দীপকে আটক হলেই আন্দোলনের দায়িত্ব অজিঙ্কের! কে এই ইঞ্জিনিয়ার?

অভিজিৎ দীপকে, আশুতোষ রাঙ্কা, সৌরভ দাস— ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র তিন শীর্ষ নেতাকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ। কিন্তু তাতে আন্দোলন থামেনি। বরং আগেভাগেই বিকল্প নেতৃত্বের ব্যবস্থা করে রেখেছিলেন দলের প্রতিষ্ঠাতা দীপকে। তাঁর অনুপস্থিতিতে শনিবার দিল্লির যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ কর্মসূচির নেতৃত্ব দিলেন অজিঙ্ক শিন্দে। কে এই অজিঙ্ক? কী ভাবেই বা রাজনীতির ময়দানে উত্থান তাঁর?

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক

সিজেপির তরফে সমাজমাধ্যমে পোস্ট করা একটি ভিডিয়োবার্তায় দীপকে আগেই জানিয়েছিলেন, তাঁকে আটক বা গ্রেফতার করা হলে আন্দোলনের দায়িত্ব সামলাবেন অজিঙ্ক। সেই মতোই তিন শীর্ষ নেতাকে আটক করার পরেও কর্মসূচি চালিয়ে যায় দল। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) বাতিল এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে এই বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল সিজেপি।

দলের জাতীয় সাংগঠনিক ইনচার্জ অজিঙ্কের রাজনৈতিক যাত্রা অবশ্য শুরু হয়েছিল অন্য পথে। মহারাষ্ট্রের আলিবৌগের বাসিন্দা অজিঙ্ক কম্পিউটার সায়েন্সে ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করার পর পুণের একটি তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থায় কাজ শুরু করেন। কয়েক বছর চাকরি করার পর সেই পেশা ছেড়ে রাজনীতিতে যোগ দেন তিনি।

প্রথমে অরবিন্দ কেজরীবালের আম আদমি পার্টির (আপ) সঙ্গে যুক্ত হন অজিঙ্ক। দলের কর্মী হিসাবে কাজ করার পাশাপাশি ২০১৬ সালের গোয়া বিধানসভা নির্বাচনেও আপের হয়ে প্রচার করেছিলেন। পরে মহারাষ্ট্রে দলের সাংগঠনিক কাজকর্মের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন তিনি।

সিজেপি গঠিত হওয়ার পর থেকেই দীপকে, সৌরভদের সঙ্গে কাজ শুরু করেন অজিঙ্ক। নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে জুন-জুলাই মাসে দিল্লিতে যে ককরোচ আন্দোলন হয়েছিল, সেখানেও সক্রিয় ভূমিকা ছিল তাঁর। পরে দলের কোর কমিটিতেও জায়গা পান তিনি।

শনিবার মহারাষ্ট্র থেকে দিল্লি পৌঁছনোর পর বিমানবন্দরেই আটক করা হয় দীপকে, সৌরভ ও রাঙ্কাকে। তাঁদের আলাদা আলাদা জায়গায় নিয়ে যায় পুলিশ। তিন শীর্ষ নেতার অনুপস্থিতিতে আন্দোলনের হাল ধরেন অজিঙ্ক। দীপকের আগাম পরিকল্পনায় এ ভাবেই নেতৃত্বের বিকল্প মুখ হয়ে উঠলেন সিজেপির এই ইঞ্জিনিয়ার।