সংখ্যালঘু মানুষকেই শিখন্ডি করে ঘুঁটি সাজাচ্ছেন হুমায়ুন সাহেব। বড় কিছু হতে চলেছে বলে হুঙ্কার দিয়ে দিয়েছেন আগেভাগেই। অপেক্ষা শুধু ২২ ডিসেম্বরের। ওই দিনই নতুন দল ঘোষণা করবেন হুমায়ুন কবীর। চমক তো থাকবেই । কী নাম হতে পারে হুমায়ুন কবীরের নতুন দলের। বা কারা কারা থাকছেন সেই দলে। আদৌ কি স্বপ্নপূরণ হবে হুমায়ুন সাহেবের? নাকি দিবাস্বপ্ন হয়েই রয়ে যাবে তাঁর কিং মেকার হওয়ার সাধ ?

স্বাগতা চন্দ্র সাহা, সাংবাদিক : মুর্শিদাবাদে বাবরি মসজিদ তৈরির ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করে রাজ্য রাজনীতিতে ঝড় তুলে দিয়েছেন। এবার হুমায়ুন কবীরের নতুন দল নিয়ে যত আলোচনা, জল্পনা। কেমন হবে হুমায়ুন কবীরের নতুন দল। কোন কোন মুখের ভিড় দেখা যাবে। কার সঙ্গে জোট বাঁধবেন হুমায়ুন কবীর।
সোমবার, ২২ ডিসেম্বর হুমায়ুন কবীরের নতুন দলের আত্মপ্রকাশ। ১৩৫ আসনে লড়ে তৃণমূল কংগ্রেসকে হারানো ও বিজেপিকে আটকানোর আস্ফালন করেছেন হুমায়ুন কবীর। এটা আদৌ ফাঁকা কলসির আওয়াজ নয় তো। নাকি শাসক দলকে টক্কর দিতে তলে তলে ব্লুপ্রিন্ট সাজিয়ে ফেলেছেন হুমায়ুন সাহেব। দল ঘোষণার আগেই শাসক দলের ঘর ভাঙার কাজ শুরু হয়ে গেছে। ইতিমধ্যেই তৃণমূলের জেলা পরিষদকে চোর আখ্যা দিয়ে পদ ছেড়েছেন শাহনাজ বেগম। মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদের সদস্য ছিলেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে খবর শাহনাজ ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের ঘনিষ্ঠ। হুমায়ুনের নতুন দলে তিনি যোগ দিতে পারেন। তা না হলে হঠাৎ কী এমন হল যে শাহনাজকে এখনই দল ছাড়তে হল। তবে কি হুমায়ুন কবীরের দলে কোনও বড় ভূমিকায় দেখা যাবে তাকে। কারণ হুমায়ুনের টার্গেট মুর্শিদাবাদ, মালদা, দুই দিনাজপুর, দুই বর্ধমান, নদিয়া, বীরভূম ও মেদিনীপুর। এই সমস্ত জেলার সংখ্যালঘুদের টার্গেট করেছেন হুমায়ুন কবীর। রাজনীতিতে মুসলমান সম্প্রদায়কে গুরুত্ব দিতে ১৩৫ টি আসনে প্রার্থী দিয়ে বিধানসভায় ৭০ থেকে ৯০ টি আসন জিতে রাজ্যে নির্ণায়ক ভূমিকা নিতে চান হুমায়ুন কবীর। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার থেকে আবাস যোজনার ঘর সবই দেওয়া হবে তাঁর দলের পক্ষ থেকে। হুমায়ুন কবীর তাঁর দলের এজেন্ডা কী হবে তাও তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন। তৃণমূলকে হারানো ও বিজেপিকে ক্ষমতায় আসা থেকে আটকানো। এজেন্ডা পূরণে তাই কোনও ছুৎমার্গ নয় আইএসএফ থেকে কংগ্রেস, সিপিএম, মিমের সঙ্গেও জোট বাঁধতে রাজি তিনি। যদিও যাদের সঙ্গে জোট বাঁধার কথা বলছেন হুমায়ুন কবীর তাঁদের তরফ থেকে কোনও টুঁ -শব্দ শোনা যায়নি। কারণ হুমায়ুন কবীরের রাজনৈতিক কেরিয়ারে সব ঘাটেরই জল খেয়েছেন। কংগ্রেস