দীপান্বিতা অমাবস্যায় সেজে উঠছে হাজার হাত কালী মায়ের মন্দির। দেড় শতাব্দীর ঐতিহ্যে আজও মুগ্ধ ভক্তকুল
রণজিৎ রায়, নিজস্ব সংবাদদাতা: দীপান্বিতা অমাবস্যার রাতে আলোয় ঝলমল করে ওঠে হাওড়ার শিবপুরের ওলাবিবিতলা। এই এলাকাতেই আজও জীবন্ত এক বিস্ময় হাজার হাতের কালী মন্দির। প্রায় দেড় শতাব্দী ধরে অগণিত ভক্তের আরাধ্য এই দেবী, যাঁর রূপই এক অনন্য বিস্ময় ভক্তদের মনে।

প্রায় ১৮৮০ সালের দিকে আশুতোষ মুখোপাধ্যায়, স্থানীয় মুখোপাধ্যায় পরিবারের আদি পুরুষ, এক আশ্চর্য স্বপ্নে পান দেবী চণ্ডীর দর্শন—সহস্র বাহু প্রসারিত, জাগ্রত রূপে মা কালী দেখা পান তিনি। সেই স্বপ্নেরই প্রতিচ্ছবি হিসেবে তিনি স্থাপন করেন সহস্রভুজা কালী মূর্তির। অর্থাভাব থাকলেও এলাকার মানুষ একযোগে এগিয়ে এসে গড়ে তোলেন এই অনন্য মন্দির, যা আজও ধর্মবিশ্বাস ও লোকসংস্কৃতির এক জীবন্ত নিদর্শন।
শাস্ত্রীয় মতে, চণ্ডীপুরাণে দেবী দুর্গার অসুর বধের সময় তাঁর বহু রূপের উল্লেখ রয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম ‘সহস্রভুজা কালী’। অলাবিবিতলার মূর্তি সেই রূপেরই প্রতিরূপ। পিতলের বর্মে আচ্ছাদিত, চুন ও ঘেষ দিয়ে নির্মিত এই দেবী মূর্তি প্রতি চার বছর অন্তর রং ও মেরামত করা হয়। মায়ের এক পা পদ্মের উপর, অন্য পা সিংহের পিঠে—পদতলে নেই মহাদেব। এক হাতে খর্গ, অন্য হাতে পঞ্চশূল—শক্তির প্রতীক এই দেবী পূজিতা হন সারা বছর জুড়ে।

অমাবস্যা তিথিতে এখানে হয় বিশেষ পূজা ও আমিষ ভোগ। শুধু দীপান্বিতা নয়, বুদ্ধপূর্ণিমাতেও পালিত হয় মায়ের বিশেষ আরাধনা। পূজার দিনগুলোয় মন্দির প্রাঙ্গণ আলোয়, ধূপে ও কীর্তনে মুখরিত হয়ে ওঠে। হাজার হাতের আলোয় যেন প্রতীক হয়ে ওঠে মায়ের সহস্র শক্তি, সহস্র আশীর্বাদ।
আজও হাওড়ার অলাবিবিতলার এই হাজার হাত কালী পুজো শুধুমাত্র এক ধর্মীয় আয়োজন নয়—এ যেন এক জীবন্ত ঐতিহ্য, যেখানে ইতিহাস, বিশ্বাস ও ভক্তি মিলেমিশে একাকার হয়ে আছে। মায়ের হাজার হাত যেন আজও ছুঁয়ে যায় হাজার ভক্তের হৃদয়—আশীর্বাদে, বিশ্বাসে, আর অনন্ত আলোর প্রার্থনায়।