ধর্মেন্দ্রর পরিবারে ভাঙনের সুর ?

Dharmendra Hema family news : দিল্লিতে দুই কন্যাকে নিয়ে আলাদা করে স্মরণসভা করেন অভিনেত্রী হেমা। একই ব্যক্তিকে ঘিরে দুই শহরে দুই আয়োজন। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই দেওল পরিবারের অন্দরে ভাঙনের গুঞ্জন।

রিয়া হালদার, সাংবাদিক : প্রয়াত ধর্মেন্দ্রকে ঘিরে দেওল পরিবারের স্মরণসভা যে নিছক অনুষ্ঠান নয় বরং সম্পর্কের সূক্ষ্ম রাজনীতির প্রতিফলন তা আবারও প্রমাণিত। এমনটাই মত অনেকের। কারণ, মুম্বইয়ে সানি ও ববি দেওলের উদ্যোগে আয়োজন করা হয়েছিল যে স্মরণসভা, সেখানে অনুপস্থিত ছিলেন হেমা মালিনী। এই ঘটনার কয়েক দিন পর দিল্লিতে দুই কন্যাকে নিয়ে আলাদা করে স্মরণসভা করেন অভিনেত্রী হেমা। একই ব্যক্তিকে ঘিরে দুই শহরে দুই আয়োজন। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই দেওল পরিবারের অন্দরে ভাঙনের গুঞ্জন শোনা যায়। যদিও সেই গুঞ্জনে জল ঢাললেন পরিবারের এক ঘনিষ্ঠ। তাঁর বক্তব্য, ওই দিনের স্মরণসভায় হেমা মালিনীর না আসাই ছিল শ্রেয়। মুম্বইয়ের গেইটি গ্যালাক্সি প্রেক্ষাগৃহের মালিক মনোজ দেশাই, যিনি সানি ও ববির ডাকা স্মরণসভায় উপস্থিত ছিলেন এবং বহু বছর ধরে দেওল পরিবারের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত তিনি। তাঁর কথায়, হেমা ও ধর্মেন্দ্রজি ছিলেন অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। সেই আবেগের জায়গা থেকেই কোনও অপ্রস্তুত মন্তব্য বা অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি তৈরি হলে পুরো স্মরণসভাই ছন্দ হারাতে পারত। তাই অনুপস্থিতিই ছিল পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার সবচেয়ে পরিণত সিদ্ধান্ত। তাঁর কথায়, “হেমা না গিয়ে ভালই করেছেন।”

মনোজ দেশাই আরও জানান, স্মরণসভায় প্রচুর মানুষের ঢল নেমেছিল। গাড়ির লাইন এতটাই লম্বা ছিল যে তাঁকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয় সানি ও ববির সঙ্গে দেখা করার জন্য। শেষ পর্যন্ত সানির সঙ্গে কথা হলে তিনি শুধু ধন্যবাদ জানিয়েই বেরিয়ে যান। বাইরে বেরিয়েও প্রায় পঁয়তাল্লিশ মিনিট দাঁড়িয়ে থাকতে হয় গাড়ির অপেক্ষায়। মনোজের ভাষায়, সে দিন প্রায় গোটা মুম্বই উপস্থিত ছিল সভায় যা প্রমাণ করে ধর্মেন্দ্রর জনপ্রিয়তা ও মানুষের ভালবাসা কতটা গভীর। এই স্মরণসভা ঘিরে আরও একটি বিষয় স্পষ্ট। ব্যক্তিগত সম্পর্কের জটিলতা থাকলেও, প্রয়াত অভিনেতার প্রতি সম্মান জানাতে কোথাও কোনও ঘাটতি ছিল না। আলাদা আয়োজন মানেই যে বিচ্ছেদ, তা বিশ্বাস করতে নারাজ পরিবারের ঘনিষ্ঠ মহল। বরং তাঁদের মতে, পরিস্থিতি বুঝে আলাদা সিদ্ধান্ত নেওয়াই ছিল সবচেয়ে সংবেদনশীল পথ। দিল্লির স্মরণসভায় হেমা মালিনীকে দেখা গিয়েছে। দুই মেয়ের উপস্থিতিতে ব্যক্তিগত পরিসরে ধর্মেন্দ্রকে স্মরণ করেছেন তিনি। কেঁদে ফেলেছেন তিনি। জানিয়েছেন, স্বামীর পূরণ না হওয়া ইচ্ছের কথাও! কি সেই ইচ্ছে? হেমা জানান, একটি বই লেখার ইচ্ছা ছিল ধর্মেন্দ্রর। কবিতার প্রতি তাঁর সহজাত টান এবং শায়েরির প্রতি ভালবাসার কথাও স্মরণ করেন তিনি। হেমা বলেন, সময়ের সঙ্গে ধর্মেন্দ্রর ব্যক্তিত্বের এক অন্য দিক প্রকাশ পেতে শুরু করে। “যখন ও উর্দু শায়েরি বলতে শুরু করল, তখন বোঝা গেল ওর ভিতরে কতটা গভীর প্রতিভা লুকিয়ে আছে। যে কোনও পরিস্থিতিতে সঙ্গে সঙ্গে একটি শের বলে দিতে পারত। এটাই ছিল ওর বিশেষ গুণ,” বলেন হেমা। তিনি আরও জানান, বারবার ধর্মেন্দ্রকে বলতেন তাঁর লেখা শায়েরিগুলি নিয়ে একটি বই প্রকাশ করতে। তিনি বলেন, “ওর অনুরাগীরা নিশ্চয়ই খুব খুশি হতেন। ও নিজেও বিষয়টি নিয়ে খুব সিরিয়াস হয়ে উঠেছিল, সব পরিকল্পনাও করছিল। কিন্তু সেই কাজটা আর সম্পূর্ণ করা হয়ে উঠল না।

