পথ দেখাচ্ছে GIMSH, স্বাস্থ্য পরিষেবায় আমূল বদল !

প্রায় ৯০০ থেকে ১০০০ শয্যাবিশিষ্ট গৌরী দেবী ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেস অ্যান্ড হাসপাতালে মিলছে নানান বিশেষ পরিষেবা।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : দীর্ঘদিন ধরেই ভারতে উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা মূলত বড় শহরগুলিতেই সীমাবদ্ধ ছিল। ফলে জেলা বা মফস্বল এলাকার বহু মানুষকে অসুখ হলেই ছুটে যেতে হত কলকাতা বা অন্যান্য বড় শহরগুলিতে। সময়, খরচ এবং যাতায়াতে সমস্যার জেরে অনেককেই পিছিয়ে আসতে হত।

কিন্তু এবার সেই দুর্দশার ছবিতে বদল আনল পশ্চিম বর্ধমানের দুর্গাপুরের গৌরী দেবী ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেস অ্যান্ড হাসপাতাল (GIMSH). ২০১৬ সালে রাহুল ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে রাজবাঁধ এলাকায় গড়ে উঠেছে এই হাসপাতাল। যা এখন জেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসাকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।

প্রায় ১০০ একর বিস্তৃত ক্যাম্পাসে তৈরি এই চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে প্রায় ৯০০ থেকে ১০০০ শয্যাবিশিষ্ট। আধুনিক আইসিইউ, জরুরি বিভাগ এবং বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা পরিষেবা মিলছে এই গৌরী দেবী ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেস অ্যান্ড হাসপাতালে। প্রতিদিন গড়ে ১৫০০ থেকে ১৬০০ জনের বেশি রোগী বহির্বিভাগে চিকিৎসা পরিষেবা নিতে আসেন বলে হাসপাতাল সূত্রে খবর।

চিকিৎসকরা মনে করছেন, এই পরিষেবার ফলে আগামীদিনে স্থানীয় বাসিন্দাদের চিকিৎসার জন্য আর বড় শহরে ছুটে যেতে হবে না। নানা ধরনের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা মিলছে এই বহির্বিভাগে। হৃদরোগ, কিডনি রোগ, ক্যানসার, স্নায়ুরোগ, ইউরোলজি বা গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজির মতো বিভিন্ন বিভাগের পরিষেবা এখন মিলছে দুর্গাপুরের GIMSH-এ। এতে সময় যেমন বাঁচছে, তেমনই দ্রুত চিকিৎসা শুরু করায় রোগী দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠছেন।

তবে শুধু উন্নত পরিকাঠামো থাকলেই যে চিকিৎসা পরিষেবা সাধারণ মানুষের নাগালে আসে, তা নয়। খরচও একটি বড় বিষয়। সেই দিকটি মাথায় রেখেই বিভিন্ন সরকারি স্বাস্থ্য প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে হাসপাতালটি। কেন্দ্রের আয়ুষ্মান ভারত এবং রাজ্যের স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের মতো একাধিক স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্পের সুবিধা মিলছে দুর্গাপুরের গৌরী দেবী ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেস অ্যান্ড হাসপাতালে।

এর ফলে অনেক ক্ষেত্রে নগদ খরচ ছাড়াই চিকিৎসার সুযোগ পাচ্ছেন আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া রোগীরাও। এখানেই শেষ নয়, বেশ কিছু ক্ষেত্রে আর্থিকভাবে দুর্বল রোগীদের জন্য বিশেষ সাহায্য বা ছাড়ের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে বলে দাবি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের।

জিআইএমএসএইচ (GIMSH) একটি মেডিক্যাল কলেজ হিসেবেও কাজ করছে। এখানে প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক এমবিবিএস পড়ুয়া ভর্তি হন। পাশাপাশি বিভিন্ন স্নাতকোত্তর কোর্সেও শিক্ষার সুযোগ রয়েছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি মেডিক্যাল কলেজ স্থানীয় চিকিৎসা ব্যবস্থার উপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলে। কারণ, পড়ুয়া এবং প্রশিক্ষণরত চিকিৎসকেরা দীর্ঘ সময় ওই অঞ্চলে কাজ করেন। ফলে এলাকার রোগের ধরণ, সামাজিক বাস্তবতা এবং মানুষের প্রয়োজন সম্পর্কে তাঁরা সরাসরি অভিজ্ঞতা সংগ্রহ করতে পারেন। অনেকক্ষেত্রে এই চিকিৎসকদের একাংশ আবার ওই এলাকায় চিকিৎসা পরিষেবা চালু করেন।

স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষকদের মতে, জেলা শহরে উন্নত চিকিৎসা পরিকাঠামো গড়ে উঠলে তার প্রভাব অনেক দূর পর্যন্ত পৌঁছয়। স্থানীয় মানুষের চিকিৎসা সহজ হওয়ার পাশাপাশি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উপর চাপও কমে। তেমনই ধীরে ধীরে দুর্গাপুরের গৌরী দেবী ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেস অ্যান্ড হাসপাতালও (GIMSH) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশিষ্টদের একাংশ।