনাতন ধর্ম ও হিন্দু সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। বামপন্থীদের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে কটাক্ষ করে কয়েকজন বক্তা তাঁদের ‘অ্যান্টি-ন্যাশনাল’ শক্তি বলেও অভিহিত করেন। একই সঙ্গে তাঁরা দাবি করেন, বাংলার মাটিতে সনাতন ঐতিহ্য বরাবরই মাথা উঁচু করে থাকবে।

এই অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ঠাকুর শ্রীশ্রী সমীরেশ্বর ব্রহ্মচারী, তন্ত্র দেবানন্দ মহারাজ, খনা মা, সত্যজিৎ দাস, সায়ন্তন বসু-সহ অন্যান্যরা। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি তাঁদের বক্তব্যে বারবার উঠে আসে বাংলার সাংস্কৃতিক পরিচয় এবং সনাতন ধর্মের ঐতিহ্য রক্ষার প্রসঙ্গ।

আয়োজকদের বক্তব্য, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিসরকে কোনও রাজনৈতিক দলের গণ্ডির মধ্যে আটকে রাখা যায় না। তাঁদের মতে, বাংলার ঐতিহ্য ও আধ্যাত্মিক উত্তরাধিকারকে সামনে রেখেই এই ধরনের কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।

সব মিলিয়ে, সিপিএমের পার্টি অফিসের পাশে চণ্ডীপাঠের এই আয়োজন ধর্মীয় অনুষ্ঠানের পাশাপাশি রাজনৈতিক তাৎপর্যও বহন করছে। বিশেষত, বামপন্থী রাজনীতির পরিচিত কেন্দ্রের কাছে দাঁড়িয়ে সনাতন ঐতিহ্যের পক্ষে সরব হওয়ার ঘটনাকে নিজেদের সাংস্কৃতিক অবস্থান স্পষ্ট করার প্রচেষ্টা হিসেবেই দেখছেন উদ্যোক্তারা।