পরীক্ষায় পাশ করেছি, চাকরি চাইবোই। টেট উত্তীর্ণদের বিক্ষোভে উত্তপ্ত করুণাময়ী

২০২২ সালের টেট উত্তীর্ণদের বিক্ষোভে মঙ্গলবার উত্তাল হয়ে উঠল করুণাময়ী। পুলিশ রীতিমত চ্যাংদোলা করে নিয়ে গেল চাকরি প্রার্থীদের।

সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, নিজস্ব প্রতিনিধিঃ- হকের চাকরি চেয়ে মঙ্গলবার ফের রাজপথে নামলেন ২০২২ সালের টেট উত্তীর্ণরা। প্রাথমিকে ৫০ হাজার নিয়োগের দাবিতে এদিন টেট উত্তীর্ণদের পর্যদ অফিস অভিযান ছিল। তার জন্য সকাল থেকে করুণাময়ীতে জমায়েত করেন হাজার হাজার চাকরিপ্রার্থী। কিন্তু মেট্রো স্টেশনের বাইরেই শুরু হয়ে যায় পুলিশি ধরপাকড়। জমায়েত হতে না হতেই আন্দোলনকারীদের চ্যাংদোলা করে রীতিমতো গাড়িতে তোলার চেষ্টা করে পুলিশ।

সকাল থেকেই করুণাময়ী চত্বরে মোতায়েন ছিল বাড়তি পুলিশ। প্রস্তুত ছিল র্যা ফও। মেট্রোর ঠিক বাইরেই প্রচুর পুলিশ ছিলেন। মেট্রো স্টেশন থেকে বের হতেই তাদের বাসে তুলে দেওয়া হল। যাতে মিছিল শুরুই না করতে পারেন তার জন্য একেবারে প্রস্তুতি নিয়ে রাখা হয়েছিল পুলিশের মেট্রোরর বাইরে যখন পুলিশের অপেক্ষা চলছিল তখন কিন্তু ভিতরে অন্য ছবি ছিল। কার্যত গর্জনে কেঁপে উঠছে ভিতর। চাকরির প্রার্থীরা ভিতরেই তুলছেন স্লোগান। যদিও বেড়িয়ে আসতেই আটক করা হয় সকলকেই।

এদিন করুণাময়ী মেট্রো স্টেশনের সামনে জমায়েত করে সেখান থেকেই মিছিল এগোনোর কথা ছিল। কিন্তু মিছিল শুরু হতেই পুলিশ তা আটকে দেয়। শুরু হয় ধস্তাধস্তি। চাকরিপ্রার্থীদের বক্তব্য, তাঁদের পিঠ দেওয়ালে ঠেকেছে। তাঁরা এখন জীবন্ত লাশ। এর পরেই দেখা যায়, চাকরিপ্রার্থীদের রীতিমত টেনে তোলা হয় পুলিশের প্রিজ়ন ভ্যান ও বাসে। চিৎকার করে চাকরিপ্রার্থীরা জানতে চান, ‘আমাদের দোষ কোথায়? আমরা পরীক্ষা দিয়েছি, পাশ করেছি। এখন তো চাকরি চাইবই।’ স্লোগান ওঠে, ‘পুলিশ তোমায় ধিক্কার।’ রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় করুণাময়ী চত্বর। আজ পর্ষদ সদর্থক ভূমিকা না নিলে অবস্থান চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তাঁরা।

এর মধ্যেই বেশ কয়েকজন চাকরিপ্রার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েন। রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন তাঁরা। আন্দোলনকারীদের দাবি, এতগুলো বছর ধরে তাঁরা অপেক্ষা করছেন। এক চাকরিপ্রার্থী বলেন, “আমরা তিন বছর টেট পাশ করে বসে রয়েছি। আমার বাবা-মা তো না খেতে পেয়েই মরে গেল। আর আমরাও তাই হব! আর পুলিশ, পুলিশের বাড়ির লোকের সঙ্গে এরকম হলে বুঝতে পারবে”। সব মিলিয়ে আরও একবার চাকরির দাবিতে উত্তাল হল শহর কলকাতা।