স্কুল শিক্ষকরা গৃহ শিক্ষকতা বা টিউশন পড়াতে পারবেন না। ২০১৮ সালেই এই মর্মে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছিল। কিন্তু রাজ্যের তরফে সেই নিষেধাজ্ঞা কাগজে কলমেই রয়ে গিয়েছে। বহাল তবিয়তে টোল খুলে টিউশন পড়াচ্ছেন স্কুল শিক্ষকদের একাংশ। যাকে কেন্দ্র করে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছিল হাইকোর্টে। সেই মামলাতেই এবার টিউশন পড়ানো স্কুল শিক্ষকদের তালিকা তলব করল হাইকোর্ট।

ষষ্ঠী চট্টোপাধ্যায়, নিজস্ব প্রতিনিধিঃ- মামলাকারী পক্ষ প্রাইভেট টিউটর অ্যাসোসিয়েশনকে অভিযুক্ত শিক্ষকদের তালিকা জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছে বিচারপতি সুজয় পালের ডিভিশন বেঞ্চ। আজ মঙ্গলবার মামলা শুনানিতে ওই তালিকা পেশ করতে হবে। ঘটনা হল ২০১৮ সালে স্কুল শিক্ষকদের গৃহ শিক্ষকতা নিষিদ্ধ হওয়ার পরও এক শ্রেনীর স্কুল শিক্ষক সেই কাজে যুক্ত রয়েছেন। এমন অভিযোগ তুলে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছিল হাইকোর্টে। সেই মামলার প্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি টি এস শিবজ্ঞানমের ডিভিশন বেঞ্চ গত বছর নির্দেশে জানিয়েছিলেন, ২০১৮ সালের নির্দেশিকা কার্যকর করতে রাজ্যকে ব্যবস্থা নিতে হবে। মামলাকারী সংগঠনের আইনজীবী আশিস কুমার চৌধুরি জানিয়েছেন, ওই নির্দেশ কাগজে কলমেই রয়ে গিয়েছে। যে কারণে পরবর্তীতে আদালত অবমাননার মামলা দায়ের হয়। এবং ওই অদালত অবমাননার মামলার জেরে কমিশন রাজ্যের সমস্ত স্কুল পরিদর্শককে নির্দেশিকা জারি করে জানান, যে সমস্ত স্কুল শিক্ষক টিউশন পড়াচ্ছেন তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় পদক্ষেপ করতে হবে। অভিযোগ, তারপরও অবস্থা বিন্দু মাত্র পরিবর্তন হয়নি। চুটিয়ে টিউশন পড়িয়ে চলেছেন সরকারি ও সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষকদের একাংশ।
এই পরিস্থিতিতে ফের আদালতের দ্বারস্থ হয় মামলাকারী সংগঠন। সেই মামলার শুনানিতেই ওই শিক্ষকদের তালিকা তলব করার পাশাপাশি ডিভিশন বেঞ্চের নির্দেশ, কোন কর্তৃপক্ষ এই সংক্রান্ত নির্দেশিকা কার্যকর করতে পারবে তা জানাতে হবে রাজ্যকে। আজ মঙ্গলবার মামলার শুনানি।