অবলাদের ভাষা ফুটিয়ে তুলতে ‘নির্বাক’

রণজিৎ রায়, নিজস্ব সংবাদদাতামানুষ মানুষকে বিশ্বাস করতে পারে না। কিন্তু মানুষের সবথেকে বিশ্বাসী বন্ধু হল কুকুর। আর এই কুকুরের ভরসাতেই মানুষ তার সর্বস্ব ছেড়ে ঘুরে বেড়িয়ে আসতে পারে। ঘরে পালিত হোক বা রাস্তায় দুদিন বিস্কুট খাওয়ানো কুকুর। যেকোনও সমস্যায় পড়লে মানুষ না এলেও, দৌড়ে আসে ওরাই।  বিশ্বস্ত সারমেয়দের কষ্টের কথা তুলে ধরা হল মণ্ডপের আঙ্গিকে। হাওড়ার বেলুড় যুব সমাজের পুজোর থিম – নির্বাক।

 যারা কথা বলতে পারে না। নিজেদের কষ্ট কাউকে বোঝাতে পারে না, এই থিম তাদেরকে নিয়েই তৈরি। অবলা জীব যেমন পথ কুকুর, বিড়াল, বিভিন্ন ধরনের পাখি, গরু, ছাগল ইত্যাদি। এদের মনের কথাই তুলে ধরা হয়েছে থিমসজ্জায়।

মনুষ্য সভ্যতা সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে রয়েছে এই সকল অবলা জীবেরা। আর তাদের দুঃখ কষ্ট রোগ-বিরোগ সবকিছুই প্রায় মানুষের সমান সমান হয়। কিছু পশুপ্রেমী আছে যারা এই অবলা জীবদের পাশে দাঁড়ান। আবার কিছু মানুষও আছেন, যাঁরা এই অবলা জীবগুলোকে সহ্য করতে পারেন না। তার ফলে বিভিন্ন ধরণের অত্যাচার, নৃশংসতার ছবি উঠে আসে বিভিন্ন সময়ে। সেই কারণেই আহত এবং অসুস্থ হয়ে পড়ে এই অবলা প্রাণীগুলো। বেলুড় যুব সমাজের এবারের উদ্যোগ হল এই অবলা জীবদের পাশে দাঁড়ানো। তাদেরকে নিজেদের খাবার খাওয়ানোর ব্যবস্থা করা। যদি অসুস্থ কোনও অবলা জীবকে দেখেন, তাহলে তাদের ন্যূনতম চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হোক। এই বার্তা দিতেই এবারে থিম “নির্বাক।

এমনও দেখা গিয়েছে কিছু মানুষ বা শিশু, কুকুরদের দেখলে পাথর ছোঁড়ে, লাঠি দিয়ে মারে, অকারণে গায়ে জল ঢেলে দেয়। এর ফলে পথে-ঘাটে বিভিন্ন জায়গায় প্রাণ হারাতে হয় অবলা প্রাণীদের। তবে এমন বহু পশুপ্রেমীও আছেন, যারা নিজেদের টাকায় এই সকল অবলা জীবদের দুবেলা খাবার ব্যবস্থা করেন। অবলা প্রাণীরা অসুস্থ হলে, তারা নিজেদের দায়িত্বে ওই পশুদের চিকিৎসাও করান। সকালে মাঠেঘাটে বা নিজের বাড়ির ছাদে উড়ে বেড়ানো পায়রাকেও খাবার দেন অনেকে। জলের ব্যবস্থাও করেন। সেই খাবার খেতে ঝাঁকে ঝাঁকে পায়রা ভিড় করে তাদের ছাদে। এমন মনোরম দৃশ্য দেখতে কার না ভালো লাগে। বেলুড় সবুজ যুব সমাজও এই বার্তাই তুলে ধরেছে নিজেদের পুজোর থিমসজ্জায়। থিমের সঙ্গে সাযুজ্য রেখে তৈরি হয়েছে প্রতিমা। এখানে মায়ের হাতে অস্ত্র নেই। মা দুর্গা এখানে মাতৃরূপেণ সংস্থিতা। এমন সুন্দর থিমসজ্জা ও প্রতিমাসজ্জা দেখতে কাতারে কাতারে ভিড় জমাচ্ছেন মানুষজন। সপ্তমী থেকে নবমী মানুষের ঢল নেমেছে এই পুজো মন্ডপে।