যুবসাথীর ক্যাম্পে লাইন বেড়েই চলেছে। সেই লাইনে টোটোচালক যেমন রয়েছেন, তেমনই রয়েছেন এমএবিএ পাশ যুবক যুবতীরা।

স্বাগতা চন্দ্র সাহা, সাংবাদিক : তৃণমূল সরকারের বেকার ভাতাকে অনেকেই বলছেন মাস্ট্রারস্ট্রোক। আবার বিরোধীরা সমালোচনার সুরে বলছেন, রাজ্যে এত বেকার এতো তৃণমূল সরকারের ব্যর্থতা। কিন্তু এই সব তর্ক বিতর্ক পেরিয়ে ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুবসাথীর ক্যাম্পে লাইন দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর। সেই লাইনে যেমন রয়েছে টোটো চালক তেমনই এমএ বিএ পাশ করা যুবক যুবতীরা আবেদন করার জন্য দীর্ঘ অপেক্ষারত।

যুবসাথী প্রকল্পের ক্যাম্প শুরু হওয়ার প্রথম দুই দিনেই রেকর্ড ভিড়। সূত্রের দাবি প্রথম দিনে যুবসাথী প্রকল্পে মোট আবেদনকারীর সংখ্যা ছিল ৬ লক্ষ ৫৫ হাজার ৮৯৩ জন। দ্বিতীয় দিনে তা এক লাফে বেড়ে ৮ লক্ষ ৮০ হাজার ৫৫৭ জন। লাইন সামাল দিতে তাই এখন অনলাইনে আবেদন করার ব্যবস্থা করে দিয়েছে রাজ্য সরকার। https://apas.wb.gov.in – এই ওয়েবসাইটে গিয়ে যুবসাথীর জন্য আবেদন করতে পারবেন। এবার আসি মূল বিষয়ে প্রথমেই বলব কারা আবেদন করতে পারবেন না এই প্রকল্পে।

কারা সুবিধা পাবেন না ?
১. সরকারি চাকুরিজীবী বা স্থায়ী কর্মরত ব্যক্তি
যিনি সরকারি বা কেন্দ্র সরকারের চাকরিতে নিযুক্ত
২. নিয়মিত বেতনভোগী কর্মী। বেসরকারি সংস্থায় স্থায়ী চাকরিতে যুক্ত থাকলে এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না।
৩. ২১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যেই মিলবে ভাতা। বয়স কম বা বেশি হলে ভাতা পাবেন না
৪.ভুল বা অসম্পূর্ণ নথি জমা দিলে , যেমন ভোটার আধার কার্ড, শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রমাণ বা ব্যাঙ্ক ডিটেলস ভুল হলে টাকা আটকে যেতে পারে
৫ সরকারি ভাতা প্রাপক যেমন কৃষকভাতা, লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পের টাকা পেলে এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না
৬. তবে কেউ রাজ্য সরকারের স্কলারশিপ পেলেও এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন
এবার আসি যারা যুবসাথীতে আবেদন করবেন তাঁরা আবেদনপত্রে কী কী তথ্য দেবেন।

কী কী তথ্য লাগবে ?
মাধ্যমিক পাশের সার্টিফিকেট বা অ্যাডমিট কার্ড
ব্যাঙ্কের পাসবুক
আধার কার্ড
ভোটার কার্ড বা স্থানীয় বাসিন্দার সার্টিফিকেট
এক কপি সম্প্রতি তোলা পাসপোর্ট সাইজ ছবি
এসসি, এসটি, ওবিসি সার্টিফিকেট
এমপ্লয়মেন্ট ব্যাঙ্ক রেজিস্ট্রেশন কার্ড
যুবসাথী প্রকল্পের পাশাপাশি যুবসাথীর ক্যাম্পে লক্ষ্মীর ভান্ডার, কৃষকভাতারও আবেদন করা যাচ্ছে। ভোট বাংলায় রাজ্য সরকারের এই সমস্ত প্রকল্প নিয়ে কম আলোচনা হচ্ছে না। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন- এতজন যত বেকার ভাতার লাইনে দাঁড়ায় তাহলে কর্মসংস্থান হয়েছে কাদের ? যদিও তাতে কান দিতে রাজি নয় রাজ্যের শাসক দল। তাঁদের দাবি, জন্ম থেকে মৃত্যু রাজ্য সরকার যে জনগণের পাশে রয়েছে তার প্রমাণ এই প্রকল্পগুলি।