কৃষক আন্দোলনে যোগ দেওয়া নিয়ে বৃদ্ধাকে নিয়ে কঙ্গনার মন্তব্যে বিতর্ক। প্রায় ৫ বছর পর মানহানির মামলায় আদালতে ক্ষমা চাইলেন অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাউত।
ষষ্ঠী চট্টোপাধ্যায়, সাংবাদিক : দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর অবশেষে মাথা নোয়ালেন ‘বলিউড কুইন’ ও বিজেপি সাংসদ কঙ্গনা রানাউত। কৃষক আন্দোলন নিয়ে ৭৩ বছর বয়সী বৃদ্ধা মাহিন্দর কউরকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেছিলেন কঙ্গনা। তার জেরে সোমবার পাঞ্জাবের ভাটিন্ডা আদালতে ক্ষমা চাইলেন অভিনেত্রী। এই বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য তাঁকে সশরীরে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন ম্যাজিস্ট্রেট লক্ষবীর সিং।

আদালতের বাইরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাউত জানান, ৭৩ বছর বয়সী বৃদ্ধা মাহিন্দর কৌরের কাছে আদালতের সামনে তাঁকে ক্ষমা চাইতে হয়েছে। তবে এদিন ওই বৃদ্ধা মাহিন্দর আদালতে উপস্থিত ছিলেন না।
এবার দেখে নেওয়া যাক, কী ছিল কঙ্গনার মন্তব্য?
২০২০-২১ সালের কৃষক আন্দোলনের সময় মাহিন্দর কউর নামের ওই বৃদ্ধার ছবি ভাইরাল হয়েছিল। তখন কঙ্গনা রানাউত তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে ওই বৃদ্ধাকে নিশানা করে মন্তব্য করেছিলেন, “এই ধরণের মহিলাদের আন্দোলনে নামানোর জন্য ১০০ টাকায় ভাড়া পাওয়া যায়!”
এই মন্তব্যের পরই দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। মাহিন্দর কউর কঙ্গনার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ে হার মানতে হল কঙ্গনা রানাউতকে।
২০২২: ভাটিন্ডা আদালত কঙ্গনার বিরুদ্ধে সশরীরে হাজিরার সমন জারি করে।
২০২২-২০২৪: আদালতের তলব খারিজ এবং মানহানির অভিযোগ বাতিলের জন্য কঙ্গনা প্রথমে পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্ট এবং পরে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন। কিন্তু উভয় আদালতই তাঁর আবেদন খারিজ করে দেয়।
সেপ্টেম্বর ২০২৪: সুপ্রিম কোর্ট তাঁর আর্জি গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানায়। কঙ্গনার আইনজীবী শেষ পর্যন্ত বিশেষ ছুটির আবেদন (SLP) প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নেন।
আইনি লড়াইয়ে পরাজয়ের পরই আদালত গত মাসে তাঁকে ২৭ অক্টোবর সশরীরে হাজিরার নির্দেশ দেয়। সোমবার সেই নির্দেশের পরই ভাটিন্ডা আদালতে উপস্থিত হয়ে বৃদ্ধার কাছে ক্ষমা চান কঙ্গনা। সমাজমাধ্যমে করা মন্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশও করেন তিনি।
কৃষক আন্দোলন নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের জেরেই ২০২৪ সালে চণ্ডীগড় বিমানবন্দরে একজন মহিলা সিআইএসএফ কনস্টেবলের হাতে চড় খেয়েছিলেন কঙ্গনা।