হাসপাতালই রোগের আঁতুড় ঘর!

হাসপাতাল চত্বরে আবর্জনার স্তূপ। ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালে উদ্বেগজনক ছবি !

বিশ্বজিৎ নস্কর, নিজস্ব সংবাদদাতা: চরম নোংরা ও আবর্জনার স্তূপ জমে রয়েছে হাসপাতাল চত্বরে। মশা, মাছি ভনভন করছে। এমনকি কুকুর, বিড়ালেও সেই আবর্জনা মুখে করে টেনে নিয়ে যাচ্ছে এবং বিভিন্ন জায়গায় ছড়াচ্ছে সেই আবর্জনা। ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালের মাতৃমা বিভাগের অনতি দূরে শিশুদের বহিঃবিভাগ। তার একেবারে পাশেই দিনের পর দিন জমা হচ্ছে হাসপাতালে ব্যবহৃত রক্তমাখা গজ, গ্লাভস, সিরিঞ্জ সহ আরও অন্যান্য বেশ কিছু চিকিৎসা সামগ্রী। কিন্তু এসব পরিস্কারের কোনও উদ্যোগই নেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ। হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে আসা রোগী ও তাঁদের আত্মীয়রা যথেষ্ট ক্ষুব্ধ এই ঘটনায়।  

প্রায় এক মাস ধরে এই নোংরা আবর্জনা সরানো হচ্ছে না বলে প্রায়শই অভিযোগ করছেন রোগী এবং তাঁদের পরিজনরা। এদিকে প্রতিদিনই হাসপাতালের নতুন বর্জ্য এখানে এসে জমা পড়ছে। বর্জ্য রাখার ঘরগুলি ভর্তি হয়ে তা রাস্তায় ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে ইতিমধ্যেই। আর সেখান থেকেই কুকুর বিড়াল সহ নানা ধরনের গবাদি পশু সেই আবর্জনার স্তূপ থেকে অবর্জনা টেনে নিয়ে যাচ্ছে। এদিকে মশা, মাছিও বসেছে সেই আবর্জনার স্তূপে। কিন্তু দিনের পর দিন এই ঘটনা ঘটলেও এই আবর্জনা পরিস্কারের কোন উদ্যোগ হাসপাতালের তরফ থেকে নেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ।

হাসপাতাল সুপার পার্থ সারথি কয়াল জানাচ্ছেন, “হাসপাতালের বায়োমেডিক্যাল আবর্জনা একটি কোম্পানি নিয়ে যায়। অন্যান্য আবর্জনা পঞ্চায়েতের তরফে তুলে নিয়ে যায়। কিন্তু ১ মাস ধরে অন্যান্য আবর্জনা তোলা হচ্ছে না। ইতিমধ্যে বিডিও এবং এসডিও সাহেবকে জানানো হয়েছে। চিঠিও দেওয়া হয়েছে।“

 কিন্তু কবে সমস্যার সুরাহা হবে, তার আশ্বাস এখনও মেলেনি বলে জানাচ্ছেন হাসপাতাল সুপার পার্থ সারথি কয়াল

দীর্ঘদিনের আবর্জনা জমা হওয়ার কারণে এলাকা অপরিস্কার। ফলে বাড়ছে রোগজীবাণু, মশা মাছির উপদ্রব। ক্যানিং পশ্চিমের বিধায়ক পরেশ রাম দাস জানাচ্ছেন “শীঘ্রই হাসপাতাল পরিদর্শন করবো। মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে লিখিত অভিযোগ জানাবো। প্রতিদিন মাতৃমা থেকে শুরু করে সিসিইউতে যেভাবে মানুষ মারা যাচ্ছেন। ডিজিটাল এক্স রে, সিটি স্ক্যান সহ বিভিন্ন পরিষেবা চালু করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। ক্যানিং হাসপাতালকে একেবারে অকেজো করে দিয়েছে হাসপাতাল সুপার, এলাকার চেয়ারম্যান এবং আরকেএইচ বডি।”

হালিমা মণ্ডল, চিকিৎসা করাতে আসা রোগীর বাড়ির সদস্য