জেমিতেই বাজিমাত ভারতের!

 ICC Women’s World Cup 2025: ১৩৪ বলে অপরাজিত ১২৭ রানে জেমাইমা রডরিগেজের দুরন্ত ইনিংস। ১৪০ কোটি ভারতবাসীর হৃদয় ছুঁয়ে গেল।

রিয়া দাস, সাংবাদিক: কথায় আছে সময় তো কথা বলে। আর সেটাই প্রমাণ হল। বিরাট রানের পাহাড় ডিঙিয়ে আইসিসি বিশ্বকাপ ফাইনালের টিকিট হাতের মুঠোয় নিলেন ভারতের মেয়েরা। উই বিলিভ, উই ফাইট, নাউ উই রাইস। শেষবার ২০১৭ সালের বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে হেরেছিল অস্ট্রেলিয়া। ভারতের কাছেই। তারপর অস্ট্রেলিয়াকে হারতে হল ৩০ অক্টোবর। রানের পাহাড় গড়ে অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটাররা ভেবেছিল এই ম্যাচ তাঁদের হাতেই। তবে এখানে শাহরুখ খানের একটা ডাইলগ মনে পড়ে গেল পিকচার আভি বাকি হে মেরে দোস্ত। সাত বারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়ার হাতছাড়া হল ফাইনালের টিকিট। এই নিয়ে তৃতীয়বার বিশ্বকাপের ফাইনালে ভারতীয় মহিলা ক্রিকেটাররা। ম্যাচের শেষে মাঠেই কেঁদে ফেলেছিল গোটা ব্লু বিগ্রেড। ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে নিজের জীবনের সেরা ইনিংসটা খেলেছেন রকস্টার জেমি। তাঁকে নিয়ে উচ্ছাসে মেতে উঠেছেন ক্রিকেটপ্রেমীরা। জেমি খুবই হাসিখুশি ও প্রাণোচ্ছল। সেঞ্চুরি করেও সেলিব্রেট করেনি। ম্যাচ জেতানোর পর তাঁর চোখে কেবলই আনন্দাশ্রু। আসলে ওই একটা ইনিংসেই তো সব সমালোচকদের চুপ করিয়ে দিয়েছে। যা ভুলিয়ে দিয়েছে ভারতীয় বোলারদের ব্যর্থতা। ফিল্ডারদের একাধিক ক্যাচ ফেলার প্রবণতাকে। তাই বাড়তি উচ্ছাস জেমিকে করতে দেখা যায়নি। তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় ফ্যানেদের মুখে একটাই কথা জেমি, মাই গড। মুম্বইয়ে ডিওয়াই পাতিল স্টেডিয়ামে স্বপ্নপূরণ করলেন হরমনপ্রীত, জেমি, রিচারা।

আন্ডারডগ হিসাবে সেমিফাইনালে খেলতে নেমেছিল ভারত। টানা ১৫ ম্যাচ জিতে আসা অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে আত্মসমর্পণ করবে ভারতের মহিলা ব্লু বিগ্রেড। এমনটাই ভেবেছিল ক্রিকেটমহল। অস্ট্রিলিয়ার রানের দৌড় দেখে অনেকেই মনে করছিলেন উইমেন ইন ব্লুর এবার দি এন্ড। এমনকি ব্লু বিগ্রেডের সমর্থকও আশা করেনি খেলা এইভাবে ঘুরে যাবে। এমন দাপট দেখিয়ে অজিদের কুপোকাত করবে দেশের নারীশক্তি।