থেকে তৃণমূল, তৃণমূল থেকে বিজেপি আবার বিজেপি থেকে তৃণমূলে ফিরে আসা। ফের শাসকদলের ছত্রছায়া থেকে বেরিয়ে নতুন দল তৈরির হুঙ্কার। ২২ ডিসেম্বর ৪লক্ষ লোক সমাগমের আভাস দিয়েছেন হুমায়ুন কবীর। যদিও রাজনৈতিক বিশ্লেকদের মতে নতুন দল গড়া ছাড়া হুমায়ুন কবীরের আর কোনও কিছুই করার নেই। সব ঘাটের জল খেয়ে এটাই বাকি ছিল। এবার অনেকেই প্রশ্ন করতে পারেন নতুন দল গড়ে কতটা সফল হতে পারবেন হুমায়ুন কবীর। কারণ এর আগে তো তিনি জার্সি বদল করে খুব একটা কিছু করতে পারেননি। এমনকি নির্দল হয়ে লড়েও কিছু সুবিধা করতে পারেননি। অগত্যা তাঁকে ফিরে আসতে হয়েছে পুরনো জায়গায়। তৃণমূলের টিকিটেই ফের বিধায়ক হয়েছেন হুমায়ুন কবীর। আবারও একা কিছু করে দেখানোর ঝোঁক চেপেছে হুমায়ুন সাহেবের। শাসক দল থেকে বারবার সাসপেন্ড হওয়ায় দলে সেভাবে সুবিধা করতে পারছিলেন না ভরতপুরের এই বিধায়ক। তাই একলা চলো নীতি নিয়ে সংখ্যালঘু ভোটকে ঝুলিতে পুরে রাজ্যের শাসক দলকে চাপে ফেলতেই কি এতকিছু। যদি তাই হয় তাহলে হুমায়ুন সাহেবকে একটু বুঝেই চলতে হবে। বয়স তো ৬৪ । এই বিধানসভায় যতটা দৌড়ঝাঁপ করতে পারবেন পরের গুলোতে আর দম থাকবে। এই যে দেখুন না তৃণমূল দল ছেড়ে যাওয়া অর্জুন সিং, রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়দের। না ঘরকা না ঘটকা হয়ে শেষপর্যন্ত ফিরে আসতে হয়েছে সেই পুরনো দলেই। কিংবা প্রশান্ত কিশোরকেই দেখুন না। তিনি রাজনৈতিক ভোটের কলাকুশলী। ভোটকুশলী হয়েও নিজেই বিহারে ভোট বৈতরণী পেরতো পারলেন না। আরে এত কি সোজা মানুষের মন বোঝা। জনতার পাল্লা কার দিকে যে ভারী তা বোঝা সহজ কাজ নয়। তাই হুমায়ুন সাহেব একটু মেপে পা ফেললেই বোধহয় বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

হুমায়ুন কবীরের নতুন দল তৈরির এই আস্ফালনকে আবার বিজেপি বলছে স্ক্রিপটেড। তৃণমূল-হুমায়ুন আঁতাত। যাই হোক না কেন ২২ ডিসেম্বরের দিকে তাকিয়ে অনেকেই। দলে কে কে আসছে তা খোলসা না করলেও ধামাকার পূর্বাভাস দিয়ে ইতিমধ্যেই হাওয়া গরম করে ফেলেছেন হুমায়ুন কবীর। প্রস্তাবিত মসজিদের স্থল থেকে ১ কিলোমিটার দূরে সভা করবেন হুমায়ুন। বাবরি মসজিদের ভিত্তিপ্রস্থ স্থাপন করে সংখ্যালঘুদের আবেগে যে হওয়া দিয়েছেন তাতে করে কিছুটা হলেও পাল্লা ভারী হুমায়ুন কবীররে। তবে নতুন দল গড়ে সেই হাওয়ায় ভর করে মুসলিম ভাইদের কতটা সমর্থন পাবেন হুমায়ুন কবীর তা সময় বলবে। এখন শুধু ২২ ডিসেম্বরের অপেক্ষা। তাহলেই বোঝা যাবে হুমায়ুন কবীরের হুঙ্কার কতটা যুক্তিসঙ্গত। পাশাপাশি আরেকটা বিষয় দেখার যে এত অল্প সময়ে কতটা ঘর গুছাতে পারবেন হুমায়ুন কবীর। কিংবা শাসক দল থেকে কতজন সংখ্যালঘু বিধায়ক বা,নেতাদের তিনি দলে টানতে পারবেন তা নিয়েও চলছে জোর জল্পনা।