অধীরদাকে জেতাব আমি : হুমায়ুন

অধীররঞ্জন প্রার্থী হলে তাঁকে জেতাতে কী করতে চাইছেন হুমায়ুন কবীর? তবে কি ভোট রাজনীতিতে বড়কিছু সমীকরণ তৈরি হচ্ছে।

স্বাগতা চন্দ্র সাহা, সাংবাদিক : সিপিএমের সঙ্গে নাকি জোটে অনীহা কিন্তু এক সময়ে শুরু অধীর চৌধুরী নিয়ে সুর নরম। হুমায়ুন কবীরের পেটে পেটে যে কী চলছে, কী হতে চলেছে রাজ্য রাজনীতির জোটের সমীকরণ। এই তো সেদিন সিপিএমের সঙ্গে জোট করা নিয়ে আশাবাদী ছিলেন, এমনকি মহম্মদ সেলিমকে জোটের মুখ বলে দাবিও করে ছিলেন, তবে কি এমন হল যে সিপিএমের সঙ্গে জোট করবেন না বলে সাফ জানিয়ে দিলেন হুমায়ুন কবীর। কেন সিপিএমের সঙ্গে জোট করতে আর চাইছেন না হুমায়ুন কবীর। আবার দুদিন ধরে অধীর চৌধুরী নিয়ে সুর নরম হয়েছে হুমায়ুন সাহেবের। এমনকি অধীররঞ্জন প্রার্থী হলে তাঁকে জেতাতে কী করতে চাইছেন হুমায়ুন কবীর? তবে কি ভোট রাজনীতিতে বড়কিছু সমীকরণ তৈরি হচ্ছে। কারণ কংগ্রেসও তো সাফ জানিয়ে দিয়েছে সিপিএমের সঙ্গে এবার আর জোট নয়। কী চলছে হুমায়ুন কবীরের মনের ভিতর। ১৮২ আসনেই প্রার্থী দেবেন বলে একেবারে মনস্থির করে নিয়েছেন হুমায়ুন কবীর। আর সংখ্যালঘু ভোটই তাঁর বড় হাতিয়ার। মুর্শিদাবাদের পরই মালদাকে পাখির চোখ করেছেন হুমায়ুন কবীর। রাজ্যের প্রতিমন্ত্রী তথা হরিশ্চন্দ্রপুরের বিধায়ক তাজমুল হোসেনের গড়ে গিয়ে তাঁকেই তোলাবাজ বলে কটাক্ষ করছেন। তৃণমূলের গড়ে গিয়ে জনতা উন্নয়নপার্টির কার্যালয় খুলে মালদায় ১২ আসনে প্রার্থী দেওয়ার কথা জানালেন হুমায়ুন কবীর। এমনকি তাঁর দলে নাকি থাকছে হিন্দু, আদিবাসী সম্প্রদায়ের প্রার্থীও।

যদিও হুমায়ুন কবীরের কথায় পাত্তা দিতে নারাজ তাজমুল হোসেন। তাঁর কথায় হুমায়ুন কবীর কোনও ফ্যাক্টরই নয়।

আর এই বাকবিতন্ডার মাঝেই অধীররঞ্জনকে নিয়ে সুর নরম জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যানের গলায়। অধীররঞ্জনকে হারিয়ে তাঁর গলায় অনুতাপের সুর। এ যেন বিলম্বিত বোধোদয় নয়। তিনি ইউসুফ পাঠানকে ফালতু লোক বলে কটাক্ষ করে বলেন পাঁচবারের সাংসদকে হারিয়ে ভুল করেছেন। হঠাত এই বিলম্বিত বোধদয়ের কারণ কী। এর থেকেও সোমবার তো তিনি আরও বড় কথা বলে ফেললেন। কলকাতায় সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে তিনি হেভিওয়েট প্রার্থী দেবেন। কিন্তু মুর্শিদাবাদে অধীররঞ্জন যেখানেই প্রার্থী হবেন সেখানে প্রার্থী দিলেও তা নিয়মরক্ষায়। অধীররঞ্জনকে জেতাতে তিনি সবকাজ করতে পারেন। তবে কি এভাবে গুরুদক্ষিণা দিতে চাইছেন হুমায়ুন কবীর।

অন্যদিকে সিপিএমের সঙ্গে জোট করতে আর ইচ্ছুক নন হুমায়ুন কবীর। কারণ আসন সমঝোতা নিয়ে তার পোষাবে না। তিনি ১৮২ আসনেই প্রার্থী দেবেন। তাই ২৫ শে ফেব্রুয়ারি জোটের ভবিষ্যত কী হবে তা অফিসিয়ালি জানিয়ে দেবেন হুমায়ুন কবীর।


অতএব জমে গেছে ভোটের বাংলা। কে কাকে যে ইন্ধন দিচ্ছে। কোথায় কী তলেতলে সমীকরণ তৈরি হচ্ছে তা ঈশ্বরই জানেন। ক্ষমতা দখলের লড়াইয়ে রাজনীতির অলিন্দে সমীকরণ বদলায়। কখনও ভরামঞ্চ থেকে অধীররঞ্জনকে হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন। আবার কখনও হঠাৎ করে অধীরপ্রীতি। যতই তিনি বলুন না দাদা-ভাইয়ের সম্পর্ক। কোনও সমঝোতা হয়নি। সত্যিই কি তাই। তাহলে এতদিন সিপিএমের সঙ্গে জোট করা নিয়ে এত লম্ফঝম্পের পর কেন হঠাৎ জোটে মন নেই হুমায়ুন কবীরের। তবে কি সবই জল্পনা। নাকি ভিতরে ভিতরে নতুন কোনও সমীকরণ তৈরি হচ্ছে যা খালি চোখে দেখা যাচ্ছে না। যাই হোক হুমায়ুন কবীর যে ভোট বাংলায় খেলা জমিয়ে দিয়েছেন তা ভালোভাবেই টের পাওয়া যাচ্ছে।