জঙ্গি হামলার মোকাবিলা কীভাবে?

হাওড়া স্টেশনে আচমকা জঙ্গি হামলা হলে কীভাবে মোকাবিলা? গভীর রাতে বিশেষ মহড়া চালাল এনএসজি।

রণজিৎ রায়, নিজস্ব সংবাদদাতা

ব্যস্ত রেলস্টেশন হাওড়ায় আচমকা জঙ্গি হামলার মতো পরিস্থিতি তৈরি হলে কীভাবে তা মোকাবিলা করা হবে, তারই প্রস্তুতি যাচাই করতে গভীর রাতে বিশেষ মহড়া চালাল জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষী বাহিনী বা এনএসজি।

গত মঙ্গলবার মাঝরাতে হাওড়া স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে থাকা একটি বন্দে ভারত এক্সপ্রেসে আচমকা জঙ্গি হামলা হয়েছে—এমন কাল্পনিক পরিস্থিতি তৈরি করে এই মহড়া চালানো হয়। মহড়ায় এনএসজি ছাড়াও আরপিএফ, রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স, রাজ্য পুলিশ এবং দমকলের আধিকারিকরা যৌথভাবে অংশ নেন।

এনএসজি-র ২৯ নম্বর স্পেশাল কম্পোজিট গ্রুপের সদস্যরা এই বিশেষ মহড়ায় অংশগ্রহণ করেন। কাল্পনিক সঙ্কটপূর্ণ পরিস্থিতিতে বিভিন্ন নিরাপত্তা ও জরুরি পরিষেবা সংস্থার মধ্যে দ্রুত তথ্য আদানপ্রদান, পারস্পরিক সমন্বয় এবং শৃঙ্খলা বজায় রেখে কীভাবে অভিযান পরিচালনা করা হবে, মূলত সেই বিষয়গুলিই মহড়ার মাধ্যমে অনুশীলন করা হয়।

হাওড়ার মতো দেশের অন্যতম ব্যস্ত রেলস্টেশনে কোনও বড় ধরনের সঙ্কট তৈরি হলে বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে দ্রুত ও কার্যকর সমন্বয় কতটা গুরুত্বপূর্ণ, সেই প্রস্তুতিকেই সামনে রেখে এই মহড়া বলে জানা গিয়েছে।

এনএসজি’ র তরফে জানানো হয়েছে, শুধুমাত্র জঙ্গি মুক্ত করায় এই মহড়ার লক্ষ্য নয়। সঙ্কটের পরিস্থিতিতে বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয়, দ্রুত তথ্য আদান-প্রদান এবং তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ার পদ্ধতি যাচাই করাই ছিল এই মহড়ার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

বাস্তব পরিস্থিতির আদলে তৈরি এই মহড়ার মাধ্যমে জরুরি অবস্থায় সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির নির্ধারিত দায়িত্ব পালন এবং মিলিতভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতিও পরীক্ষা করা হয়। দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রেল পরিকাঠামো হাওড়া স্টেশনে সম্ভাব্য সন্ত্রাসবিরোধী পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিরাপত্তা প্রস্তুতি আরও জোরদার করতেই এই মহড়া বলে জানানো হয়েছে এনএসজির তরফে।