ঐতিহাসিক অভূতপূর্ব জয় : প্রধানমন্ত্রী

“বছরের পর বছর পরিশ্রম যখন সাফল্যে রূপান্তরিত হয়, তখন মানুষের মুখে যে আনন্দ দেখা যায়, আজ দেশের বিজেপি কর্মীদের মুখেও সেই আনন্দই দেখছি।”

মাম্পি রায়, সাংবাদিক : অঙ্গ, কলিঙ্গের পর অবশেষে বঙ্গ জয়। বাংলা যখন ইতিহাস গড়ার পথে ঠিক তখন ‘বাংলাবিরোধী’ তকমা কাটিয়ে কোচা দেওয়া ধুতি পাঞ্জাবি পরে একেবারে বাংলার জামাইয়ের সাজে টিভি স্ক্রিনে আবির্ভূত হলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দেশজোড়া মানুষের চোখ তখন টিভি স্ক্রিনে। দিল্লিতে বিজেপি সদর দফতরে পৌঁছে অসংখ্য ভক্ত তখন জয় শ্রীরাম, ভারত মাতা কী জয়, মোদী মোদী স্লোগান তুলছেন। ঠিক সেই সময় মঞ্চে হাজির হলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গ, অসম ও পুদুচেরিতে এই জয় “ঐতিহাসিক” ও “অভূতপূর্ব” । তিনি বলেন, “এই ফলাফল দেশের মানুষের “পারফরম্যান্সের রাজনীতি”-র উপর আস্থার প্রতিফলন। আজকের দিনটি ঐতিহাসিক। বছরের পর বছর পরিশ্রম যখন সাফল্যে রূপান্তরিত হয়, তখন মানুষের মুখে যে আনন্দ দেখা যায়, আজ দেশের বিজেপি কর্মীদের মুখেও সেই আনন্দই দেখছি।” তাঁর কথায়, “এটি শুধু একটি জয়ের দিন নয়, এটি দেশের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের ঘোষণা। এটি বিশ্বাসের দিন—ভারতের গণতন্ত্রের প্রতি বিশ্বাস, কাজের রাজনীতির প্রতি বিশ্বাস এবং ‘এক ভারত শ্রেষ্ঠ ভারত’-এর চেতনায় বিশ্বাস।”

দলীয় কর্মীদের ভূয়সী প্রশংসা করে মোদী বলেন, ছোট-বড় প্রত্যেক কর্মীর নিরলস প্রচেষ্টাতেই “পদ্মফুল ফুটেছে”। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, এই নির্বাচনগুলি ছিল দলের নতুন সভাপতি নিতিন নবীনের নেতৃত্বে প্রথম বড় পরীক্ষা। বিজেপি সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটা ছিল তাঁর বড় পরীক্ষা। তাঁর নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশকে “অমূল্য” বলেও ব্যাখ্যা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

প্রধানমন্ত্রী জানান, “পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়ের পর শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের আত্মা শান্তি পেল। পশ্চিমবঙ্গে এই প্রথম বার ভয় নয়, গণতন্ত্র জিতল। ”

মোদী বলেন, “খালি গণতন্ত্র নয় ভারতের সংবিধানও জয়ী হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ৯৩ শতাংশ ভোটদান হওয়াটা ঐতিহাসিক ছিল। অসম, তামিলনাড়ু, পুদুচেরি ও কেরলমেও নতুন রেকর্ড হয়েছে। ভোটদানে মহিলাদের অংশগ্রহণও উল্লেখযোগ্য ছিল। এই নির্বাচনের সঙ্গে যুক্ত সরকারি কর্মী, সেনাবাহিনী, নির্বাচন কমিশন, সকলকে ধন্যবাদ। ভারতের গণতন্ত্রকে বজায় রাখতে আপনাদের অংশগ্রহণ গোটা ভারত মনে রাখবে। জয় পরাজয় গণতন্ত্র ও ভোটদানের রাজনীতির স্বাভাবিক অংশ। কিন্তু ৫ প্রদেশের জনতা গোটা বিশ্বকে দেখাল, এটা আমাদের ভারত, যার গণতন্ত্র সর্বশ্রেষ্ঠ। এটা আমাদের ধমনীতে বইতে থাকা সংস্কার। আর বাংলার জয়ের সঙ্গে গঙ্গোত্রী থেকে গঙ্গাসাগর পর্যন্ত ফুটেছে পদ্ম। উত্তরাখণ্ড, উত্তরপ্রদেশ, বিহারের পর এবার পশ্চিমবঙ্গ। মা গঙ্গার তীরে থাকা এই রাজ্যগুলিতেও সরকার গড়ল এনডিএ। এটা মা গঙ্গার আশীর্বাদ ছাড়া কিছু নয়। ”

পশ্চিমবঙ্গ, অসম ও পুদুচেরির পাশাপাশি তামিলনাড়ু ও কেরলেও ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে মোদী বলেন, “আমি বিনম্রভাবে এই সমস্ত রাজ্যের মানুষকে প্রণাম জানাই। তাঁদের আশীর্বাদেই এই সাফল্য সম্ভব হয়েছে।” কেরলে বিজেপির আগের তুলনায় উন্নত ফলাফলকেও তিনি ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখেন।

এ দিনের উপনির্বাচনের ফল নিয়েও আশাবাদী প্রধানমন্ত্রী। মহারাষ্ট্র, গুজরাত, নাগাল্যান্ড ও ত্রিপুরায় বিজেপি ও এনডিএ প্রার্থীদের জয়ের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই ফলাফল দলের প্রতি মানুষের ক্রমবর্ধমান সমর্থনেরই প্রমাণ। বিশেষ করে মহারাষ্ট্রে এনডিএ নেত্রী ও উপমুখ্যমন্ত্রী সুনেত্রা পওয়ারের জয়কে তিনি “বাঁধভাঙা জয়” বলেও উল্লেখ করেন।

সব মিলিয়ে, মোদীর বক্তব্যে স্পষ্ট—এই নির্বাচনী ফলাফলকে তিনি শুধু রাজনৈতিক সাফল্য হিসেবেই নয়, বরং দেশের গণতান্ত্রিক শক্তি ও উন্নয়নমুখী রাজনীতির প্রতি জনসমর্থনের এক বড় বার্তা হিসেবেই তুলে ধরতে চাইছেন।