উন্নয়নের জোয়ারে আস্থা: সাগরদ্বীপে ফের বঙ্কিমচন্দ্র হাজরাকেই চাইছে বাসিন্দারা।

বিশ্বজিৎ নস্কর, নিজস্ব সংবাদদাতা : আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজনৈতিক পারদ চড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে সাগরদ্বীপ বিধানসভা কেন্দ্রকে ঘিরে এখন টানটান উত্তেজনা। তবে রাজনীতির অন্দরে যাই চলুক না কেন, সাধারণ মানুষের রায় কিন্তু অত্যন্ত স্পষ্ট। এলাকার চায়ের দোকান থেকে শুরু করে পাড়ার মোড়— সর্বত্রই প্রতিধ্বনি হচ্ছে এক নাম: বঙ্কিমচন্দ্র হাজরা। উন্নয়নের জোয়ারে গা ভাসিয়ে সাগরের বাসিন্দারা সাফ জানাচ্ছেন, তাঁরা ফের ভূমিপুত্র বঙ্কিমবাবুকেই বিধায়ক হিসেবে পেতে চান।
আমূল বদলেছে দ্বীপের ছবি –
বিগত কয়েক বছরে সাগরদ্বীপের পরিকাঠামোয় যে পরিবর্তন এসেছে, তাকে অভাবনীয় বলছেন স্থানীয়রা। এক সময় যেখানে অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা আর পানীয় জলের হাহাকার ছিল নিত্যসঙ্গী, আজ সেখানে চিত্রটা সম্পূর্ণ আলাদা। বাসিন্দাদের মতে:
উন্নত সড়ক যোগাযোগ: গ্রামের ভিতর দিয়ে চওড়া পিচ রাস্তা এখন দ্বীপের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তকে জুড়ে দিয়েছে।
জল ও বিদ্যুৎ: ঘরে ঘরে পৌঁছে গিয়েছে বিশুদ্ধ পানীয় জল। ‘নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ’ এখন আর সাগরের মানুষের কাছে বিলাসিতা নয়, বরং প্রাত্যহিক জীবনের অঙ্গ।
পর্যটন ও কপিলমুনির আশ্রম: বঙ্কিমবাবুর উদ্যোগে এবং রাজ্য সরকারের সহযোগিতায় গঙ্গাসাগর মেলা প্রাঙ্গণ ও কপিলমুনি আশ্রম চত্বরের
আধুনিকীকরণ পর্যটন মানচিত্রে সাগরের গুরুত্ব বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
ভূমিপুত্রের স্বচ্ছ ভাবমূর্তিতে ভরসা
সাগরের সাধারণ মানুষের কাছে বঙ্কিমচন্দ্র হাজরা শুধু একজন বিধায়ক নন, বরং ঘরের ছেলে। তাঁর স্বচ্ছ ভাবমূর্তি এবং সাধারণ মানুষের বিপদে-আপদে পাশে থাকার মানসিকতা তাঁকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছে। কোনো রকম আড়ম্বর ছাড়াই তাঁকে সাধারণ মানুষের সাথে মিশে যেতে দেখা যায়।
”সাগরের সামগ্রিক উন্নয়ন মানেই বঙ্কিম বাবু। বিপদে পড়লে অন্য কাউকে ডাকার আগে আমরা তাঁকে পাই। তাই ঘরের ছেলেকে ছেড়ে আমরা অন্য কাউকেও ভাবছি না,”— বলছিলেন স্থানীয় এক মৎস্যজীবী।
উন্নয়নের তাসে জয়ের লক্ষ্য ঘাসফুল শিবিরের
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাগরে তৃণমূল কংগ্রেসের মূল হাতিয়ারই হলো ‘বিকাশ’। বিরোধীরা নানা ইস্যু তোলার চেষ্টা করলেও, সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের যে গুণগত মান উন্নয়ন হয়েছে, তার পাল্টা যুক্তি দেওয়া কঠিন হচ্ছে। রাস্তা, ব্রিজ, এবং সেচ ব্যবস্থার উন্নয়নের ফলে কৃষিজীবী ও মৎস্যজীবী মানুষরা আগের থেকে অনেক বেশি স্বাবলম্বী।
সবমিলিয়ে, আসন্ন নির্বাচনে বিরোধীদের লড়াইটা যে বেশ কঠিন হতে চলেছে, তা স্পষ্ট। উন্নয়নের নিরিখে সাধারণ মানুষের এই বিপুল সমর্থন বজায় থাকলে, ফের একবার সাগরদ্বীপে ঘাসফুল ফোটা এবং বঙ্কিমচন্দ্র হাজরার জয় সময়ের অপেক্ষা বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।