“সম্মান করি তাই নেতৃত্বের জন্য এখনও অপেক্ষা করছি, আমার লেজে পা দিলে আমিও ছোবল মারতে জানি।
ঋক পুরকায়স্থ, সাংবাদিক: বহুবার দলের মধ্যে অস্বস্তি বাড়িয়েছেন মুর্শিদাবাদের ভরতপুরের তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। দলের বিরুদ্ধে আবারও বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন হুমায়ুন। এবারে তাঁর নিশানায় কান্দির তৃণমূল বিধায়ক অপূর্ব সরকার। তিনি বলেছেন, প্রকাশ্যে বলছি। দল যদি মনে করে যে আমার মতো অসভ্য ব্যক্তিদের আর দলে প্রয়োজন নেই তাহলে ৪৮ ঘন্টার মধ্যেই দেখিয়ে দেব মুর্শিদাবাদের রাজনীতির রং কীভাবে পাল্টায়। সম্মান করি তাই নেতৃত্বের জন্য এখনও অপেক্ষা করছি আমার লেজে পা দিলে আমিও ছোবল মারতে জানি।

এর আগেও একাধিকবার নিজের দল তৃণমূল কংগ্রেসকে নিশানা করে দলের অন্দরে অস্বস্তি বাড়িয়েছেন হুমায়ুন কবীর। বুধবার এক অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে আবারও তৃণমূলকে নিশানা করলেন তিনি। তিনি বলেছেন, আমরা কারুর দিকে আগে আঙুল তুলব না। কিন্তু কেউ যদি আমাদের দিকে আঙুল তোলে তাহলে তার দিকে আমরা দুই আঙুল তুলব। ইঁট ছুঁড়লে পাথরের সাহায্যে জবাব দেব। এতদিন অনেককিছুই মুখ বুজে সহ্য করে এসেছি। সরাসরি নাম না করে কান্দির তৃণমূল বিধায়ক অপূর্ব সরকারকে নিশানা করে তিনি বলেছেন, ২০২৩ সালে পঞ্চায়েত নির্বাচনে টাকার বিনিময়ে সালার, ভরতপুরের থানার ওসিকে ব্যবহার করে গণনাকেন্দ্রে কীভাবে অরাজকতা সৃষ্টি করে নির্বাচিত হয়েছে আমি জানি। দুঃখের বিষয়, আজ পর্যন্ত সেইসব প্রধানদের সঙ্গে আমার কোনও রকমের কোন যোগাযোগ নেই। তারা কেবল জমি লুট করতে ব্যস্ত এখন। আমরা ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে হিসাব নেব। তোমাদেরকে এখানে লুঠের রাজনীতি করে খেতে দেব না।
এই রকমের মন্তব্য এখন নতুন নয় এর আগেও বারবার এইধরণের মন্তব্য করে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছিলেন মুর্শিদাবাদের ভরতপুরের তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। এমনকি এর আগেও ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সতর্কও করেছিলেন তাঁকে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও বুঝিয়ে দিয়েছিলেন যে এই সব কথা বলা যাবে না। সেই সময় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় হুমায়ুন কবীরকে কড়া বার্তা দিয়ে বলেছিলেন যে, দলের নিয়ম মানতে হবে। প্রকাশ্যে দলবিরোধী মন্তব্য মন্তব্য করলে দল সেই ব্যক্তির বিরুদ্ধে পদক্ষেপও নেবে বলে জানিয়েছেন তিনি। এত কিছুর পরও দল সামলাতে পারছে না হুমায়ুন কবীরকে। একের পর এক বিস্ফোরক মন্তব্য করে যাচ্ছেন তিনি। শেষ পর্যন্ত এত কিছুর পর দল কী কোনও পদক্ষেপ নেবে ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের উপর? সেটাই এখন দেখার।