হুমায়ুনের তীব্র হুঙ্কার!

এবার কোরান পাঠ….

স্বাগতা চন্দ্র, নিজস্ব সংবাদদাতাঃ ১৯৯২ সালে ৬ ডিসেম্বর অযোধ্যার বুকে বাবরি মসজিদ ভাঙার ঘটনার পর বাংলায় সেই মসজিদের আদলেই তৈরি হবে বাবরি মসজিদ। জাকজমক করে শিলান্যাসও হয়ে গেল গত শনিবার। অর্থাৎ বাবরি মসজিদ ধব্বংসের দিনেই। মসজিদ তৈরিকে ঘিরে বেলডাঙায় চলল উৎসব উদযাপন। ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরুদ্ধ থেকে মাথায় করে ইট বয়ে আনা, দানের টাকা ছড়ানো কতকিনা ছবি ধরা পড়ল এই সম্প্রীতির বাংলায়। ৬০ হাজারের বেশি বিরিয়ানির প্যাকেট বিলানো হল। পরিসংখ্যান বলছে  বাংলায় প্রায় ৩৭ শতাংশ সংখ্যালঘু আছে।তাদের সিংহভাগ ভোট যায় তৃণমূলের ঝুলিতে। কেউ কেউ বলছেন হুমায়ুন কবীর সাসপেন্ড হওয়ার পর সেই ভোটই ভাগ বসাতে চাইছেন। আবার কেউ কেউ বলছেন নিজের শক্তি প্রদর্শন করে প্রচ্ছন্ন বার্তা দিতে চাইছেন দলকে। হুমায়ুন নাকি তৃণমূলের সঙ্গেই রফা করতে চাইছেন। বিজেপির দাবি হুমায়ুনের বিরুদ্ধে যতি কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার থাকতো তাহলে এতদিনে তৃণমূল নিয়ে ফেলত, তাঁকে সাসপেন্ড করে লোক হাসাতো না। এদিকে হুমায়ুনের বাবরি মসজিদ শিলান্যাসের দিনই সংহতি দিবস পালন করল রাজ্যের শাসক দল। এক্স হ্যান্ডেলে সংহতি দিবসের বার্তায় মুখ্যমন্ত্রী লেখেন……

এই মাটি রবীন্দ্রনাথের মাটি, নজরুলের মাটি, রামকৃষ্ণ,বিবেকানন্দের মাটি। এই মাটি কখনও মাথা নত করেনি বিভেদের কাছে আগামীদিনেও করবে না। হিন্দু, মুসলিম, শিখ খ্রিস্টান, জৈন, বৌদ্ধ বাংলায় আমরা সকলের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চলতে জানি। আনন্দ আমরা ভাগ করে নিই। কারণ আমরা বিশ্বাস করি ধর্ম যার যার, কিন্তু উৎসব সবার। যারা সাম্প্রদায়িকতার আগুন জ্বালিয়ে দেশকে ধ্বংস করার খেলায় মেতেছে, তাদের বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই জারি থাকবে। সকলে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখুন। কী এই বার্তা থেকে কিছু বুঝতে পারছেন। এই বার্তার মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে কাউকে দেওয়া জবাব। আরে সবকিছু কী আর বুঝিয়ে বলতে হবে। সকলেই বোঝদার বুঝে নিন। ২৬ শে ভোটের আগে বাংলায় যেন ধর্মীয় ভাবাবেগ বেশি করে প্রকট হচ্ছে। বাবরি মসজিদ প্রতিষ্ঠা, সংহতি দিবস পালন, আবার মহানগরে যখন শীতের শিরশিরানি তখন ৫ লক্ষ কণ্ঠে গীতাপাঠ যেন ধর্মীয় উষ্ণতাকে আরও বাড়িয়ে দিল।

রবিবার ব্রিগেড প্যারেড পাঁচলক্ষ কণ্ঠে গীতাপাঠ অনুষ্ঠান করল সানতন সংস্কৃতি সংসদ। গীতা পাঠের অনুষ্ঠানে ছিলেন রাজ্য বিজেপির প্রথম সারির নেতারা। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী থেকে সুকান্ত মজুমদার, দিলীপ ঘোষ সহ অনেকেই। ছিলেন রাজ্যপালও। তাহলে এই ছবি কী বার্তা দিচ্ছে। আহা আবার পরিস্কার করে বলতে হবে নাকি। ধর্মের বৃন্তে সবই ফুলই। এখানেই শেষ নয় গীতাপাঠ নিয়েও সরব হুমায়ুন কবীর। ৫ লক্ষ কণ্ঠেগীতাপাঠের নিয়ে ফের হুঙ্কার ছেড়েছেন হুমায়ুন কবীর। লক্ষ কণ্ঠে কোরানপাঠের ঘোষণা করেছেন হুমায়ুন। ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম দিকেই এই অনুষ্ঠান হবে বলে ঘোষণা করেছেন তিনি। তিনি বলেন, কোরান পাঠের পর মাংস ভাত খাইয়ে বাবরি মসজিদের কা শুরু করব, বাংলা দখলের জন্য বিজেপি গীতা পাঠের আয়োজন করেছে।অতএব কী বুঝলেন। বিপদে পড়লে ঠাকুর ঠাকুর। কিংবা আল্লা আল্লা। যাইহোক অন্তর্যামী সবই বোঝে। কথায় আছে না অতি ভক্তি। থাক সেসব কথা। এখন জেখার বাংলায় এই ধর্মযুদ্ধ জনতা জনার্দন কীভাবে নেয়। ২৬ ভোট বক্সে কার ভাগ্যে কতটা জনতার আশীর্বাদ জোটে।