ক্যামেরা চালু ছিল এবং নজরদারিতেও কোনও ঘাটতি হয়নি- এমনটাই দাবি কমিশনের।

সূচনা পল্য়ে, সাংবাদিক : সোমবার ভোট গণনা। শুরু হয়ে গিয়েছে কাউন্টডাউন। তাপমাত্রা মতোই চড়ছে উত্তেজনার পারদ। উত্তর ২৪ পরগনার বারাসত স্ট্রং রুমের বাইরে শনিবার সকাল থেকেই তৈরি হয় চাঞ্চল্য। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দু- সিসিটিভি। অশোকনগরের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী নারায়ণ গোস্বামী দাবি করেন, বেশ কিছু সময়ের জন্য স্ট্রং রুমের সিসিটিভি বন্ধ ছিল। খবর পেয়ে তিনি নিজেই ছুটে যান ঘটনাস্থলে এবং বিষয়টি নিয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানান। এই অভিযোগ সামনে আসতেই রাজনৈতিক উত্তেজনা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। স্ট্রং রুমের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করে শাসকদল। তবে নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য সম্পূর্ণ ভিন্ন। কমিশনের দাবি- স্ট্রং রুমের সিসিটিভি বন্ধ হয়নি, বরং শুধুমাত্র একটি টিভি মনিটর সাময়িকভাবে বন্ধ ছিল। অর্থাৎ, ক্যামেরা চালু ছিল এবং নজরদারিতেও কোনও ঘাটতি হয়নি- এমনটাই দাবি কমিশনের। এই দ্বন্দ্বের মধ্যেই প্রশ্ন উঠছে- যদি মনিটর বন্ধ থাকে, তাহলে কি লাইভ নজরদারি ব্যাহত হয়? আর সেই সুযোগে কোনও অনিয়মের সম্ভাবনা তৈরি হয় কি না- তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে।
ঘটনার পরই পরিস্থিতি সামাল দিতে মাঠে নামে প্রশাসন। স্ট্রং রুমের সামনে মোতায়েন করা হয় বিশাল কেন্দ্রীয় বাহিনী। এসডিপিও নিজে উপস্থিত থেকে পুরো পরিস্থিতির উপর নজর রাখছেন। এদিকে, অন্য রাজনৈতিক দলগুলিও সরব হয়েছে। ভারতীয় জনতা পার্টি-র পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে- তাদের প্রতিনিধিদের স্ট্রং রুমে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। তাদের দাবি, গেটে ধাক্কাধাক্কি হলেও প্রশাসন তাদের প্রবেশে বাধা দেয়, যা স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। অন্যদিকে অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে- যদি সত্যিই কোনও ব্যক্তি মনিটর বা সিস্টেম বন্ধ করে থাকে, তাহলে সেই ফুটেজ প্রকাশ করতে হবে এবং দায়ী ব্যক্তিকে অবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে। ফলে, ঘটনাটি এখন শুধুমাত্র প্রযুক্তিগত ত্রুটি নাকি বড় কোনও গাফিলতি- তা নিয়েই রাজনৈতিক লড়াই তীব্র হচ্ছে।

শনিবারের ঘটনায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও উত্তেজনা পুরোপুরি কাটেনি। স্ট্রং রুমে কড়া নজরদারি চলছে, এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন রয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে- সিসিটিভি সিস্টেম সম্পূর্ণ সক্রিয়, নিরাপত্তায় কোনও ফাঁক নেই, সমস্ত প্রোটোকল মেনে চলা হচ্ছে। তবে বিরোধী এবং শাসক- দুই পক্ষই এখন আরও স্বচ্ছতা চাইছে। সম্ভাব্য পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে- সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশের দাবি উঠতে পারে। ঘটনার তদন্ত হতে পারে। দায় নির্ধারণ করে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। কারণ, ভোটের পর স্ট্রং রুমের নিরাপত্তা অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয়। সেখানে সামান্য গাফিলতির অভিযোগও বড় রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হয়।
এর মধ্যেই নদীয়ার কল্যাণীতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়ায়। স্ট্রং রুমের ২০০ মিটারের মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিজেপির আলাদা আলাদা টেন্ট ঘিরে পুলিশের সঙ্গে বচসা শুরু হয়। পুলিশ প্রশাসনের তরফে জানানো হয়- নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে ২০০ মিটারের মধ্যে কোনও রাজনৈতিক টেন্ট রাখা যাবে না। কিন্তু সেই নির্দেশ ঘিরেই শুরু হয় দুই পক্ষের দড়িটানাটানি। তৃণমূল কংগ্রেসের বক্তব্য- তারা টেন্ট সরাবে না। অন্যদিকে বিজেপির স্পষ্ট অবস্থান- যতক্ষণ না তৃণমূল টেন্ট সরাচ্ছে, ততক্ষণ তারাও টেন্ট সরাবে না। ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। শেষ পর্যন্ত রানাঘাট জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এবং কল্যাণী থানার পুলিশ প্রশাসন হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। সব মিলিয়ে, বারাসত থেকে কল্যাণী- স্ট্রং রুম ঘিরে উত্তেজনা এখন একাধিক জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে। নিরাপত্তা, স্বচ্ছতা এবং নিয়ম মেনে চলা- এই তিনটি বিষয় নিয়েই এখন নজর প্রশাসন এবং রাজনৈতিক মহলের।