কেরালায় শবরীমালা মন্দিরে যাওয়ার পথে দুর্ঘটনার কবলে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর হেলিকপ্টার। পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট চাইতে পারে রাষ্ট্রপতির দফতর।
ঋক পুরকায়স্থ, সাংবাদিক: দুর্ঘটনার কবলে পড়ল রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর হেলিকপ্টার। বুধবার কেরলে গিয়েছিলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। কেরলের প্রামাদম স্টেডিয়ামে হেলিকপ্টার অবতরণের সময় হঠাৎ ভেঙে পড়ে হেলিপ্যাডের একাংশ। হেলিকপ্টারের অতিরিক্ত ভার নিতে পারেনি হেলিপ্যাডটি। এই পরিস্থিতিতে কিছু সময়ের জন্য বেসামাল হয়ে পড়ে হেলিকপ্টারটি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে যুদ্ধকালীন তৎপরতার সঙ্গে কাজে নামে পুলিশ ও দমকল বাহিনী। দীর্ঘক্ষণ চেষ্টার পর ওই ক্ষতিগ্রস্ত জায়গা থেকে হাত দিয়ে ঠেলে কপ্টারটি অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে এই ঘটনার ফলে কোনও ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলেই জানা যাচ্ছে।

চারদিনের সফরে মঙ্গলবার তিরুঅনন্তপুরম পৌঁছন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানাতে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন, কেরলের রাজ্যপাল রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ অরলেকার সহ রাজ্যের একাধিক মন্ত্রী। বুধবার সেখান থেকেই রাষ্ট্রপতি পাঠানমথিত্তা জেলায় উদ্দেশ্যে রওনা দেন। সেখানেই রয়েছে শবরীমালা মন্দির। ট্রাভাঙ্কর দেবস্বম বোর্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর শবরীমালা সফরের জন্য সমস্ত প্রস্তুতি শেষ করা হয়েছে। তিনি স্বামী আয়প্পান রোডের মাধ্যমে পৌঁছবেন। তাঁর সঙ্গে পাঁচটি গাড়ির কনভয় ও একটি অ্যাম্বুলেন্স থাকবে। মন্দির পরিদর্শনের পর তিনি ফিরে যাবেন তিরুঅনন্তপুরমে।

এরইমধ্যে দুর্ঘটনার কবলে পড়ল রাষ্ট্রপতির হেলিকপ্টারটি। তবেএই ঘটনার ফলে কেউই আহত হননি ও রাষ্ট্রপতির সফরসূচিতেও কোনও পরিবর্তন হয়নি। হেলিকপ্টার থেকে নামার পর রাষ্ট্রপতি সড়ক পথে পাম্বার উদ্দেশ্যে যান। যদিও আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণেই এই হেলিপ্যাডে অবতরণ করেছেন রাষ্ট্রপতি।
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হেপিকপ্টার বিপর্যয়ের ঘটনা নিয়ে তাঁর এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে জানিয়েছিন, “ঈশ্বরকে ধন্যবাদ যে আমাদের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুজি আজ সকালে কেরালা সফরের সময় একটি বড় দুর্ঘটনা এড়াতে পেরেছেন। তাঁর দীর্ঘ ও সুস্থ জীবনের জন্য প্রার্থনা করছি।“

রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর হেলিকপ্টার দুর্ঘটনার কবলে পড়ার ঘটনায় ওই জেলারই একজন উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, ওই হেলিপ্যাডের কংক্রিট পুরোপুরি জমে ওঠেনি। ফলে চাকার নিচের অংশ বসে গিয়ে ছোট গর্ত তৈরি হয়েছে।
তবে রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তা ব্যবস্থা এই সময় প্রশ্ন চিহ্নের মুখে রয়েছে। তবে ওই হেলিপ্যাড আদৌ কি হেলিকপ্টার নামার জন্য উপযুক্ত ছিল? তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা সংস্থা ও রাষ্ট্রপতি দফতর থেকে পুর্ণাঙ্গ রিপোর্ট চাওয়া হতে পারে বলে জানতে পারা যাচ্ছে।