
আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : পাকিস্তান যখন জলের জন্য গলা ফাটাচ্ছে, সিন্ধু জলবন্টন চুক্তির কথা তুলে কাছে জলের দাবি করছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মিটিং চলছে। বারবার ভারতকে বিপাকে ফেলার চেষ্টা করছে পাকিস্তান। ঠিক তখনই পাকিস্তানে এমন কিছু ঘটল যা দু দেশের সম্পর্ককে ফের একবার প্রশ্ন চিহ্নের সামনে এসে দাঁড় করিয়েছে।
পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশে ১২৫ বছরের পুরনো একটি ঐতিহাসিক গুরুদ্বার ভেঙে ফেললেন সেখানকার এক ব্যবসায়ী। ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক। সংখ্যালঘু শিখ সম্প্রদায়ের বিক্ষোভের মধ্যেই এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করল ভারত। নয়াদিল্লির অভিযোগ, এটা একটি পবিত্র শিখ ধর্মস্থানের উপর পরিকল্পিত ভাঙচুরের ঘটনা। একইসঙ্গে ইসলামাবাদকে দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া এবং গুরুদ্বারটির ক্ষতিগ্রস্ত অংশ পুনর্নির্মাণের দাবি জানানো হয়েছে।
পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের ফারুকাবাদে অবস্থিত গুরুদ্বার শ্রী গুরু সিং সভা সাহিব গত ২৪ জুন রাতে ভেঙে ফেলা হয়। পাক প্রশাসনের দাবি, সংশ্লিষ্ট দফতরের প্রয়োজনীয় নো অবজেকশন সার্টিফিকেট না নিয়েই এক স্থানীয় ব্যবসায়ী এই ভাঙার কাজ চালান। যদিও এই ব্যক্তি ব্যবসায়ী না ল্যান্ড মাফিয়া সেই নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। পরে বিষয়টি সামনে আসতে শিখ সম্প্রদায়ের সদস্যরা প্রতিবাদে সামিল হন।
ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এক বিবৃতিতে বলেন, ১২৫ বছরের ঐতিহাসিক গুরুদ্বার ধ্বংসের খবর অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তাঁর অভিযোগ, স্থানীয় প্রশাসন এবং ইভাকুই ট্রাস্ট প্রপার্টি বোর্ড এই ঘটনায় কার্যকর পদক্ষেপ করেনি, যা চিন্তার বিষয়। ভারতের দাবি, এটি কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। পাকিস্তানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় এবং তাদের উপাসনাস্থলের উপর হামলার অভিযোগ অতীতেও বহুবার উঠেছে।
বিবৃতিতে ভারত পাক সরকারকে দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি গুরুদ্বার ভেঙে দেওয়া অংশ দ্রুত পুনর্নির্মাণ এবং সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিও জানানো হয়েছে। ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা ও সাম্প্রদায়িক হিংসার পরিবেশ বন্ধে ইসলামাবাদের দায়িত্ব পালনের উপরও জোর দিয়েছে নয়াদিল্লি।
দিল্লি সরকারের পরিবেশ মন্ত্রী সর্দার মনজিন্দর সিং সিরসা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন।
এদিকে শিখ সম্প্রদায়ের বিক্ষোভের পর বিষয়টি নিয়ে নড়েচড়ে বসে পাকিস্তানের পাঞ্জাব সরকার। মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজ ঘটনার রিপোর্ট তলব করেন। এরপর পাঞ্জাবের সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রী রমেশ সিং অরোরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে গুরুদ্বারটি পুনর্নির্মাণের ঘোষণা করেন।
তিনি শেখুপুরার ডেপুটি কমিশনার, স্থানীয় প্রশাসন এবং আউকাফ দফতরের আধিকারিকদের নিয়ে ঘটনাস্থলে যান এবং স্থানীয় শিখদের অভিযোগ শোনেন। তিনি দ্রুত তদন্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন এবং পুনর্নির্মাণের কাজ অবিলম্বে শুরু হবে বলেও জানিয়েছেন।
তবে এই সিদ্ধান্তে আপত্তি তুলেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীদের একাংশ। তাঁদের দাবি, প্রায় ৮০ বছর ধরে গুরুদ্বারটি পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল। সেই সময়ের মধ্যে বহু পরিবার সেখানে বসবাস শুরু করেছে এবং একাধিক দোকানও গড়ে উঠেছে তাতে। গুরুদ্বার পুনর্নির্মাণ হলে বহু পরিবার উচ্ছেদের মুখে পড়তে পারে। তাই পুনর্বাসন এবং বিকল্প জীবিকার ব্যবস্থা না করে কোনও পদক্ষেপ না নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন তাঁরা।
পহেলগাঁও হত্যাকাণ্ড এবং অপারেশন সিঁদুর অভিযান পরবর্তী সময়ে ভারত ও পাকিস্তানের কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও খারাপ হয়েছে। সন্ত্রাসবাদে মদত এবং সংখ্যালঘু নিপীড়নের অভিযোগে বার বার পাকিস্তানকে নিশানা করেছে ভারত। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মঞ্চেও এ নিয়ে ইসলামাবাদকে তুলোধনা করেছে নয়াদিল্লি। এ বার সে দেশের সংখ্যালঘুদের পরিস্থিতি নিয়ে ফের পাকিস্তানকে বিঁধল ভারত।
শেষে একটাই প্রশ্ন-কেন বারবার পাকিস্তানে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বারবার টার্গেট করা হচ্ছে, সে দেশের শেহবাজ শরিফ প্রশাসন কি এসব কিছুই দেখতে পান না বা দেখতে চান না।