কোথায় হয় এই পুজো? রক্ত ছাড়া কেন এই পুজো অসম্পূর্ণ?
ঋক পুরকায়স্থ, সাংবাদিক: দীর্ঘদিনের পুরনো কালীপুজো হিসেবে পরিচিত কাঁকসার বনকাটির রায় পরিবারের পুজো। যা প্রায় ৯০০ বছরের পুরনো একটি পুজো। রায় পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, কাঁকসার গড় জঙ্গলে আধিপত্য গড়ে উঠেছিল সেন বংশের রাজা বল্লাল সেনের। তখন অজয় নদ ছিল যোগাযোগের এক অন্যতম মাধ্যম। এই জলপথ দিয়ে নৌকা জাহাজ যাতায়াত করত। অজয় নদকে কেন্দ্র করে দুপাশে ব্যবসা-বাণিজ্য গড়ে উঠেছিল। কথিত আছে, সে সময় একবার এই অজয় নদ দিয়ে যাচ্ছিলেন বল্লাল সেনের কুলগুরু তথা তান্ত্রিক মহেশ্বর প্রসাদ বন্দ্যোপাধ্যায়। যাওয়ার সময় তাদের নৌকা বিকল হয়ে যাওয়ায় বর্তমান বনকাটি গ্রামের কাছে নৌকা থেকে নেমে পড়েন মহেশ্বর প্রসাদ বন্দ্যোপাধ্যায়। তখনো জনবসতি গড়ে ওঠেনি এই বনকাটি গ্রামে। জঙ্গলে ঘেরা এই জায়গায় গাছ কেটে তিনি বসবাস শুরু করেন। সেই থেকেই গ্রামের নাম হয় বনকাটি। এখানে বসবাস করার পাশাপাশি তিনি শুরু করেন কালীপুজো। সেই পুজো এখনও চলে আসছে একই রীতিতে।

পরিবার সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, পরবর্তীকালে ব্রিটিশ শাসনের সময় সরকারের সাথে কোনও এক মামলায় জড়িয়ে পড়েন মহেশ্বর প্রসাদের বংশোধরেরা। আদালতের রায়ে জয়ী হয়ে বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবার রায়বাহাদুর খেতাব অর্জন করেন। তখন থেকে বন্দ্যোপাধ্যায় পদবি বদলে রায় পরিবার পরিচিতি লাভ করেন।
রায় পরিবারের প্রবীণ সদস্য অনিল কুমার রায় জানান, পুর্বপুরুষের লেখা পুঁথি পাঠ করে কালীর পুজো হয় এখনও। পুজো শুরু হওয়ার আগে শ্মশানে ক্রিয়াকর্ম সারতে হয়। সম্পূর্ণ পুজো তন্ত্র মতে হয় এখনও। নিশিরাতে হোম যজ্ঞও হয় এখানে। যজ্ঞে ১ হাজার ৮ টি বেলপাতা ও ৫ কেজি ২৫০ গ্রাম গাওয়া ঘি পোড়ানো হয় এই পুজোর সময়। একসময় নরবলিও হত এখানে। তবে পরিবর্তীত হয়েছে সেই রীতি। বর্তমানে বলি শেষে মানব রক্ত নিবেদন করা হয় পুজোতে। পুজোর সময় ভিড় জমায় আশপাশের বহু ভক্তরা। নরনারায়ণ সেবাও হয় প্রত্যেকবছর। তবে মন্দিরে রায় পরিবারের সদস্য ছাড়া আর কেউই থাকতে পারেন না।
রায় পরিবারের অপর একজন সদস্য লালু রায় বলেন, মানব রক্ত নিবেদন ছাড়া অসম্পূর্ণ থাকে এই পুজো। বহু যুগ আগে বন্ধ হয়েছে নরবলি । তিনি আরও বলেন, আমি নিজের রক্ত কালী মাকে বেশ কয়েক বছর ধরে নিবেদন করে আসছি। বেল গাছের কাঁটার মাধ্যমে আঙ্গুলে কেটে এই রক্ত নিবেদন করি আমি। এই রক্ত নিবেদন করা হয় বেল পাতা করেই।