অবশেষে ধৈর্যের বাঁধ ভাঙল রোজভ্যালি চিটফান্ডের প্রতারিত আমানতকারীদের। তাঁদের দীর্ঘদিনের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে টনক নড়ল হাইকোর্ট নিযুক্ত অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি দিলীপ শেঠের নেতৃত্বাধীন রোজভ্যালি এডিসি কমিটির। মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুর পৌরসভার বিরুদ্ধে এবার কড়া অবস্থান নিল ওই কমিটি।

ষষ্ঠী চট্টোপাধ্যায়, নিজস্ব প্রতিনিধিঃ- বুধবার জঙ্গিপুর পুরসভার চেয়ারম্যানের উদ্দেশ্যে একটি চিঠিতে কমিটি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে— হাইকোর্টের নির্দেশে বাজেয়াপ্ত হওয়া জমিতে কোনও ধরনের নির্মাণ বেআইনি। তবু কী করে পুরসভা সেখানে জলের ট্যাঙ্ক তৈরি সহ একাধিক নির্মাণকাজ চালাচ্ছে, সেই প্রশ্ন তুলেছে কমিটি। চিঠিতে বলা হয়েছে, অবিলম্বে সমস্ত নির্মাণ বন্ধ করে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে না আনলে আদালত অবমাননার মামলা দায়ের করা হবে।
জানা গিয়েছে, জঙ্গিপুর শহরের বাসুদেবপুর মৌজায় প্রায় ১৩ শতক জমি রোজভ্যালি গোষ্ঠীর নামে ছিল। হাইকোর্টের নির্দেশে বহু বছর আগেই ওই জমি বাজেয়াপ্ত করে তা রোজভ্যালি এডিসি কমিটির অধীনে রাখা হয়। দীর্ঘদিন ফাঁকা পড়ে থাকা সেই জমিতে সম্প্রতি জঙ্গিপুর পুরসভা নির্মাণকাজ শুরু করে।
স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, সরকারি সংস্থা হয়েও বেআইনি দখলদারির পথে হাঁটছে পুরসভা। তাঁরা প্রশ্ন তুলছেন— “যে জমির মালিকানা নিয়ে হাইকোর্ট স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে, সেখানে কীভাবে নির্মাণ হতে পারে?”
রোজভ্যালির প্রতারিত আমানতকারীদের হয়ে আইনজীবী অরিন্দম দাস সম্প্রতি জেলা শাসক থেকে শুরু করে নবান্ন পর্যন্ত চিঠি পাঠিয়ে এই অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে সরব হন। সেই নোটিসের জবাবে এবার এডিসি কমিটিও সরাসরি পদক্ষেপ করল।
অরিন্দববাবু বলেন, “প্রথমে আমরা আমানতকারীদের তরফে আপত্তি জানাই। এরপর এডিসি কমিটিও পুরসভাকে কড়া চিঠি দিয়ে বেআইনি নির্মাণ ভাঙার নির্দেশ দিয়েছে। এখনো যদি পুরসভা ব্যর্থ হয়, তাহলে হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চে আদালত অবমাননার মামলা করা হবে।”
এদিকে এই ঘটনায় রাজ্যের বিভিন্ন স্তরে নড়চড় শুরু হয়েছে। আমানতকারীরা ইতিমধ্যেই সেবি, ইডি, সিবিআই সহ একাধিক কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সংস্থাকে বিষয়টি জানিয়েছেন। রাজ্যের মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব ও পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরকেও পাঠানো হয়েছে লিখিত প্রতিবেদন।
রোজভ্যালি কান্ডে যেভাবে বছরের পর বছর প্রতারিত হয়ে পড়ে আছেন লক্ষ লক্ষ আমানতকারী, তাদের পক্ষে এই পদক্ষেপকে ‘ছোট্ট জয়’ হিসেবেই দেখছেন সকলে। যদিও পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, তার দিকেই এখন নজর সব মহলের।