এখানেই আমেরিকান গায়িকা আরিয়ানা গ্রান্ডের একটা বিখ্যাত গানের কথা মনে পড়ে গেল গড ইস অ্যা ওমেন। অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ান হওয়ার স্বপ্ন দেখতে শুরু করে দিয়েছে ভারতীয় ক্রিকেটপ্রেমীরা। তবে এখন প্রশ্ন হচ্ছে, ফাইনাল জিতে ইতিহাস গড়তে পারবে টিম ইন্ডিয়া ? ২ নভেম্বর ফাইনাল। তাঁদের প্রতিপক্ষ দক্ষিণ আফ্রিকা। যাদের বিরুদ্ধে ফাইনালের ম্যাচটা একেবারে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হতে চলেছে। হরমনপ্রীত কৌর, স্মৃতি মান্ধানা, শেফালি বর্মা, রিচা ঘোষ সবাই দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছেন। বিশেষ করে স্মৃতি ও রিচার ব্যাটে যে আত্মবিশ্বাস দেখা যাচ্ছে তা ভারতের জন্য বড় আশা জগাচ্ছে। বোলিং বিভাগে রেনুকা সিং ও দীপ্তি শর্মা দারুণ ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন। স্পিন আক্রমণ ভারতের অন্যতম শক্তি। দক্ষিণ আফ্রিকা দলে লরা উলভার্ট ও মারিজানে ক্যাপের মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড়রা রয়েছেন, যারা একাই একটি ম্যাচ ঘুরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন। তবে ভারতের পক্ষে সুবিধা তাঁদের মাঠে দলগত মনোবল, ঐক্য আর অদম্য লড়াইয়ের ক্ষমতা। একটুও সময় নষ্ট করতে চাইছে না ভারত। তাই তো মহিলাদের এক দিনের বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল জিতেই ফাইনালের পরিকল্পনা শুরু করে দিয়েছে ব্লু বিগ্রেড। নবি মুম্বইয়ে মাঠে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে এমনটাই বললেন অধিনায়ক হরমনপ্রীত কৌর।

স্মৃতি মান্ধানার আক্রমণাত্মক ব্যাটিং, হরমনপ্রীতের অভিজ্ঞ নেতৃত্ব, আর রিচা ঘোষের ফিনিশিং। সব মিলিয়ে ভারতীয় দল এখন অপরাজেয় মুডে। স্পিনে দীপ্তি শর্মা নিয়ন্ত্রিত বোলিং দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটারদের ভোগাতে প্রস্তুত। এই দল জানে সুযোগ একবারই আসে, আর এবার সেটা হাতছাড়া করা যাবে না। লরা উলভার্ট, মারিজানে ক্যাপের মতো নাম থাকা মানে লড়াইটা অতো সহজ হবে না। তবে ভারতের স্পিন আক্রমণ যদি শুরুতেই ছন্দ পায়, তাহলে দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটিং ধসে পড়তে পারে। এই ফাইনালটা একটু আলাদা তো বটেই। ব্লু বিগ্রেডের কাছে এটা শুধু একটা ম্যাচ নয়। এটা ২০১৭ সালের সেই হার মুছে ফেলার মঞ্চ। ভারত যদি প্রথমে ব্যাট করে ২৫০-ওপরে রান তুলতে পারে তাহলে স্পিন ও মিডিয়াম পেস মিলিয়ে চাপ তৈরি করা সহজ হবে। অন্যদিকে দক্ষিণ আফ্রিকা আগেই উইকেট তুলে নিলে ভারতের নিম্নক্রমের ব্যাটিং দুর্বলতা সামনে আসতে পারে। এটা প্রতিটি মেয়ের লড়াইয়ের গল্প, যারা একদিন বলেছিল আমরাও পারি। এবার তাঁরা সত্যিই প্রমাণের এক ধাপ দূরে। সকলের চোখ এখন মেলবোর্নের সবুজ মাঠে। রবিবার হরমনপ্রীতরা কি পারবে ভারতীয় মহিলা ক্রিকেটে নতুন অধ্যায় লিখতে ? আশা তো রাখাই যায়, যদি সব ঠিকঠাক থাকে তাহলে হয়তো ব্লু বিগ্রেড ইতিহাস তৈরি করতে চলেছে। ভারতের হাতে উঠতে পারে প্রথম মহিলা বিশ্বকাপ ট্রফি। ঠিক যেভাবে ১৯৮৩ সালে ইতিহাস গড়েছিল কপিল দেবের ভারত।