ধর্মেন্দ্র প্রয়াত হয়েছেন, ১ মাসও কাটেনি। কিন্তু তাঁর মৃত্যুর পরে পারিবারিক দ্বন্দ্ব নিয়ে নানা জল্পনা, নানা ঘটনা সামনে এসেছে। এ কথা সবাই জানেন যে, খুব অল্প বয়সে ধর্মেন্দ্রর বিয়ে হয়েছিল প্রকাশ কৌরের সঙ্গে। পরবর্তীকালে তিনি হেমা মালিনীর প্রেমে আসক্ত হন ও তাঁকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। হেমা মালিনী ধর্মেন্দ্রর দ্বিতীয় স্ত্রী হলেও শোনা যায় জীবনের দীর্ঘ একটা সময় হেমা মালিনীর সঙ্গেই কাটিয়েছিলেন ধর্মেন্দ্র। কিন্তু শেষ বয়সে নাকি প্রকাশ কৌরের সঙ্গেই একটি ফার্ম হাউজে থাকতেন তিনি। তবে ধর্মেন্দ্রর মৃত্যুর পরে, স্পষ্ট বিভেদ দেখা গিয়েছে দেওল পরিবার আর হেমা মালিনীর পরিবারের মধ্যে। সদ্যই এই বিষয় নিয়ে মুখ খুলেছেন শোভা দে। সম্প্রতি, এক সাক্ষাৎকারে শোভা দে বলেন, ধর্মেন্দ্রর মৃত্যুর পরে দেওল পরিবার একেবারে একঘরে করে রেখেছিল হেমা মালিনী আর তাঁর পরিবারকে। তবুও হেমা মালিনী স্ত্রী হওয়ার ধর্ম পালন করেছেন বলেই দাবি শোভা দে-র। আলাদা করে স্মরণসভা আয়োজন করেছেন হেমা মালিনী। শোভা দে আরও বলেন, ‘হেমা মালিনীর ২ মেয়ে রয়েছে, ধর্মেন্দ্রকে হারানো তাঁর কাছে একটা ভীষণ ব্যক্তিগত শোক। তবে ধর্মেন্দ্রকে হারিয়ে হেমা মালিনী বিভিন্ন পাবলিক ইভেন্টে গিয়েছেন। সেখানে তাঁকে ঘিরে ধরেছে মিডিয়া, সেখানে তিনি সবার সামনে কান্নাকাটি ও করতে পারতেন, শোকপ্রকাশ ও করতে পারতেন। কিন্তু তিনি সেটা করেননি। একেবারেই কোনও কথা বলেননি ধর্মেন্দ্রর মৃত্যু নিয়ে।’ শোভার মতে, হেমা মালিনী যথেষ্ট প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব আর তিনি সবার সামনে নিজের মর্যাদা বজায় রেখেছেন। শোভার মতে, হেমা মালিনী মিডিয়ার সামনে কান্নাকাটি করে শোকপ্রকাশ করতেই পারতেন, আবেগ দেখাতে পারতেন, সহানুভূতি কুড়োতে পারতেন… কিন্তু তা তিনি কিছুই করেননি।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ধর্মেন্দ্র আর নিজের একাধিক ছবি শেয়ার করেন হেমা মালিনী। এবং তিনি লিখেছিলেন, ‘ধরমজী..উনি আমার কাছে অনেক কিছু ছিলেন। একজন ভালবাসার স্বামী, একজন আদর্শ বাবা, আমার ২ মেয়ে এশা আর অহনার বাবা, বন্ধু, ফিলোজফার আর পথপ্রদর্শক, একজন কবি.. আমি সবকিছুর জন্য ওঁর কাছেই গিয়েছি। আমার কাছে উনি ছিলেন সবকিছু। আমার খারাপ এবং ভাল সময়ে, সবসময় ওঁকে পাশে পেয়েছি। উনি সবসময়ে পরিবারের জন্য নিজেকে অর্পণ করে দিতেন। বন্ধু হিসেবে.. প্রত্যেকের প্রতি ওঁর একই রকম নজর ছিল। বলা বাহুল্য, ‘শব্দ কম হলে সম্পর্ক বাঁচে, এই বার্তাই যেন রেখে গেল ধর্মেন্দ্রকে ঘিরে দুই শহরের দুই স্মরণসভা। যেখানে সম্মানই ছিল একমাত্র কেন্দ্রবিন্দু। নীরব সিদ্ধান্ত অনেক সময় প্রকাশ্য উপস্থিতির চেয়েও গভীর অর্থ বহন করে, সেটাই মনে করিয়ে দিল এই ঘটনা। সবার চোখে, নিঃশব্দে।