যারা এখনও লক্ষ্মীর ভান্ডারে সুবিধা পাননা তারা কী করবেন? কোথায় গিয়ে অ্যাপ্লাই করবেন ?

স্বাগতা চন্দ্র সাহা, সাংবাদিক : ২৬ -এর ভোটের আগে এই উচ্ছ্বাস এই খুশি সবটাই কি তৃণমূলের ভোটবাক্সে যাচ্ছে। ভোট ঘোষণার আগেই তৃণমূল সুপ্রিমো কি খেলা জমিয়ে দিলেন ঘরের লক্ষ্মীদের খুশি করে। একধাক্কায় লক্ষ্মীর ভান্ডারের ভাতা বৃদ্ধি করে মুখ্যমন্ত্রী কি বোঝাতে চাইলেন ঘরের মা বোনেরাই তাঁর ভোটে জেতার ট্রাম্প কার্ড। একধাক্কায় ৫০০ টাকা বাড়ল লক্ষ্মীর ভান্ডারের টাকা। কবে হাতে পাবেন সেই টাকা। আর নতুনরা কীভাবে পাবেন লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা। কোথায় গিয়ে অ্যাপ্লাই করবেন। সব জানতে শেষ পর্যন্ত দেখুন এই ভিডিও। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃতীয় তৃণমূল সরকারের এটাই শেষ বাজেট। কেনই বা মহিলা ভোট ধরে রাখতে এতটা মরিয়া তৃণমূল সরকার। শুধু তৃণমূল সরকার না রাজ্যের সব রাজনৈতিক দলগুলিই মহিলা ভোট পেতে মরিয়া কেন জানেন। মেয়েদের কে কি শুধুই লক্ষ্মী বলা হয়। তাঁরা কাজেও লক্ষ্মী। কথায় বলে সংসার সুখের হয় রমণীর গুনে। এতো দেখছি ভোট বাক্সেও রমণীদের গুনগান। ৫০০ টাকা বেড়ে যাওয়ায় খুশি ঘরের লক্ষ্মীরা। রীতিমতো উৎসবের আমেজ ঘরে ঘরে…

তৃণমূল সরকারের অন্যতম জনপ্রিয় প্রকল্প লক্ষ্মীর ভান্ডার। কারণ রাজ্য সরকারের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০২৪ সালের ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত প্রায় ২কোটি ১৫ লক্ষ মহিলাকে এই প্রকল্পের সুবিধা দেওয়া হয়। বর্তমানে সেই সংখ্যা আরও বড়ানোর কথা বলছে তৃণমূল সরকার। এই প্রকল্পে বাংলার মহিলারা যাদের বয়স ২৫ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে তারা বর্তমানে ১ হাজার ও তফসিলি জাতি উপজাতি ভুক্তরা পান ১২০০ টাকা করে। বিধানসভা ভোটের আগে ভোট অন অ্যাকাউন্ট পেশ করে ৫০০ টাকা ভাতা বৃদ্ধি করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অর্থাৎ সাধারণ ঘরের মহিলারা পাবেন ১৫০০ টাকা ও তফসিলি জাতি উপজাতি ভুক্তরা পাবেন ১৭০০ টাকা। চলতি মাস থেকে বাড়ানো হল ভাতা। মার্চ মাসেই ঘরের লক্ষ্মীরা পেয়ে যাবেন বাড়তি টাকা।
যারা ভাতা প্রাপক তাদের তো মুখে হাসি ফুটেছে। কিন্তু যারা এখনও লক্ষ্মীর ভান্ডারে সুবিধা পাননা তারা কী করবেন? কোথায় গিয়ে অ্যাপ্লাই করবেন ? তা নিয়েও অনেকেই বিভ্রান্ত। দুয়ার সরকার কর্মসূচিতে এই প্রকল্পে নাম নথিভুক্ত করা যায়। তাছাড়াও অনলাইনের মাধ্যমেও হয় এই জনপ্রিয় সামাজিক প্রকল্পের নাম নথিভুক্ত করা যায়। কীভাবে সেটাই বলবো আপনাদের। অনলাইনে বিভিন্ন ভাবে আপনি আবেদন করতে পারেন। সাইবার ক্যাফেতেও গিয়েও আবেদন করতে পারেন। অনলাইনের মাধ্যমে ফর্মটি ডাউনলোড করে সেটি ফিলাপ করবেন। তবে দেখে নেবেন যেন সেটা আপডেট ফর্ম হয়। অর্থাৎ ২০২৬ এর। ফর্মটি অফলাইন যথাযথ ফিলাপ করে, নিয়মানুসারে দেওয়া ডকুমেন্টস অ্যাটাচ করে এসডিও অফিসে জমা করতে পারেন। এছাড়াও যারা বারবার অ্যাপ্লাই করে নাম নথিভুক্ত করতে পারছেন না কোনও সমস্যা রয়েছে তাঁরা একটি ক্লিক ও ফোন কলের মাধ্যমে নাম নথিভুক্ত করতে পারেন। কোথায় যাবেন । গুগুল সার্চে গিয়ে লিখবেন cmowb.gov.in। সার্চ করলে মুখ্যমন্ত্রীর ওয়েবসাইটে গিয়ে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর যে ফোন নম্বর রয়েছে তাতে কল করেও আপনি লক্ষ্মী ভান্ডার সংক্রান্ত অভিযোগ জানাতে পারেন। নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুসারে রাজ্যে মহিলা ভোটারের সংখ্যা এখন ৩ কোটি ৭৬ লক্ষ ৬১১ জন। আর পুরুষ ভোটারের সংখ্যা প্রায় ৩ কোটি ৮৭ লক্ষ ৯৩ হাজার ৭৪৩ জন। ২৪ লোকসভা ভোটে দেওয়া তথ্য অনুসারে কমেছে পুরুষদের থেকে মহিলা ভোটারের ব্যবধান। অতএব মহিলা ভোট ঝুলিতে পুড়তে পারলেই কেল্লাফতে। তাই ঘরের লক্ষ্মীদের খুশি করতে চেষ্টার ত্রুটি নেই রাজনৈতিক দলগুলির। তবে ভোটের আগে লক্ষ্মী ভান্ডার প্রকল্পের টাকা বাড়িয়ে মাষ্ট্রার স্ট্রোক দিয়ে দিয়ে দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।