ড্যামেজ কন্ট্রোলে মরিয়া চেষ্টা হুমায়ুনের !

ভিডিও এআই বলে দাবি করেন ভরতপুরের বিধায়ক। ভরসা হারিয়ে জোট ছেড়েছেন ওয়াইসি।

শ্রেয়সী বল, সাংবাদিক : রাজনীতির মঞ্চে প্রচারের সার্চ লাইটে সামনের সারিতেই রয়েছেন হুমায়ুন কবীর। বাবরি মসজিদ শিলান্যাস,আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতিষ্ঠা,মিমের সঙ্গে জোট-একটার পর একটা চমক দৃষ্টি আকর্ষন করেছে রাজনীতির কারবারিদের। কিন্তু এই চমকের মাঝে বিতর্কিত ভিডিও প্রকাশ, আচমকা আছড়ে পড়া কালবৈশাখীর মত সবটা ওলোট-পালট করে দিয়েছে একদা তৃণমূলের সৈনিকের। ভিডিওটিতে তাঁকে বিজেপির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগসাজশের দাবি করতে এবং আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীকে পরাজিত করার চেষ্টায় লিপ্ত থাকার কথা বলতে দেখা যায়। যাতে নির্বাচনে মমতা ব্যানার্জীকে পরাজিত করতে বহু কোটি টাকার পরিকল্পনা করতে দেখা যায় হুমায়ুনকে। ভিডিওর কথপকথনে জনৈক ব্যক্তির সঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী, অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কথা জানান কবীর।

তবে এই ভিডিও এআই বলে দাবি করেন ভরতপুরের বিধায়ক। তারপরও ভরসা হারিয়ে জোট ছেড়েছেন ওয়াইসি। ক্ষোভে মুখ ঘুরিয়েছেন বহুসমর্থক।এর মাঝে চেয়ারম্যান হুমায়ুনকে নিজের পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির রাজ্য সভাপতি খোবায়েব আমিন।ইস্তফা দিয়ে খোবায়েব আমিন অভিযোগ করেন, দলটি সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় আবেগকে ব্যবহার করার জন্য তৈরি। তাঁর কথায়, “একটি বিশেষ সম্প্রদায়কে কেন্দ্র করে রাজনীতি করা হচ্ছে, যা বাংলার মাটিতে গ্রহণযোগ্য নয়।” তিনি দাবি করেন, এই দলের মূল লক্ষ্য নির্বাচন জেতা নয়, বরং সংখ্যালঘু ভোটে বিভাজন তৈরি করা।এমনকি বিরোধী দলনেতার সঙ্গে হুমায়ুনের যোগের কথাও উঠে আসে খোবয়েবের কথায়। অভিযোগ, দলের রাজ্য সভাপতি হওয়া সত্ত্বে আম জনতা উন্নয়ন পার্টির এক টাকার উৎস্য সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলেও ধোঁওয়াশায় রাখা হয়েছে তাকে।

রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে এই মূহুর্তে হুমায়ুনের অবস্থা কুল রাখি না শ্যাম রাখি-র মত। বিতর্কে নিজের অস্তিত্ব টেকাবেন নাকি দলের।রাজ্যে ১৮৪ টি কেন্দ্রে প্রার্থী দিয়েছে এজেইউপি। যার মধ্যো মুর্শিদাবাদে ২২ টি, নদীয়ায় ১৭ টি কেন্দ্রে প্রার্থী দিয়োছে তার দল।নির্বাচনের বাকি হাতে গোনা কয়েকদিন। শেষমূহুর্তে দলীয় কর্মীদের চাঙ্গা করতে কোনও খামতি রাখছেন না হুমায়ুন।

প্রার্থীর সমর্থনের প্রচারে হুমায়ুন জানান,তৃণমূল যতই চক্রান্ত করুক। হুমায়ুন কবীরকে এভাবে আটকানো যাবে না।সেই সঙ্গে দিঘার জগন্নাথ মন্দির নিয়েও তৃণমূল নেত্রীকে তোপ দাগেন তিনি। চৌঠা মেয়েতে গলায় কাঠের মালা পরিয়ে,কপালে তিলক দিয়ে দিঘার জগন্নাথ মন্দিরে মুখ্যমন্ত্রীকে দিয়ে আসবেন বলেও বিতর্কিত মন্তব্য করেন ভরতপুরের বিধায়ক।

তৃণমূল যতই চক্রান্ত করুক। হুমায়ুন কবির কে এভাবে আটকানো যাবে না। নদিয়ার প্রচার মঞ্চ থেকে এইভাবেই হুঙ্কার ছাড়লেন এজেইউপি-র কর্ণধার।