‘‘বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ইন্ডিয়া জোটের ছাতার তলায় সবাইকে এক হতে হবে।’’

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : তৃণমূল কংগ্রেসের শহিদ দিবসের মঞ্চ থেকে মঙ্গলবার কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে নিশানা করে একের পর এক বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একই সঙ্গে দিল্লিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র আন্দোলনেও প্রয়োজনে যোগ দিতে পারেন বলে বার্তা দিলেন। বিরোধী শিবিরকে একজোট হওয়ার আহ্বান জানিয়ে মমতার দাবি, ‘‘বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ইন্ডিয়া জোটের ছাতার তলায় সবাইকে এক হতে হবে।’’
কলকাতায় তৃণমূলের ২১ জুলাইয়ের শহিদ দিবসের সমাবেশে বক্তৃতা দিতে গিয়ে মমতা বলেন, ‘‘শুরু থেকেই আমরা সিজেপির পাশে ছিলাম। প্রয়োজন হলে আমি নিজে দিল্লি গিয়ে আন্দোলনে যোগ দেব।’’
সোমবার দিল্লিতে ছাত্র-যুবদের বিক্ষোভ ঘিরে পুলিশের পদক্ষেপেরও তীব্র সমালোচনা করেন তৃণমূল নেত্রী। তাঁর অভিযোগ, প্রতিবাদ দমন করতে গিয়ে কেন্দ্র গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে উপেক্ষা করছে। মমতার কথায়, ‘‘মানুষ বিজেপির অত্যাচার বুঝতে পারছে। তারা স্বৈরতন্ত্রের সব সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছে। গণতন্ত্র বাঁচানোর আন্দোলন এখন আরও জোরদার হবে।’’
শহিদ দিবসের আগের রাতে সমাবেশের মঞ্চ ভাঙচুরের চেষ্টা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। মমতার দাবি, ‘‘প্রায় ৬০০ জন বাইকে করে এসে হামলার চেষ্টা করেছিল। আমি, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ দলের নেতারা রাতভর মঞ্চ পাহারা দিয়েছি। পুলিশকে বারবার জানিয়েও কোনও সাহায্য পাইনি।’’
রাজ্যের বিজেপি সরকারকেও কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন তৃণমূল নেত্রী। তাঁর অভিযোগ, বিরোধীদের ভয় দেখিয়ে রাজনীতি করা হচ্ছে এবং তৃণমূল কর্মীদের উপর একাধিক হামলা হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি ঘোষণা করেন, খুব শীঘ্রই রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় সফরে যাবেন এবং তাঁকে আটকানোর চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন প্রশাসনের উদ্দেশে।
তদন্তকারী সংস্থাকে ব্যবহার করে তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ নেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন মমতা। তাঁর দাবি, দলের নেতাদের বিরুদ্ধে ১৪ হাজারেরও বেশি মামলা দায়ের হয়েছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধেও ৪০০-র বেশি মামলা হয়েছে বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘‘মিথ্যা মামলায় কিছু হবে না।’’
ভোটার তালিকা সংশোধন, মহার্ঘ ভাতা (ডিএ), পে কমিশন এবং ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্পের প্রতিশ্রুতি পূরণ না করার অভিযোগও তোলেন তিনি। পাশাপাশি রামমন্দির, কোভিড-পর্বের তদন্ত এবং ধর্মীয় অনুষ্ঠানে বৈষম্যের প্রসঙ্গ টেনেও কেন্দ্রকে আক্রমণ করেন।
অন্য দিকে, দিল্লিতে সিজেপি-র বিক্ষোভ ঘিরে উত্তেজনা অব্যাহত। আন্দোলন-পরবর্তী ঘটনায় একাধিক এফআইআর দায়ের হয়েছে। আহতদের দেখতে হাসপাতালে যান কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা এবং কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নড্ডা। অনশনরত সোনম ওয়াংচুক এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। চিকিৎসকদের দাবি, তাঁর শারীরিক অবস্থা আপাতত স্থিতিশীল হলেও রক্তে শর্করা ও পটাশিয়ামের মাত্রা উদ্বেগজনকভাবে কম রয়েছে।