
অনুসূয়া দাস, নিজস্ব সংবাদদাতা: হোয়াই সো হাঙ্গরি? এত তাড়াহুড়ো কেন? ডিএমদের ভয় দেখাচ্ছো কেন? মানুষকে বন্ডেড লেবার বানাতে চাইছো? কৃষ্ণনগরের রাজনৈতিক জনসভা থেকে কাকে সো হাঙ্গরি বলে সম্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়? কখন কী বিষয়ে পাবলিক মিটিং করা উচিত.. সেটাই বা ধমক দিয়ে কাকে বোঝাতে গেলেন তিনি ? সভা থেকে কাকেই বা ভয় না পাওয়ার জন্য আশ্বস্ত করলেন ? সম্মান রক্ষা করবেনও বলেন তিনি। কিন্তু কার সম্মান রক্ষা করবেন স্বয়ং তৃণমূল সুপ্রিমো।
এসআইআর আবহে তপ্ত বঙ্গ রাজনীতি। এরই মাঝে নদিয়ার কৃষ্ণনগরে সভা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। নদিয়ার কৃষ্ণনগর। এই লোকসভা কেন্দ্রটি ১৯৬৭ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই রাজনৈতিক মতাদর্শের যুদ্ধক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। এটি পশ্চিমবঙ্গের ৪২টি লোকসভা কেন্দ্রের মধ্যে একটি। বছরের পর বছর ধরে, এখানে ক্ষমতার গতিশীলতায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। যা পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক দৃশ্যপটের পরিবর্তনশীল জোয়ারকে প্রতিফলিত করে। ১৯৯৯ সালে রাজনৈতিক গতিধারা নাটকীয়ভাবে পরিবর্তিত হয় যখন বিজেপির সত্যব্রত মুখার্জি সিপিআইএম-এর আধিপত্য ভেঙে নির্বাচনে জয়লাভ করেন। ২০০৪ সালে ঘটে আবার উলটপূরাণ। সিপিআই(এম) এর জ্যোতির্ময়ী সিকদার আসনটি পুনরুদ্ধার করেন। ধীরে ধীরে সেই গড়ে আধিপত্য বিস্তার করতে শুরু করে ঘাসফুল শিবির। পরবর্তী বছরগুলিতে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতি সমর্থন বৃদ্ধি পায়। যার পরিণামস্বরূপ ২০০৯ সালে তাপস পালের জয়লাভ। অভিনেতা থেকে রাজনীতিবিদে পরিণত হওয়া তাপস পাল তার ক্যারিশমা দেখাতে শুরু করেন। পরপর দুটি ভোটে তাঁর দখলে কেন্দ্রটি রাখেন অভিনেতা। পরে তৃণমূলেরই মহুয়া মিত্র সেই জায়গাটি নেন। এতো গেল লোকসভা ভোটের প্রসঙ্গ।
নানা রাজনৈতিক পট পরিবর্তন লেগেই রয়েছে রাজ্যে। বিশেষ করে নদিয়ার কৃষ্ণনগরে। বিধানসভা ভোটের ফলাফল দেখতে গেলে ২০১৬ সালে এই নদিয়া জেলায় হাড্ডাহাড্ডি ফলাফল দেখা গিয়েছিল। সেই সময় বঙ্গে ISF, BJP-র মতো শক্তি মাথা চারা দিতে শুরু করে। ২০১৬ সালের বিধানসভা ভোটে নদিয়া জেলার ১৭টি আসনের মধ্যে তৃণমূল পেয়েছিল ১৩টি আসন। কংগ্রেস জিতেছিল মাত্র ৩ টি আসনে। আর বামেরা পেয়েছিল মাত্র ১ টি আসন। যদিও কংগ্রেসের ৩ বিধায়কই পরে যোগ দিয়েছিলেন তৃণমূলে। ২০১৬ সালে যে গড়ে ম্যাজিক ফিগার ছাপিয়ে উপটে পড়েছিল ঘাসফুলের জয়জয়কার। সেই জায়গায় ২০২১ সালে যেন তৃণমূলের নৌকার পালে হাওয়া থমকে যায়। একেবারে বিনা যুদ্ধে সুচ্যগ্র মেদিনী না দেওয়ার মতো লড়াই চালিয়েও রক্ষা হয়নি।। ১৭টি আসনের মধ্যে ৯টি আসনে জয় ছিনিয়ে নেয় বিজেপি। ৮টি আসন যায় তৃণমূলের দখলে। সবুজ আবিরকে ফিকে করে বাতাসে জায়গা দখল করে নেয় গেরুয়া আবির।
রাজার গড়ে কখনও গেরুয়া ঝড়, আবার কখনও সবুজ ঝড়। কিন্তু ২০২৬-র ভোটে কী হবে। ১৭টি আসনেই জিততে আগেভাগে ময়দানে নেমে পড়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কৃষ্ণনগর থেকে এসআইআর থেকে সুর চড়ান মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, ‘বিজেপির আইটি সেল ভোটার লিস্ট তৈরি করে দেবে, সেই লিস্ট ধরে ভোট করবেন? এটাই ইচ্ছা তো। বিহারে যা করেছেন, বাংলায় হবে না। এজেন্সি দিয়েও নয়। ওদের আপনারা বাধ্য করেছেন বিজেপিতে পরিণত করতে। এটা দেশের পক্ষে ভাল নয়। মনে রাখবেন, মানুষ সরকার নির্বাচিত করে, ইলেকশন কমিশন নয়।
এদিন সরাসরি নির্বাচন কমিশনকে আক্রমণ মুখ্যমন্ত্রীর। বলেন, ‘ইলেকশন এখনও ডিক্লেয়ার হয়নি। তুমি ডিএমদের ভয় দেখাচ্ছো কেন? মানুষকে বন্ডেড লেবার বানাতে চাইছো। আমরা তো বলেছিলাম, সময় নিয়ে এসআইআর করো, তাড়াহুড়ো কেন? হোয়াই সো হাঙ্গরি? ভোটের জন্য।
এরপরেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে আক্রমণ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘দেশে একজন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রয়েছেন। তাঁর চোখ দুটো ভয়ঙ্কর। দেখলেই মনে হয়, দুর্যোগ। ওর এক চোখে দুযোর্ধন আর এক চোখে দুঃশাসন।’
কেন্দ্রের বিরুদ্ধে বঞ্চনার অভিযোগও তোলেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যতই ভাল কাজ করি, কেন্দ্র টাকা আটকে দেয়। মণীষীদের অপমান করে। আসলে এরা বাংলাবিদ্বেষী। এসআইআর থেকে গীতাপাঠের অনুষ্ঠান নিয়ে বারে বারে বিজেপির বিরুদ্ধে সরব মুখ্যমন্ত্রী। কমিশনের বিরুদ্ধেও তুলেছে আঙুল। কিন্তু বঙ্গে এসআইআরের পর ২০১১ র মতো আবার কী বঙ্গের রাজনীতিতে হতে চলেছে উলটপূরান। প্রশ্ন তুলছেন রাজনীতির কারবারিরা।